advertisement
advertisement

করোনা সংক্রমণ
ঢাকার পরেই এখন চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২ জুন ২০২০ ০৯:১৭
advertisement

করোনা সংক্রমণে ক্ষেত্রে আগে ছিল ঢাকার পর নারায়ণগঞ্জ। কিন্তু এখন নারায়ণগঞ্জকে ছাড়িয়ে গেছে চট্টগ্রাম। এখন দ্বিতীয় সংক্রমণকারী স্থান হিসেবে চট্টগ্রাম চিহ্নিত হয়েছে। ঢাকায় মোট করোনা আক্রান্ত ১৬ হাজার ৯২২ জন। আর চট্টগ্রামে ২ হাজার ৯৮৫ জন। নারায়ণগঞ্জের অবস্থান বর্তমানে তৃতীয়। সেখানে আক্রান্ত ২ হাজার ৯২৩ জন।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী হতাশা প্রকাশ করে আমাদের সময়কে বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে অসচেতনতার কারণে চট্টগ্রামে হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা। যেটা খুবই হতাশার। আমরা করোনা সংক্রমণ শুরুর আগেই হুশিয়ারি করেছিলাম। কিন্তু হুশিয়ারি হুশিয়ারিই থেকে গেছে, চট্টগ্রামের মানুষ সচেতন হয়নি। এখন যেভাবে বাড়ছে, সে তুলনায় আমাদের চিকিৎসক ও হাসপাতালের শয্যা নেই। তবে আমরা চাইলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, যদি সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি।

গত ৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়ায় ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ওই ব্যক্তি তার ওমরা ফেরত মেয়ের মাধ্যমে সংক্রমিত হন। ৫ এপ্রিল দ্বিতীয় করোনা রোগী শনাক্ত হন ওই ব্যক্তির ২৫ বছর বয়সী ছেলে। এর পর এক-দুই করে চট্টগ্রামে করোনার পরিস্থিতি অবনতি হতে শুরু করে। তবে গত ২৬ এপ্রিল থেকে পোশাক কারখানাগুলো চালুর সঙ্গে সঙ্গে নগরের অঘোষিত লকডাউন পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে। এর পরে ধারণার চেয়ে দ্রুতগতিতে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের প্রায় এক মাস পরে করোনা সংক্রমণ শুরু হয় চট্টগ্রামে। কিন্তু সংক্রমণ শুরুর প্রথম মাসে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দ্বিতীয় মাসে চট্টগ্রামে করোনার বিস্ফোরণ ঘটে। করোনা সংক্রমণে দেশে এখন সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকা চট্টগ্রাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রায় উন্মুক্ত থাকায় চট্টগ্রামে করোনার বিস্তার ঘটছে দ্রুত।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার) করোনা ভাইরাসের ৪০৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে একদিনে ১১৮ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

গতকাল চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে ২৭২টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯৫ জনের এবং সিভাসু ল্যাবে ১৩০টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৩ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। তবে কক্সবাজার ল্যাবে চট্টগ্রামের ৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। এ ছাড়া এইদিন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবের ফল পাওয়া যায়নি। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৯১ জন চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার এবং ২৭ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৯৮৫ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৫ জন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২২৪ জন।

এদিকে তৃতীয় স্থানে থাকা নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৩৫ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে ২ হাজার ৯২৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রামের করোনা সেলের সমন্বয়ক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামে প্রথম করোনা সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয় ৩ এপ্রিল। ওই মাসের শেষ পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত ছিল ৭৩ জন। কিন্তু রমজানের শুরু থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নড়বড়ে হয়ে পড়ায় মে মাসে এসে হু হু করে বাড়তে থাকে করোনা রোগী, যা গতকাল সোমবার পর্যন্ত পৌঁছে ২ হাজার ৯৮৫ জনে। তিনি বলেন, ঈদের ছুটি শেষে মানুষ নগরে ফিরতে শুরু করায় এ পরিস্থিতির এখন আরও মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে। সামাজিক দূরত্ব বিধি মানানো ছাড়া এই সংক্রমণ কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

advertisement