advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্ত : ২০২৯
প্রতিদিনই রেকর্ডের দিন করোনায়

দেশে প্রাণহানি ৫০০ ছাড়াল

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৯ মে ২০২০ ০০:১১
advertisement

দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজারের বেশি শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে করোনার রোগীর সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়াল। আর মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫৯ জনে। সামনে দিনগুলোয় রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনা সংক্রমণের যে চিত্র দেখছি এটি প্রকৃত চিত্র নয়। লকডাউন তুলে দেওয়া, অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায় আগামী ১৫ দিন পর বোঝা যাবে সংক্রমণের অবস্থা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ৮ মার্চ প্রথম শনাক্তের পর থেকে ২-৩ জন করে করোনা আক্রান্ত হচ্ছিল। এপ্রিল মাসে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে রোগী সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে মে মাসের শুরু থেকে সবচেয়ে রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গত ১ মে ২৪ ঘণ্টায় যেখানে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৫৭১ জন এবং মারা যায় ২ জন। মাসের শেষ দিকে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ২৯ জন এবং মারা গেছেন ১৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, করোনা সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এখন শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে, এর মধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছে দোকানপাট, অফিস-আদালত, কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এর একটি প্রভাব পড়বে করোনা সংক্রমণে। তিনি আরও বলেন, করোনা সংক্রমণে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান আমরা দেখছি। এটি পিক কিনা এখনো বলা যাবে না। পিকটা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। করোনার সংক্রমণ পিকে অবস্থান করার পর কম থাকবে। আমরা দেখতে চাই কবে থেকে রোগী কমতে শুরু করছে। রোগী কমানোর জন্য বেশকিছু ইন্টারভেশন লাগে। যেমন লকডাউন, কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন টেস্টিং। এসব কতটুকু ভালোভাবে চলবে তার ওপর নির্ভর করবে আক্রান্ত কমার বিষয়। যেহেতু আমাদের বাড়ছে এ সময় আবার প্রতিষ্ঠান খুলে দিল তা হলে তার প্রভাবটা কী পড়বে তা আমাদের বুঝতে হবে আগামী ১৫ দিন কী ঘটছে।

রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্যমতে, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২ লাখ ৭৫ হাজার ৭৬৬টি পরীক্ষার মাধ্যমে ৪০ হাজার ৩২১ জন করোনা রোগী শনাক্ত।

এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৫৫৯ জন। এখন প্রতিদিন ভাঙছে আগের শনাক্ত রোগীর রেকর্ড। গতকাল দেশের ৬৪ জেলায় করোনার রোগী শনাক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে যাদের পরীক্ষা করা হয়েছে তাদের মধ্যে ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ রোগী পাওয়া গেছে। যাদের শনাক্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে পুরুষ ৬৪ শতাংশ ও নারী ৩২ শতাংশ। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৭৩ ও নারী ২৭ শতাংশ।

আইইডিসিআরের করোনার সংক্রমণ অঞ্চলভিত্তিক তথ্য বলছে, প্রথমে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মাদারীপুরে হয়ে থাকলে এটি ধীরে ধীরে বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানের দেশের ৬৪ জেলায় করোনার রোগী পাওয়া যাচ্ছে। করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে ঢাকা বিভাগে। আক্রান্তদের মধ্যে রাজধানীতে ৫৪ দশমিক ৩৪, ঢাকা বিভাগের ১৭ দশমিক ৯৬, চট্টগ্রামে ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ, সিলেটে ২ দশমিক ১৫, রংপুরে ৩ দশমিক ১, খুলনায় ১ দশমিক ৮২, ময়মনসিংহে ২ দশমিক ৭৭, বরিশালে শূন্য দশমিক ৭৬ এবং রাজশাহী বিভাগে ২ দশমিক ৩২ শতাংশ রোগী রয়েছে।

আইইডিসিআরের বয়সভিত্তিক সংক্রমণের তথ্য বলছে, করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে যুবকদের। আক্রান্তদের মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী ৩, ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ৮, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২৬, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ২৪, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১৮, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১৩ ও ৬০ বছরের বেশি বয়সী ৮ শতাংশ।

আইইডিসিআরের মৃত্যুর বিশ্লেষণভিত্তিক তথ্য বলছে, দেশে ৫৫৯ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে রাজধানীতে ১৯৯, ঢাকা বিভাগে ১৫৯, চট্টগ্রামে ১৩৬, সিলেটে ১৫, রংপুরে ১২, খুলনায় ৮, ময়মনসিংহে ১৫, বরিশালে ১০ এবং রাজশাহীতে ৫ রোগী রয়েছে।

মৃত্যুর বয়সভিত্তিক তথ্য বলছে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৬০ বছরের বেশি বয়সী ৪২ শতাংশ। ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ২৭ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১৯ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ৭ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৩ শতাংশ এবং ১০ বছরের নিচের বয়সী ২ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুস্থতার তথ্য বলছে, দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৪২৫ জন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশের কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয় ৯ হাজার ২৬৭টি এবং পরীক্ষা করা হয়েছে ৯ হাজার ৩১০টি এসব নমুনায় করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে ২ হাজার ২৯ জনের। দেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৭৬৬টি। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪০ হাজার ৩২১ জনের। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আরও ১৫ জনের। যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও নারী ৪ জন।

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ২৪৮ জনকে এবং ছাড় পেয়েছেন ১৩৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে ৪ হাজার ৯৮৪ জন। ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ১ জনকে। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ১০৫ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৪০৪ জন এবং এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ৮১২ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৮ হাজার ২৯৩ জন।

advertisement