advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পিসিআর টেস্টেও ডা. জাফরুল্লাহর করোনা পজিটিভ

নিয়েছেন প্লাজমা থেরাপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৯ মে ২০২০ ০০:১১
advertisement

নিজেদের উদ্ভাবিত কিটের পর পিসিআর টেস্টেও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত রবিবার গণস্বাস্থ্যের জিআর র‌্যাপিড টেস্ট কিটের পরীক্ষায় তার দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এর র বুধবার নমুনা সংগ্রহ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার এতেও ফল পজিটিভ আসে। এদিকে প্রথম দফায় করোনা শনাক্ত হওয়ার পর নিজের বাসায় আইসোলেশনে থাকা জাফরুল্লাহ মঙ্গলবার প্লাজমা থেরাপি নেন। করোনা সংক্রমণ হলেও তিনি বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। জাফরুল্লাহ চৌধুরী

আমাদের সময়কে বলেন, গত ২৪ মে সন্ধ্যায় জ্বর অনুভব করার পর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে পরীক্ষা করাই। আমাদের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত অ্যান্টিজেন কিট দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে করোনা শনাক্ত হয়। আমি ভালো আছি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমি ২০০ মিলি প্লাজমা (রক্তরস) নিয়েছি।

এদিকে ডা. জাফরুল্লাহর করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই মুক্তিযোদ্ধার সুস্থতা কামনা করেছেন। তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জাফরুল্লাহর চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি কেবিনও বুকিংয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। একই দিনে তার জন্য ফল পাঠান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও তার খোঁজ নিয়েছেন। এ জন্য জাফরুল্লাহ সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে খোঁজখবর নিয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আমার জন্য প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা করতে বলেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও খোঁজ নিয়েছেন।

হাসপাতালে না গিয়ে বাসায় থাকা প্রসঙ্গে জাফরুল্লাহ বলেন, কখন হাসপাতালে যেতে হবে আমি তা জানি। আমার এখনই যাওয়ার দরকার নেই। তাই এখন যাব না। আসলে এই রোগের চিকিৎসা হলো আমাকে বাসায় থাকতে হবে। আমাকে হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করতে হবে, আর এটা (করোনার চিকিৎসা গ্রহণ) বাসায় থেকে করতে হবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্র জানায়, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। নিয়মিত চিকিৎসার ধারাবাহিকতায় ডায়ালাইসিস নিয়েছেন এবং ডায়ালাইসিসের পর করোনা চিকিৎসার জন্য প্লাজমা থেরাপি নিয়েছেন। কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত জাফরুল্লাহ ছয় বছর ধরে সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস নেন। তার জন্য স্বেচ্ছায় প্লাজমা দাতা সংগ্রহ করে দেয় সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদ, সন্ধানী গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ ইউনিট এবং ট্রান্সফিউসন মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

র‌্যাপিড কিটে পরীক্ষা স্থগিত

গত মঙ্গলবার থেকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে নিজেদের উদ্ভাবিত কিট দিয়ে করোনা পরীক্ষার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসকে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর গত সোমবার চিঠি দিয়ে এই পরীক্ষা শুরু না করার অনুরোধ জানায়। এর পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এ সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত করে। অধিদপ্তর চিঠিতে বলেছে, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) গণস্বাস্থ্যের ওই কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা চলমান রয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর কিটের রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, বিএসএমএমইউকে আমরা ৪০০ কিট দিয়েছি। এখন পর্যন্ত তারা ৩০০ কিট পরীক্ষা করেছে বলে জানতে পেরেছি। আমরা এখন সরকারকে চিঠি দিয়ে জানাব ৩০০ কিট পরীক্ষার ভিত্তিতেই আমাদের ফল জানিয়ে দেওয়ার জন্য। পরীক্ষার ফল সম্পর্কে কিছু জানতে পেরেছেন কিনা জানতে চাইলে জাফরুল্লাহ বলেন, ধারণা করছি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষায় আমরা যে ফল পেয়েছি, বিএসএমএমইউও একই ফল পেয়েছে।

তিনি বলেন, যেটা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত আমাকে হাইকোর্টের কাছেই যেতে হবে মনে হচ্ছে। আরও কিছু দিন অপেক্ষা করব, তার পর সিদ্ধান্ত নেব। দেখি কী হয়।

গত ১৭ মার্চ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তের পরীক্ষার জন্য কিট উৎপাদনের কথা জানায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষক ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাঈদ জমিরউদ্দিন, ড. ফিরোজ আহমেদ এই কিট তৈরি করেন। ২৫ এপ্রিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের কাছে করোনা টেস্টের কিট হস্তান্তর করা হয়। বেশ কিছু দিন কিট পরীক্ষা নিয়ে বিতর্কের পর ৩০ এপ্রিল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর বিএসএমএমইউ বা আইসিডিডিআর,বিতে ওই কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য অনুমিত দেয়। এর পর ২ মে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউর ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শাহীনা তাবাসসুমকে প্রধান করে ছয় সদস্যের কমিটি করা হয়।

advertisement