advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সামনে ঠিক কী হবে, ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে

ডা. পলাশ বসু
২৯ মে ২০২০ ২১:৫৯ | আপডেট: ২৯ মে ২০২০ ২১:৫৯
advertisement

বিশ্ব এখন কোন পরিস্থিতিতে আছে এটা না বললেও বুঝে নিতে কষ্ট হয় না মোটেও। দেশে দেশে করোনাভাইরাসের ভয়াল বিস্তার ঘটছে বা ঘটেছে। অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন সবকিছুই আজ করোনাভারে জর্জরিত। আর আমাদের স্বাদের 'গ্লোবাল ভিলেজ'  হয়েছে পারস্পারিক বিচ্ছিন্নতায় আক্রান্ত।

আমাদের দেশও এই পরিস্থিতির বাইরে  নয়। ৮ মার্চ আমাদের এখানে প্রথম করোনা রোগী ধরা পড়ে। আর ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় সাধারণ ছুটি। উদ্দেশ্য  মারাত্মক ছোঁয়াচে এ রোগের বিস্তার কমানো। সেটা এতদিন মনে হয় বেশ নিয়ন্ত্রণেই ছিল। শহরকেন্দ্রিক করোনার উপস্থিতি থাকলেও গ্রামগুলো এতদিন অনেকটাই নিরাপদ ছিল।

তবে রমজান শুরুর কয়েক দিন পর থেকে দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করে। করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আবার শহরের পাশাপাশি গ্রামগুলোও এখন অনিরাপদ হয়ে গেল। এর কারণ কী? উত্তর হচ্ছে, ঈদ  উপলক্ষ্যে মানুষকে শহর ছেড়ে গ্রামে যেতে না দেওয়ার ঘোষণা বাস্তবায়ন না করতে পারার ফলেই এটা সম্ভব হলো। আর তার ফলে এখন প্রতিদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সীমিত টেস্টের মধ্যেই যে চিত্র আমরা দেখছি, তা খুবই বিপদজনক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সামনে ঠিক কী হবে, এ  অবস্থা চলমান থাকলে তা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।

এমন কষ্টের পেছনে শুধু আক্রান্তের হার নয়; জড়িয়ে আছে টেস্টের  অপ্রতুলতা, চিকিৎসা ব্যবস্থায় সমন্বয়হীনতা এবং যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অপরিপক্কতার এবং পরিকল্পনাহীনতার মতো বিষয়। ছোট ছোট কিছু উদাহরণ দিলেই বিষয়গুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে৷

শুরুতেই যদি বলি,  করোনা আক্রান্ত মানুষ এবং পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতার কথা। দেখা যাবে সেটা  খুব সুখকর নয়। কারণ চাইলেও তারা একদিকে টেস্ট করাতে হিমশিম খেয়েছেন। অন্যদিকে যারা টেস্ট করাতে পারেননি তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে পড়েছেন চরম বিপদে। আবার টেস্ট করানোর পরে টেস্টের রিপোর্ট সাথে না থাকলে কোভিড, নন কোভিড, সন্দেহভাজন কোভিডের দোলাচলে ভর্তিও হতে পারেননি অনেকেই। এর  ফলে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত  প্রানহাণি হয়েছে।

আগেই বলেছি, এবারের রমজানে দোকানপাট খোলা, তারও আগে গার্মেন্টস ওপেন করা (কর্মীদের ঢাকা যাওয়া আসা নিয়ে যা হলো!) এবং সবশেষে  ঈদের আগে শহর থেকে মানুষের গ্রামে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ায় পুরো দেশে করোনা ছড়ানোর সহজ সুযোগ সৃষ্টি হলো। ছুটি শেষে এ মানুষগুলো আবার ঢাকাসহ সারা দেশে তাদের কর্মস্থলে ফেরতে শুরু করবে বা করেছে। ফলে 'সীমিত' নয় বরং 'ব্যাপকতর'  করোনার ঢেউ শুরু হবে দেশব্যাপী বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

আর ঠিক  করোনার এমন ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতির ভেতরেই অফিস আদালত, দোকানপাট ইত্যাদি খোলার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন বলছে, এমন হলে লকডাউন আরও কঠোর করতে হবে। আমাদের জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটিও এ নিয়ে সরকারকে তাদের ভিন্নমত জানিয়েছে। বলেছে, এমন সময়ে এ জাতীয় সিদ্ধান্ত না নিতে। কারণ তাতে আক্রান্তের হার বাড়বে বহুগুণ। হাসপাতালগুলো এ চাপ সামাল দিতে পারবে না।

বাস্তবে হাসপাতালগুলোর অবস্থা এখনই 'ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই,  ছোট সে তরী' এর মতো অবস্থা হয়ে গেছে। সামনে না জানি সব কিছু খুলে দিলে পরিস্থিতি কি হয়!এসব ভাবলেই শরীর ঘরে থাকলেও মন  নিমিষেই উদ্বাস্তু হয়ে যায়। আর সেই সাথে পাল্লা দিয়ে চিন্তাগুলোও বিবর্ণ হতে শুরু করে।

ডা. পলাশ বসু : চিকিৎসক ও শিক্ষক

advertisement