advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের পরিণতি

অনলাইন ডেস্ক
২৯ মে ২০২০ ২৩:৫৮ | আপডেট: ৩০ মে ২০২০ ০০:২৫
advertisement

লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে। এ ঘটনায় ১১ জন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন, তাদের পরিচয়ও পাওয়া গেছে।  আর একজন পালিয়ে বেঁচেছেন।  একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় তাদের করুণ পরিণতির কথা উঠে এসেছে।  

বৃহস্পতিবার লিবিয়ায় ৩০ জন অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ জনই বাংলাদেশি বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অন্য চারজন আফ্রিকান অভিবাসী।

গতকাল শুক্রবার আত্মগোপনে থাকা ওই ব্যক্তির বরাত দিয়ে এক ভিডিও বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন  বলেন, ‘দূতাবাসের সহায়তায় আহত ১১ জনকে মিজদাহ থেকে ত্রিপোলিতে আনা হয়েছে। ছয়জন পুরোপুরি সুস্থ হলেও পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।  এর মধ্যে তিনজনের অপারেশন হয়েছে, দুইজনের হবে। তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বুলেট ঢুকেছে। বুলেট বের করার চেষ্টা চলছে।’   

২৬ জনের মৃতদেহ মিজদাহ হাসপাতালের মর্গে আছে জানিয়ে মোমেন বলেন, ‘আমরা আইওমের (ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন) সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তাদের একটা ব্যবস্থা করার জন্য। আমরা দাবি করেছি, এদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য। আমরা দাবি করেছি, পাচারকারীদের শাস্তি দিতে এবং তার তথ্য আমাদের দিতে। আমরা সেগুলো সংরক্ষণ করব।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার লিবিয়ার ত্রিপলি হতে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর মিজদাহতে এ ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বাংলাদেশিদের সঙ্গে প্রাণ গেছে চার আফ্রিকান অভিবাসীর। এতে বলা হয়, আক্রান্তদের মধ্যে সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশি টেলিফোনে জানিয়েছেন, তিনি লিবিয়ার একজন নাগরিকের আশ্রয়ে আত্মগোপনে আছেন।

তিনি দূতাবাসকে আরও জানান, ১৫ দিন আগে বেনগাজি থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে কাজের সন্ধানে মানবপাচারকারীরা এসব বাংলাদেশিকে ত্রিপোলিতে নিয়ে আসছিলেন। এ সময় তিনিসহ মোট ৩৮ জন বাংলাদেশি মিজদাহ শহরের কাছে লিবিয়ান মিলিশিয়া বাহিনীর হাতে জিম্মি হন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ‘যিনি পালিয়ে এসেছেন, তিনি বলেছেন, তারা একেকজন ৮ থেকে ১০ হাজার ডলার দিয়ে গিয়েছেন, ওরা আরও টাকা চাচ্ছিল এবং ওদেরকে খুব অত্যাচার করে। কিন্তু ওরা দিতে রাজি হয়নি, বচসা হয়।’

বচসার এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে থাকা একজন আফ্রিকান মূল পাচারকারীকে মেরে ফেলা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, মারার পরপর মূল পাচারকারীর পরিবার এবং বাকী পাচারকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ওরা একই জায়গা ছিল। এলোপাতাড়ি গুলিতে আমাদের ২৬ জন ভাই মারা যায়। ১১ জন আহত হয়।

কোনোমত বেঁচে ফেরা ওই ব্যক্তি প্রথম এসে যে ফার্মেসিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, পাচারকারীরা এসে সেটিও তছনছ করে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই ব্যক্তির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে মোমেন বলেন, কোনোমতে লুকিয়ে আছেন। উনি বলছেন, খবর পরে জানাবেন।

মিজদাহ শহরের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির বর্ণনাও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়, অঞ্চলটি এখন দুটি শক্তিশালী পক্ষের যুদ্ধক্ষেত্র। কিছুদিন আগে ত্রিপোলিভিত্তিক এবং জাতিসংঘ সমর্থিত জিএনএ সরকার এই অঞ্চলটি দখল করে নিলেও জেনারেল হাফতারের নেতৃত্বাধীন পূর্বভিত্তিক সরকারি বাহিনী দুইদিন আগেও শহরটিতে বোমাবর্ষণ করেছে।

এই অবস্থার মধ্যে ভাগ্যাহত ব্যক্তিদের জন্য সেভাবে কাজ করা সম্ভব না হওয়ার কথা তুলে ধরে আব্দুল মোমেন বলেন, আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস লিবিয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আইওএম লিবিয়ার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। তারা আহত ব্যক্তিদের সম্ভাব্য সহায়তা প্রদান করছেন।

তিনি বলেন, ‘ওখানে এখানে মিলিশিয়ার রাজত্ব। সেহেতু ওদেরকে ধরে এনে শাস্তি দেওয়া কখন হবে, আমরা জানি না। আমাদের মিশন তদন্ত করে যারা দায়ী তাদেরকে চিহ্নিত এবং শাস্তি দেওয়ার জন্য বলেছে।’

মানুষকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা প্রথম ঘটনা নয়, আরও আগে এরকম ঘটনা ঘটেছে। এই পাচারকারীরা যদি সক্রিয় থাকে, এ ধরনের ঘটনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বাংলাদেশের যেসব এজেন্সি বা ব্যক্তি এই পাচারের সঙ্গে জড়িত, সুস্থ ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তাদেরকে চিহ্নিত করা হবে বলে জানান তিনি।’

 

advertisement