advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মুম্বাইয়ের হাসপাতালে লাশের স্তূপ, রোগীদের মেঝেতে ঘুমানোর নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
১ জুন ২০২০ ২৩:৩১ | আপডেট: ২ জুন ২০২০ ০০:৫৮
মুম্বাইয়ের হাসপাতালে মরদেহের সারি
advertisement

আত্মীয়রা কেউ দায়ভার না নেওয়ায় হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে পড়ে আছে মরদেহ। শয্যা সংকটে রোগীদের মেঝেতে ঘুমানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। মস্তিষ্কে ক্ষত নিয়ে একজন রোগী এসে বিনা চিকিৎসায় হাসপাতালে মারা যান কারণ তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিনা সে ব্যাপারে প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

প্রতিদিন নতুন নতুন ওয়ার্ড খোলা হচ্ছে কিন্তু সন্ধ্যা হতে না হতেই সেসব ওয়ার্ড করোনা রোগীতে ভরে যাচ্ছে। এ ধরনের চিত্র দেখা গেছে ভারতের সবচেয়ে উন্নত শহর মুম্বাইয়ের অনেক হাসপাতালগুলোতে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে ভয়াবহ করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ায় দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে। ভারতে এ ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল মুম্বাইয়ের হাসপাতালের কর্মীরা ২৪ ঘণ্টা করোনা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। করোনা রোগীদের চাপে অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করতে হয়েছে।

সেন্ট্রাল মুম্বাইয়ের সরকারি কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সাদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকদিন নতুন নতুন ওয়ার্ড চালু করছি। কিন্তু দিন শেষে কোভিড-১৯ রোগী দিয়ে সেগুলো পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। বর্তমানে সব ওয়ার্ডই কোভিড-১৯ ওয়ার্ড এবং ধারণক্ষমতার পুরোটাই রোগী দিয়ে পরিপূর্ণ।’

প্রায় দুই মাসের কঠোর লকডাউন সত্ত্বেও ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত মুম্বাইয়ে করোনার ভয়াবহ প্রকোপ শুরু হয়েছে। দেশটির মোট করোনা রোগী এক চতুর্থাংশই মুম্বাইয়ে, বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সেখানে করোনায় আক্রান্ত। যেখানে পুরো ভারতে করোনা আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার।

করোনাভাইরাস মহামারির প্রাথমিক কেন্দ্র নিউইয়র্ক এবং ইউরোপ হয়ে উঠলেও বর্তমানে তা ঘুরছে ব্রাজিল এবং ভারতের দিকে। দুবর্ল স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো এবং নিম্নমানের জীবনযাত্রার কারণে করোনাভাইরাসের উর্বর জমি হয়ে উঠছে ভারত। গত বৃহস্পতিবার করোনায় মৃতের সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত। ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে বর্তমানে দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ৬০৩ জন।

গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুম্বাইয়ের সরকারি লোকমান্য তিলক হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে করোনায় মৃতদের লাশ পড়ে আছে। এই ঘটনা চাউর হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ডিনকে সরিয়ে দেয়। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হাসপাতালের ওয়ার্ডে আবারও মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হাসপাতালের নার্স মাধুরী রামদাস গৈকার বলেন, ‘অনেক পরিবার সংক্রমণের ভয়ে মরদেহ নিতে অস্বীকার করায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে মরদেহের স্তুপ হয়েছে। ভাইরাসটির কারণে চারপাশে তীব্র ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করছে, যা ভারতে নতুন একটি অস্পৃশ্য শ্রেণি তৈরি করেছে। সংক্রমতি রোগী অথবা তাদের পরিবারকে প্রতিবেশি অথবা বাসার মালিকরা বের করে দিচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মরদেহের সব কাগজপত্র প্রস্তুত করে রেখেছি। কিন্তু সেগুলো কেউই নিয়ে যাচ্ছে না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুম্বাইয়ের সরকারি একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, ‘অন্যান্য সময়ের তুলনায় হাসপাতালের ইমারজেন্সি ওয়ার্ডে দ্বিগুণ রোগী আসছে। একটি অক্সিজেন স্টেশন থেকে বহু রোগীকে সরবরাহ করা হচ্ছে। হাসপাতালের একটি শয্যা কয়েকজন রোগী ভাগাভাগি করে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।’

advertisement