advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি নেই মনিটরিং

গণপরিবহন চালু

২ জুন ২০২০ ০৩:১৫
আপডেট: ২ জুন ২০২০ ০৩:১৫
advertisement

লকডাউন শিথিলের পর গতকাল সোমবার থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে চলাচল শুরু করেছে গণপরিবহন। স্বাস্থ্যবিধি ও কয়েকটি নির্দেশনা মানার শর্তে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়ে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ পরিবহনেই উপেক্ষিত ছিল স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি। অনেক পরিবহনেই দেখা মেলেনি হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবহার। দূরপাল্লার যেসব গণপরিবহনে জীবাণুনাশক স্প্রের দেখা মিলেছে সেগুলো ব্যবহারেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মানা হয়নি। সরেজমিনে সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরেÑ ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন বাসের যাত্রীদের শরীরে সরাসরি ছিটাতে দেখা গেছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক। স্বাস্থ্যবিধি পালন হচ্ছে কিনা সেটি দেখার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো মনিটরিং চোখে পড়েনি। একই চিত্র নজরে এসেছে সদরঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি লঞ্চেও।
গত ১৮ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার এক চিঠিতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর জীবাণুনাশক সরাসরি ছিটানো বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো ওই নির্দেশনায় বলা হয়, বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় মানবদেহে সরাসরি জীবাণুনাশক ছিটানোর ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এসব জীবাণুনাশক তৈরিতে ব্লিচিং পাউডারের (হাইপোক্লোরাইড) দ্রবণ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মানবদেহের উন্মুক্ত বহিঃঅঙ্গসহ চোখ মুখের জন্য ক্ষতিকর। এই ধরনের জীবাণুনাশক সরাসরি মানবদেহে ছিটানো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী বিধিবদ্ধ নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করে। তাই এ
ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হলো।
গতকাল সোমবার দুপুর একটার দিকে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে কচুয়াগামী-কাশিমপুরগামী ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-০৭১৫ বাসের সামনে জীবাণুনাশক ব্লিচিং পাউডার ছিটাতে দেখা গেছে কচুয়াগামী যাত্রী সাত্তার মোল্লার শরীরে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে বাসের সহকারী হেলপার জানান, সরাসরি জীবাণুনাশক প্রয়োগে মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে বিষয়টি তিনি জানতেন না। এই প্রথম প্রতিবেদকের কাছ থেকেই শুনলেন তিনি। অভিন্ন মন্তব্য করে যাত্রী সাত্তার মোল্লা বলেন, জীবাণু থেকে বাঁচতে গিয়ে যদি স্বাস্থ্যের বড় ক্ষতি হয় তা হলে এই জীবাণুনাশক ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। একই দৃশ্য দেখা গেছে অদূরেই দাঁড়ানো কুমিল্লাগামী বাস তিশাসহ (ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-০৭২৪) প্রায় সব দূরপাল্লার পরিবহনেই।
সদরঘাটের চিত্রও ছিল অভিন্ন। মন্ত্রণালয় যেসব স্বাস্থ্যবিধি নির্দেশনা মানার শর্তে জলযান চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল তার অধিকাংশই উপেক্ষিত ছিল রাজধানীর এই লঞ্চঘাটেও। আগের মতোই গাদাগাদি ও গা-ঘেঁষাঘেঁষি করে প্রতিযোগিতা দিয়ে লঞ্চে উঠতে দেখা গেছে শিশু, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ প্রায় সব যাত্রীকেই। যেখানে ছিল না সামাজিক দূরত্ব মানার বালাই। যদিও সদরঘাট টার্মিনালে যাত্রীদের জীবাণুমুক্ত করতে টানেল কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজসহ সব পদক্ষেপই গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ঘাটে যাত্রীদের জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে দেখা গেলেও লঞ্চে ওঠা থেকে শুরু করে ডেক পর্যন্ত যেতে যেতে আবার যেই সেই। গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে সদরঘাট লঞ্চঘাটে গিয়ে, সুন্দরবন-৭ লঞ্চসহ অধিকাংশ লঞ্চের যাত্রীদের শরীরে আবার সরাসরি জীবাণুনাশক ব্লিচিং পাউডার ছিটাতেও দেখা গেছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ আমাদের সময়কে জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সে স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনেই দূরপাল্লার গাড়ি ও সিটি বাস চালানোর চেষ্টা চলছে। যাত্রীদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মহাখালীসহ বিভিন্ন টার্মিনালে জীবাণুমুক্ত টানেল স্থাপন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে লকডাউন পরবর্তী প্রথম দিনের পরিস্থিতি ভালো। যারা স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করবে তাদের রাস্তায় নামতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন বাসের যাত্রীদের শরীরে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক সরাসরি ছিটানোর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পরিবহন নেতা খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। তবে যাত্রীদের শরীরে জীবাণুনাশক ছিটানোর বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে পরিবহনের সংশ্লিষ্টদের। এটা করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন আমাদের সময়কে বলেন, করোনা প্রতিরোধে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই যাত্রীদের লঞ্চে তোলা হচ্ছে। যারা মাস্ক ব্যবহার করছেন না তাদের এলাও করা হচ্ছে না। বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে সরবরাহ করা মাস্ক ব্যবহার করে লঞ্চে ওঠার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মোটরসাইকেল ও ভ্যান গাড়ি উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। লঞ্চ টার্মিনালের বিভিন্ন পয়েন্টে জীবাণুমুক্ত টানেলও স্থাপন করা হয়েছে। এই টানেল অতিক্রম করে তবেই উঠতে পারছেন যাত্রীরা।
লঞ্চঘাটে যাত্রীদের শরীরে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক সরাসরি ছিটানোর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক আরিফ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। সম্ভবত কাপড়ের ওপরে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে। এখন থেকে মানব দেহের ক্ষতিকারক এমন কিছু যাত্রীদের ওপর ব্যবহার করা হবে না বলেও জানান তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া) সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক জানান, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ঘরবাড়ি ও আঙিনাকে জীবাণুমুক্ত রাখতে ব্লিচিং পাউডার মেশানো পানি ব্যবহার করছেন অনেকে। ব্লিচিং পাউডার জীবাণুনাশক হিসেবে কার্যকর হলেও তা সরাসরি মানুষের শরীরের সংস্পর্শে এলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কারণ ব্লিচিং পাউডার মেশানো পানি মানবদেহের বাহ্যিক অংশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জিজনিত সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এটি ভয়াবহ। ব্লিচিং পাউডার নাকেমুখে গেলে শ্বাসকষ্ট হবে এবং নাকে মুখে বেশি পরিমাণে প্রবেশ করলে মানব দেহে ক্যানসারসহ নানা ধরনের রোগ হতে পারে। জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহৃত রাসায়নিক মানুষের ত্বক, চোখ, মুখে পড়লে ক্ষতি হতে পারে।

advertisement