advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্লাজমা থেরাপি, করোনায় আশার আলো

ডা. এসএম সহিদুল ইসলাম
৩০ মে ২০২০ ১৫:৫৬ | আপডেট: ৩০ মে ২০২০ ১৫:৫৬
advertisement

মানুষের রক্তকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়—রক্তরস বা প্লাজমা এবং রক্ত কণিকা। এর মধ্যে রক্তরসের পরিমাণ ৫৫% এবং রক্তকণিকার পরিমাণ ৪৫%। বর্তমানে করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ চিকিৎসায় প্লাজমা ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চীনের উহান শহরে সর্বপ্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগীদের ওপর প্লাজমা থেরাপি দিয়ে বেশ ভালো সাফল্য পাওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেনি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরে যারা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাদের শরীরে এক ধরনের অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার তৈরি হয়। যখন কেউ কোনো রোগে আক্রান্ত হন, তখন সেই ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া বিরুদ্ধে এ ধরনের অ্যান্টিবডি প্রোটিন তৈরি হয়। ওই প্রোটিন জীবাণুর চারপাশে এক ধরনের আবরণ তৈরি করে সেটাকে অকেজো করে ফেলে। এভাবেই অ্যান্টিবডি কাজ করে।

চিকিৎসকরা আশা করছেন একজন সুস্থ রোগীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা প্লাজমা দুই থেকে তিনজন অসুস্থ রোগীকে দেওয়া সম্ভব হবে। হাসপাতালে ভর্তির পর যেসব রোগীর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তাদের যদি এক ব্যাগ বা ২০০ মিলিমিটার পরিমাণ প্লাজমা দেওয়া যায়, তাহলে ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। কারণ প্লাজমা শরীরের রক্তের মধ্যে যে ভাইরাস থাকে, তার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। কোভিড-১৯ আক্রান্ত থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তির থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়। তাদের শরীর থেকে প্লাজমার মাধ্যমে সংগ্রহ করা এই অ্যান্টিবডি যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির শরীরে প্রয়োগ করা হয়, তখন তার শরীরের সেই অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তখন তিনিও সুস্থ হয়ে ওঠেন। প্রতিনিয়ত আমরা প্রিয়জনকে রক্তদান করছি। এই প্লাজমা দান রক্তদান করার মতোই। এতে মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগে এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং কোনো ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কাও নেই। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি পদ্ধতি।

কোভিড-১৯ রোগ থেকে সেরে ওঠার ১৪ দিন পর এফেরেসিস মেশিনের সাহায্যে ওই ব্যক্তির শরীর থেকে ৪০০ থেকে ৬০০ মিলিলিটার প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়। এই পদ্ধতিতে রক্তকণিকা (আরবিসি, ডব্লিউবিসি ও প্লেটলেট) প্লাজমাদাতার শরীরে ফিরে যায়। অর্থাৎ, তা সংগৃহীত হয় না, শুধুই প্লাজমাই নেওয়া হয়। একজন প্লাজমাদাতা চাইলে ২৮ দিন পর আবার প্লাজমা দিতে পারবেন। তবে যেসব জায়গায় এই এফেরেসিস মেশিন নেই, সেখানে এক ব্যাগ ব্লাড (হোল ব্লাড) সংগ্রহ করে সেন্ট্রিফিউজ মেশিনের মাধ্যমে প্লাজমা আলাদা করা যেতে পারে এবং তা প্রয়োজনমতো কোভিড রোগীকে প্রয়োগ করা যেতে পারে। বাংলাদেশের জন্য এই মুহূর্তে প্লাজমা থেরাপির প্রয়োজন অনেক বেশি। কারণ, আমাদের হাতে এই মুহূর্তে করোনা রোগের মূল কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি বের হয়নি এবং আমাদের দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের অপ্রতুলতা রয়েছে। যখন কেউ কোনো রোগে আক্রান্ত হন, তখন সেই ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া বিরুদ্ধে এ ধরনের অ্যান্টিবডি প্রোটিন তৈরি হয়। ওই প্রোটিন জীবাণুর চারপাশে এক ধরনের আবরণ তৈরি করে সেটাকে অকেজো করে ফেলে। এভাবেই অ্যান্টিবডি কাজ করে।

লেখক : ডা. এস এম সহিদুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

advertisement