advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা, তিন মামলায় গ্রেপ্তায় ২

মাদারীপুর প্রতিনিধি
১ জুন ২০২০ ১৬:৪৩ | আপডেট: ১ জুন ২০২০ ১৬:৪৩
প্রতীকী ছবি
advertisement

লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের মানবপাচার ও হত্যার ঘটনায় মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একটি এবং রাজৈর থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছে তিন নিহতের পরিবার। তিন মামলায় ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি লিবিয়ায় গুলি করে ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা করে মানবপাচারকারীরা। তাদের মধ্যে অধিকাংশই মাদারীপুরের বাসিন্দা। এ ঘটনায় লিবিয়ায় নিহত হওয়া মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ দুধখালি গ্রামের মো. শামীম হাওলাদারের বাবা হালিম হাওলাদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। গতকাল রোববার বিকেলে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় করা ওই মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে দালাল নজরুল মোল্লার স্ত্রী দিনা বেগমকে। দালাল নজরুল মোল্লা এখন লিবিয়াতে রয়েছেন। এই ঘটনায় গতকাল রাতেই মামলার প্রধান আসামি দিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অপরদিকে একই ঘটনায় লিবিয়ায় নিহত জুয়েলের বাবা রাজ্জাক হাওলাদার বাদী হয়ে দালাল জুলহাস সরদারসহ চারজনের নামে মানবপাচার আইনে মামলা করেছে মাদারীপুরের রাজৈর থানায়। এ ছাড়া রাজৈর থানার বদরপাশা ইউনিয়নের নিহত রহিম খালাসীর ভাই আবু খায়ের খালাসী বাদী হয়ে রাজৈর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলা জুলহাস সরদারসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের নিহত মানিক হাওলাদারের বাবা শাহ আলম হাওলাদার বলেন, ‘আমার ছেলে মানিককে লিবিয়া নেওয়ার কথা বলে দালাল জুলহাস আমার কাছ থেকে প্রথমে চার লাখ টাকা নিয়েছে। পরে ছেলেকে বেনগাজী আটকে রেখে ভয়েজ রেকর্ডের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। আমি আমার ছেলেকে আনতে জুলহাসের বাড়ি গিয়ে টাকা দিয়ে আসি।’

একই গ্রামের নিহত জুয়েল হাওলাদারের বাবা রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, ‘আমার ছেলেসহ রাজৈরের বেশ কয়েকজনকে দালাল চক্র লিবিয়া নেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা চুক্তি করে নিয়ে যায় তিন-চার মাস আগে। তারপর লিবিয়ার ত্রিপলী না নিয়ে বেনগাজীতে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে। এরপর ভয়েজ রেকর্ডে নির্যাতনের শব্দ পাঠিয়ে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করে। আমরা হোসেনপুর জুলহাস সরদার নামের ওই দালালের বাড়িতে গিয়ে ১০ লাখ টাকা দিয়ে আসি।’

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘মানবপাচারের ঘটনায় মাদারীপুর সদর মডেল থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে নিহত শামীমের বাবা হালিম হাওলাদার। এই মামলার প্রধান আসামি দিনা বেগমকে আমরা রাতে গ্রেপ্তার করেছি। এখন আদালতে প্রেরণ করা হবে।’

রাজৈর থানার ওসি শওকত জাহান বলেন, ‘মানবপাচারের ঘটনায় রাজৈর থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার। দালাল জুলহাস দুটি মামলারই আসামি। একটি মামলায় সাতজন ও অপর মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জুলহাস করোনা পজেটিভ হওয়ায় পুলিশি হেফাজতে মাদারীপুর সদর  হসাপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি রয়েছে।’

advertisement