advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঘাটে ঘাটে মানুষ আর মানুষ

আমাদের সময় ডেস্ক
২৯ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৯ মে ২০২০ ০০:১১
advertisement

সরকার সাধারণ ছুটি আর বাড়াবে না বলে ঘোষণা দেওয়ায় লোকজন এখন কর্মস্থলমুখী হচ্ছেন। তাই ঢাকামুখী যাত্রীর ঢল নেমেছে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে। তবে এখনো লঞ্চ, স্পিডবোট চলাচল না করায় ফেরিতে গাদাগাদি করেই পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন তারা। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কা। আবার সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকায় সবাই ছুটছেন মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, থ্রি-হুইলার কিংবা ইজিবাইকে চড়েই। আমাদের শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি সম্পা রায়

জানান, হাজারো বিপত্তি পেছনে ফেলেই ঢাকায় ফিরছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ছোট গাড়িতে ভেঙে ভেঙে ছুটছেন তারা। এতে চরম ঝুঁকির সঙ্গে খরচও হচ্ছে চার থেকে পাঁচগুণ টাকা। ঘাটে এসে পড়ছেন আরও বিপত্তিতে। লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় গাদাগাদি করে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন ফেরিতে করেই।

গাজীপুরের গার্মেন্টসে কাজ করেন ভাইবোন জিয়াসমিন ও সাইফুল। অনেক টাকা খরচ করে ঈদে গ্রামের বাড়ি বরিশালে গিয়েছিলেন কোনো রকমে। ফেরার পথেও গণপরিবহন বন্ধ। তাই বরিশাল থেকে একেকজন হাজার টাকা ভাড়ায় কাঁঠালবাড়ী ঘাটে আসেন। তবে বাড়তি ভাড়া জীবনের ঝুঁকি কোনো কিছুই দমাতে পারেনি তাদের। কারণ চাকরি বাঁচাতে হলে বৃহস্পতিবারই পৌঁছতে হবে কর্মস্থলে। শুধু তারাই নন, ঈদের পরদিন থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ছুটছেন কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া রুট হয়ে। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দিয়েও তাদের দমাতে পারেনি। তাই ঘাট এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়। কিন্তু তাতেও লাভের লাভ কিছুই হয়নি।

গার্মেন্টসকর্মী জিয়াসমিন বলেন, ‘কী করবো বলেন? কাজে তো যেতেই হবে। না হলে খাব কী? আর কাজে না গেলে চাকরিও থাকবে না।’ পটুয়াখালী থেকে ঢাকাগামী রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার স্ত্রী অসুস্থ, তাকে ডাক্তার দেখাতে ফেরিতে চড়েই ঢাকা যাচ্ছি। কিন্তু ফেরিতে এত যাত্রী যে ঠিকমতো দাঁড়ানোও মুশকিল। আর শারীরিক দূরত্ব মানার তো কোনো লক্ষণই নেই।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কাঁঠালবাড়ী ঘাটের সহকারী ম্যানেজার ভজন কুমার সাহা বলেন, ‘ঈদ শেষ হওয়ার পর থেকেই এ রুটে কর্মস্থলমুখো যাত্রী চাপ বেড়েছে। আমাদের সব ফেরি সচল রয়েছে। তবে লঞ্চ ও স্পিডবোট যদি পাশাপাশি চালু থাকত তা হলে ফেরিতে এত চাপ থাকত না। সামাজিক দূরত্বও অনেকটা মানা যেত।’

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এ রুটে কর্মস্থলমুখো যাত্রী চাপ অনেক বেড়েছে। আমরা ঘাটে অবস্থান নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে আগে গাড়ি ফেরিতে লোড দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। এর পরই শারীরিক দূরত্ব বজায় যাতে থাকে সেভাবে যাত্রী তোলা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো।’

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি নাদিম হোসাইন জানান, ওপার কাঁঠালবাড়ী থেকে যখনই কোনো ফেরি আসছে, তাতে কেবলই মানুষ। তাতে দু-একটি গাড়ি থাকলেও মানুষের ভিড়ে দূর থেকে দেখার উপায় নেই। আবার ঘাটে আসার পর নামার জন্য চলে এক ধরনের যুদ্ধ। কারণ দেরি হলেই মিলবে না কোনো গাড়ি। মাইক্রোবাস, পিকআপভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলÑ যে যা পাচ্ছেন তাতেই উঠছেন হুড়মুড়িয়ে। সে ক্ষেত্রে গুণতে হচ্ছে কয়েকগুণ ভাড়াও। এর মধ্যে আবার ট্রাফিক পুলিশের বাগড়া; ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া চলাচলে যে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। তাই মাঝেমধ্যেই আটকে দেওয়া হয় ভাড়ায় চলা গাড়ি।

মাওয়া নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবীর জানান, ঈদ শেষে ঢাকাগামী শত শত যাত্রী ফেরিতে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ছুটে আসেন শিমুলিয়া ঘাটে। ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের চাপ লক্ষ করা গেছে। পরে শিমুলিয়া ঘাট থেকে ছোট ছোট যানবাহনে চড়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছুটে যাচ্ছেন তারা। মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের টিআই মো. হিলাল উদ্দিন জানান, যানবাহনের অভাবে এসব যাত্রী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বেশ কিছু ভাড়ায় চালিত মাইক্রো ও প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। এগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সহ-মহাব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম জানান, শিমুলিয়া ঘাটে দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের কোনো চাপ নেই। তবে কর্মস্থলমুখী যাত্রীরা ছুটে আসছেন ঘাটে। গতকাল ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত যাত্রীদের প্রচুর চাপ ছিল।

এদিকে মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আশরাফুল আলাম লিটন জানান, ঈদ শেষে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষ। ফেরি পার হয়ে যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়ায় প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলে ঢাকায় ফিরছেন। প্রতিটি ফেরিতে পারাপার হচ্ছেন দেড় থেকে তিন শতাধিক যাত্রী। তবে পদ্মার ভাঙনে পাটুরিয়া ঘাট এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ফেরিতে ওঠা-নামা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। যানবাহন উঠতে-নামতেও সময় লাগছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।

বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়া কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান জানান, পদ্মায় পানি বেড়ে যাওয়ায় ফেরিতে যানবাহন ওঠা-নামায় কিছুটা বেশি সময় লাগছে। তবে ভাঙন ঠেকাতে বিআইডব্লিউটিএ জিও ব্যাগ ফেলছে। তিনি আরও জানান, বহরে মোট ১৭টি ফেরি থাকলেও ছোট-বড় আটটি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। চাপ বাড়লে বাকিগুলো ব্যবহার করা হবে।

advertisement