advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী
সংকট না কাটা পর্যন্ত সরকার পাশে থাকবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৯ মে ২০২০ ০০:১১
advertisement

ঐক্যবদ্ধভাবে সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সংকট যত গভীরই হোক জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তা উতরানো কোনো কঠিন কাজ নয়। এই সত্য আপনারা আবারও প্রমাণ করেছেন। আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থনে আমরা করোনা ভাইরাস মহামারীর আড়াই মাস অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সমর্থ হয়েছি। যতদিন না এই সংকট কাটবে, ততদিন আমি এবং আমার সরকার আপনাদের পাশে থাকব। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদের আগের দিন গত রবিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যে এবার ঈদ উদযাপনের কয়েক দিন আগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চালিয়ে যায় ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এ প্রসঙ্গ টেনে ‘কথায় আছে, বিপদ কখনো একা আসে না’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে যেন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে জন্য বিভিন্ন দ্বীপ, চরাঞ্চল এবং সমুদ্র উপকূলে বসবাসকারী ২৪ লাখেরও বেশি মানুষকে এবং প্রায় ৬ লাখ গবাদিপশু আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করি। সর্বাত্মক প্রস্তুতি সত্ত্বেও গাছ ও দেয়ালচাপায় বেশ কয়েকজন মানুষ মারা গেছেন এবং বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আমরা ইতোমধ্যেই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শুরু করেছি এবং ঘরবাড়ি মেরামতের

কাজ শুরু হয়েছে। ঝড়-ঝঞ্ঝা-মহামারী আসবে। সেগুলো মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা চিকিৎসা সক্ষমতা অনেক গুণ বৃদ্ধি করেছি। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হাসপাতালকেও আমরা করোনা ভাইরাস চিকিৎসায় সম্পৃক্ত করেছি।

জরুরি ভিত্তিতে দুই হাজার ডাক্তার এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। হাসপাতালগুলোয় সব ধরনের রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের এই মহামারী সহসা দূর হবে না। কিন্তু জীবন তো থেমে থাকবে না। যতদিন না কোনো প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার হচ্ছে, ততদিন করোনা ভাইরাসকে সঙ্গী করেই হয়তো আমাদের বাঁচতে হবে। এই পরিস্থিতিতে জীবন-জীবিকার স্বার্থে অর্থনৈতিক কর্মকা- চালু করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের প্রায় সব দেশই ইতোমধ্যে লকডাউন শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ অনির্দিষ্টকালের জন্য মানুষের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে তো নয়ই। তবে এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দেন তিনি।

শহীদ পরিবারের জন্য ঈদ উপহার

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য উপহার হিসেবে ফুল, ফল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত সোমবার ঈদের দিন সকালে ঢাকার মোহাম্মদপুরে মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসনকেন্দ্রে (মুক্তিযাদ্ধা টাওয়ার-১) যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের কাছে এই উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু, প্রটোকল অফিসার-২ এসএম খুরশীদ-উল-আলম এবং সহকারী প্রেস সচিব এবিএম সরওয়ার-ই আলম সরকার এসব উপহার সামগ্রী সেখানে পৌঁছে দেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয় এবং প্রতিটি জাতীয় দিবস ও উৎসবের দিনগুলোয় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান।

advertisement