advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সীমিত পরিসরে অফিস খুলছে রবিবার

ইউসুফ আরেফিন
২৯ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৯ মে ২০২০ ০০:১১
advertisement

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা সাধারণ ছুটি শেষ হচ্ছে আগামীকাল শনিবার। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধির মধ্যেই নতুন করে ছুটি না বাড়িয়ে আগামী রবিবার থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে অফিস-আদালত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

১৫ জুন পর্যন্ত অফিস, গণপরিবহনসহ অর্থনৈতিক কর্মকা- কীভাবে চলবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে তা জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার আদেশ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকেও এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

গত বুধবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ছুটি ৩০ মে শেষ হচ্ছে। ছুটি আর বাড়ছে না। কিন্তু কিছু বিধিনিষেধসহ নাগরিক জীবন সুরক্ষিত রেখে আমরা সীমিত আকারে অর্থনৈতিক কর্মকা- চালু করতে যাচ্ছি। তবে সব কিছু একেবারে খুলে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা খুলতে যাচ্ছি, তবে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। বয়স্ক, অসুস্থ ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা আপাতত অফিসে আসবেন না।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম দফায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এর পর

আরও পাঁচ দফা ছুটি বাড়ানো হয়। এতে স্থবির হয়ে পড়ে দেশের অর্থনীতি। এমন পরিস্থিতির মধ্যে মানুষের জীবিকার কথা মাথায় রেখে সরকারি-বেসরকারি সব অফিসসহ সার্বিক কার্যাবলি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এ প্রসঙ্গে বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, সরকার সব খুলে দিয়ে জাতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করল। এর মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার ওপর যে চাপ পড়বে তা সামলানোর সামর্থ্য বাংলাদেশ সরকারের নেই। সরকার বারবার জীবিকার দোহাই দিয়ে জনজীবনকে ঝুঁকির দিকেই নিয়ে যাচ্ছে। মানুষ লকডাউন মানছে নাÑ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মানুষকে আইন মানানোর দায়িত্ব সরকারের। দুটো উপায়ে সরকার জনগণকে আইন মানতে বাধ্য করতে পারে। তা হলো মানুষকে ঘরে থাকতে উদ্বুদ্ধ করা এবং দ্বিতীয়ত আইন প্রয়োগ করে বাধ্য করা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই ছুটি প্রত্যাহারের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে আক্রান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হলো। যেসব শর্তসাপেক্ষে অফিস খুলছে

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিস আদেশে বলা হয়, ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত দেশের সার্বিক কার্যাবলি ও জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। প্রতিটি জেলার প্রবেশ ও বহির্গমন পথে চেকপোস্টের ব্যবস্থা থাকবে। রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অতীব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (প্রয়োজনীয় ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, ওষুধ ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) বাড়ির বাইরে আসা যাবে না। বাইরে চলাচলের সময় মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জনসাধারণ ও সব কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা ১৩ দফা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

সব সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। ঝুঁঁকিপূর্ণ ব্যক্তি, অসুস্থ এবং সন্তানসম্ভবা নারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এই নিষেধাজ্ঞাকালে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বিধিনিষেধ নিশ্চিত করে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল করতে পারবে।

হাটবাজার, দোকানপাটে ক্রয়-বিক্রয়কালে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। শপিংমলের প্রবেশমুখে স্যানিটাইজার, হাত ধোয়া ও আগত যানবাহন জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। হাটবাজার, দোকানপাট এবং শপিংমলগুলো বিকাল ৪টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। জরুরি পরিসেবা যেমন- ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরের (স্থল বন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। সড়ক ও নৌপথে সব প্রকার পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকবে। কৃষিপণ্য, সার, বীজ, কীটনাশক, খাদ্য, শিল্পপণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, স্বাস্থ্যকর্মী, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং গণমাধ্যম (ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া) ও ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। ওষুধশিল্প, কৃষি এবং উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো, উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্পসহ সব কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে চালু রাখতে পারবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রণীত ‘বিভিন্ন শিল্পকারখানায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে নির্দেশনা’ প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। নিষেধাজ্ঞাকালীন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না। সব ধরনের সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত ও অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনা অনুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অফিস খোলার পর সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরে অফিসে যেতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ১৩ দফা নির্দেশনা

দপ্তরের বাইরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ‘জীবাণুমুক্তকরণ টানেল’ স্থাপনের ব্যবস্থা নিতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। অফিস চালুর আগে অবশ্যই প্রতিটি অফিস কক্ষ, আঙিনা, রাস্তাঘাট জীবাণুমুক্ত করতে হবে। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়/বিভাগের প্রবেশপথে থার্মাল স্ক্যানার, থার্মোমিটার দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে অফিসে প্রবেশ করাতে হবে। অফিস পরিবহনগুলো অবশ্যই জীবাণুনাশক দিয়ে শতভাগ জীবাণুমুক্ত করতে হবে। যানবাহনে বসার সময় ন্যূনতম তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং সবাইকে মাস্ক (সার্জিক্যাল বা তিন স্তরবিশিষ্ট কাপড়ের মাস্ক, যা নাক ও মুখ ভালোভাবে ঢেকে রাখবে) ব্যবহার করতে হবে। সার্জিক্যাল মাস্ক শুধু একবার ব্যবহার করা যাবে। কাপড়ের মাস্ক সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে আবার ব্যবহার করা যাবে।

যাত্রার আগে এবং যাত্রাকালে পথে বারবার হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাওয়ার সময় ন্যূনতম তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। অফিসে কাজ করার সময় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

কর্মস্থলে সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং ঘন ঘন সাবানপানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। কর্মকর্তা/কর্মচারীদের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের সাধারণ নির্দেশনাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি নিয়মিত মনে করিয়ে দিতে হবে এবং তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ভিজিলেন্স টিমের মাধ্যমে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। দৃশ্যমান একাধিক স্থানে ছবিসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার নির্দেশনা ঝুলিয়ে রাখতে হবে। কেউ অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক তাকে আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

advertisement