advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঢাবিতে বন্ধ হচ্ছে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১ জুন ২০২০ ০১:৪৮ | আপডেট: ১ জুন ২০২০ ০১:৫০
advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগের নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ল্যাব পরিচালনায় আর্থিক সংকট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ শুরু হওয়াসহ বেশ কয়েকটি কারণে আজ সোমবার থেকে এ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনাভাইরাস রেসপন্স টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক শরীফ আখতারুজ্জামান এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ল্যাবে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০-১২ জন শিক্ষক ও ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী কাজ করছিলেন। শিক্ষকরা স্বেচ্ছায় কাজ করলেও প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।

খরচের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হলেও কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে জানান শরীফ আখতারুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘কয়েকটি কারণে আমরা আর করোনাভাইরাস স্যাম্পল টেস্ট করব না। সোমবার থেকে আমরা এই কার্যক্রম বন্ধ করে দেব। ল্যাব পরিচালনা করতে প্রতিমাসে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে, যা বহন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে কঠিন এবং বাড়তি চাপ। তা ছাড়া যারা কাজ করছে, তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। ভলান্টিয়ারদের অন্তত কিছু প্রণোদনা দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানিয়েও কোনো সাড়া পাইনি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্বেচ্ছায় এ দ্বায়িত্ব নিয়েছেন। আর্থিক সহায়তার কোনো কথা ছিল না। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে করোনাভাইরাস টেস্ট করছে, তাদের কারও জন্যই সরকারের পক্ষ কোনো বরাদ্দ নেই। আমরা তাদেরকে শুধু পিপিই, কিট ও স্যাম্পল সরবরাহ করেছি। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর টেস্ট না করাতে চাইলে, এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এটি বন্ধ করে দিচ্ছি। আর্থিক কারণে নয়, আমাদের আগে থেকেই কথা ছিল ৩১ মে পর্যন্ত আমরা এটা চালিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের তো এটা হাসপাতাল নয়, এটা বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সময় দিতে হবে।ল্যাবের আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি আমাদের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। এগুলো এখন সেখানে গবেষণার কাজে প্রয়োজন হচ্ছে। সেগুলো এখন জীবাণুমুক্ত করে আবার সেখানে স্থাপন করতে হবে। মূলত এজন্য করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার কাজটা আর করা হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতিতে গত ৫ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেস (সিএআরএস) ভবনের ল্যাবে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনাভাইরাস রেসপন্স টেকনিক্যাল কমিটি। গবেষণাগারে দুটি পিসিআর মেশিনে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ নমুনা পরীক্ষা করা হতো। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া কিট, পারসোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক খরচে চলত এই নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম। 

advertisement