advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনায় অসহায় বার্মিজ মার্কেটের নারীরা

জাজাফী
৩১ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ মে ২০২০ ২৩:৪১
advertisement

বাংলাদেশে শ্রমজীবী মানুষের এক বৃহদাংশই নারী। প্রতিটি সেক্টরে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েই চলেছে। উদ্যোক্তা হিসেবেও নারী সমানভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উপজাতীয়দের মধ্যে বিরাট একাংশই নারীদের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন নগরী কক্সবাজারে গেলে বিষয়টি খুব করে চোখে পড়ে। সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের এক বিরাট অংশ কেনাকাটার জন্য বার্মিজ মার্কেটগুলোতে বিচরণ করে এবং শতকরা আশি ভাগ বার্মিজ মার্কেটই নারীদের দ্বারা পরিচালিত। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর সরকারি সিদ্ধান্তে বিশেষ দোকানপাট ছাড়া বাকি সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বার্মিজ মার্কেটও এর আওতায় পড়েছে। যেহেতু এই মার্কেটের ক্রেতাদের প্রায় সবাই পর্যটক এবং এই মুহূর্তে পর্যটকশূন্য কক্সবাজার তাই তাদের মার্কেট খোলা থাকলেও কোনো কাজে আসত না। বিশ্ব অর্থনীতি নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের মতো নিম্ন আয়ের দেশের খেটে খাওয়া মানুষগুলোর দুর্ভোগ বেড়েছে বহুগুণ। কারখানার শ্রমিকরা যেমন বেকার হয়ে বসে আছে, তেমনি বার্মিজ মার্কেটের নারীরাও গৃহবন্দি। কেমন কাটছে তাদের দিনকাল? নিশ্চয়ই ভালো নয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য হওয়ায় এমনিতেই উপজাতীয়রা অনেক পিছিয়ে আছে, তার ওপর এই দুর্যোগের সময়ে নারীর আয়ের ওপর যেসব সংসার চলত তারা ভাষাহীন দুর্ভোগে পড়েছে।

বার্মিজ মার্কেটের সূচনা স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের আগে। ১৯৬২ সালে এক রাখাইন উদ্যোগী মহিলা নারী, টেকপাড়ার বার্মিজ প্রাইমারি স্কুলসংলগ্ন তার নিজ বাড়িতে খুবই ছোট পরিসরে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রাখাইন হস্তশিল্পের কিছু মালামাল- চাদর, কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, চুরুট, পুরুষদের লুঙ্গি আর টুকিটাকি জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়েছিলেন। কক্সবাজার বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা রাখাইন নারীর পসরায় কী আছে, তা নেড়েচেড়ে দেখত। সেখান থেকেই আজকের এই সর্বজনস্বীকৃত বার্মিজ স্টোরের সূচনা। পর্যটকদের চাহিদা অনুধাবন করে উনাং ‘কক্সবাজার কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামে বাণিজ্যিকভাবে একটি স্টোর খোলেন নিজ বাড়ির সামনে, তার পর একে একে গড়ে ওঠে টিন টিন বার্মিজ স্টোর, রাখাইন স্টোর, উমে স্টোর, নূরানী এম্পোরিয়াম, বিবি ফ্যাশন ডায়মন্ড স্টোর প্রভৃতি যা বার্মিজ স্টোর হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে থাকে।

যদিও শুরুতে স্টোরগুলোতে বার্মিজ কোনো পণ্য ছিল না। পরে বার্মিজ পণ্য যেমন- লুঙ্গি, থামি, স্যান্ডেল, আচার, বাম জাতীয় ভেষজ, স্নেখা- এক প্রকার প্রসাধন, বিভিন্ন জাতের পাথর এবং বার্মিজ হস্তশিল্পেরÑ কাঠের ও ঝিনুকের তৈরি বিভিন্ন শৌখিন জিনিস সংযোজন হতে থাকে এবং ‘বার্মিজ স্টোর’ নামের পরিপূর্ণতা লাভ করে।

রাখাইন তরুণী উ খিং চ জানান, ‘আগে সারাদিনে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মালামাল বিক্রি হতো এবং তা থেকে ভালো লাভ হতো। করোনা ভাইরাসের কারণে সব বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে লাভ তো দূরে থাকুক সব রকম উপার্জন বন্ধ। দোকানের আয় দিয়েই তাদের সংসার চলত এখন এই পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হলে বিপদ আরও বাড়বে। অন্য আরেক রাখাইন তরুণী উ চেং খুব চিন্তায় আছেন। সারা বছর পর্যটক থাকার কারণে যে পরিমাণ বিক্রি হতো তা এখন পুরোপুরি বন্ধ। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নানা সময়ে অল্পবিস্তর সহযোগিতা এই অঞ্চলে দিয়ে থাকলেও তা অপ্রতুল। বিশেষত নারীদের আয় অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষের চেয়ে কম হয়ে থাকে। বার্মিজ নারীদের একমাত্র অবলম্বন ছিল এই মার্কেটগুলো। শুধু তাই নয়, অধিকাংশ বিক্রয়কর্মী বেতনভুক্ত ছিল। দোকান মালিকের সামর্থ্য নেই তাদের কাজ না করিয়েও বেতন দেওয়ার। ফলে বার্মিজ মার্কেটের নারীরা ঘরে সংকটে দিন কাটাচ্ছে। পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস তারা। এমনকি পরিস্থিতি যদি খুব শিগগিরই স্বাভাবিকও হয় তবুও বার্মিজ মার্কেটের নারীদের ঘুরে দাঁড়াতে অনেক সময় লেগে যাবে।

advertisement