advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হাসপাতালেই উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি, নমুনা দিতে শত শত মানুষের ভিড়

গাজীপুর সদর প্রতিনিধি
১ জুন ২০২০ ১৬:৪৫ | আপডেট: ১ জুন ২০২০ ১৭:০৫
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই সেবাপ্রার্থীদের লম্বা লাইন
advertisement

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরতরা নিরাপত্তা নিয়ে কার্যক্রমে অংশ নিলেও সাধারণ রোগীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে এখন প্রতিদিনই শত শত মানুষ হাসপাতালটিতে ভিড় করছেন, এতে তৈরি হচ্ছে নানা ভোগান্তি। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন সাধারণ রোগীর পাশাপাশি করোনা উপসর্গধারী  রোগীদের ভিড় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে অন্যতম হাসপাতালের সম্মুখভাগে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, সেবাপ্রার্থীদের জীবাণুনাশকের ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা।

তবে শিল্পাঞ্চলে ঘেরা লাখো মানুষের সেবা কেন্দ্র শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা সংক্রমণ রোধে কার্যত কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। বেসিন স্থাপন করা হলেও এতে নেই সাবান। সেবাপ্রার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ নিরাপত্তা নিয়ে হাসপাতালে আসলেও অধিকাংশই অসচেতন। ঈদুল ফিতরের পর থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে করোনার উপসর্গ নিয়ে অনেকেই আসছেন নমুনা দিতে। এতে বহির্বিভাগে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে মিলিত হয়ে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশেষ করে ঈদ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারখানায় যোগদানের জন্য করোনা পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কারখানায় আসার ঘোষণা দেওয়ায় শ্রমিকরা হাসপাতালে ভিড় করছেন।  

আজ সোমবার দুপুরে সরেজমিনে হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়ে করোনার নমুনা দিতে শত শত মানুষের ভিড় দেখা গেছে। বড় বড় লাইনে দাঁড়ানো সেবাপ্রার্থীদের কারও মধ্যে কোনো সামাজিক দূরত্ব ছিল না। সকাল থেকে কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে সেবা পাননি।

শ্রীপুর পৌর এলাকার শরীফ আহমেদ জানান, তার বাসায় দ্বিতীয় তলায় একজনের করোনা পজিটিভ হওয়ায় তিনি সচেতনতার অংশ হিসেবে করোনার নমুনা দিতে এসেছেন। সকাল ৯টায় লাইনে দাঁড়ালেও ৩ ঘণ্টা পর একটি ফরম পেয়েছেন তা পূরণ করে জমা দিয়েছেন। যদিও জানেন না কখন নমুনা দিয়ে ফিরতে পারবেন।

তিনি বলেন, এখানে সত্যিই ভয়াবহ অবস্থা। সামাজিক দূরত্ব না থাকায় কে করোনা নিয়ে আসছেন আর কে সাধারণ রোগী তা বোঝার উপায় নেই।

আরগন ডেনিম কারখানার শ্রমিক নুরুল ইসলাম জানান, করোনা পরীক্ষার জন্য তিনি সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। কয়েক ঘণ্টা পর ডাক্তার দেখে বলেছেন পরীক্ষার প্রয়োজন নেই তাই ব্যবস্থাপত্র দিয়ে দিয়েছেন। তার মতো আরও অর্ধশত কারখানা শ্রমিক সকাল থেকেই লাইন ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল থেকেই আমাদের স্বাস্থ্যবিধির শিক্ষা দেওয়ার কথা ছিল অথচ তারা নিজেরাই অসচেতন।’

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, ‘হঠাৎ করে রোগীদের চাপ বেড়েছে হাসপাতালে, তাই হয়তো সামাজিক দূরত্ব মানছেন না অনেকেই। এছাড়াও রোগীদের হাত ধোয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরও অসচেতনতার কারণে অনেকেই ব্যবহার করে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানোর পর রিপোর্ট পেতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রিপোর্ট দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। যখন তখন দিতে পারে আবার সাত দিন দেরিও হয় রিপোর্ট পেতে। এতে রোগীদের ব্যবস্থাপনায় অনেক ভোগান্তি হচ্ছে।’

গাজীপুরের সিভিল সার্জন খায়রুজ্জামান জানান, সবাইকে সচেতন করার পাশাপাশি বিষয়গুলো তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

তিনি আরও জানান, গতকাল রোববার পর্যন্ত গাজীপুরে ১ হাজার ২৪৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীপুর উপজেলায় রয়েছেন ৮০ জন। জেলায় আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জন মারা গেছেন।

advertisement