advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পরিস্থিতি বিবেচনায় ছুটি পুনর্বহাল দাবি

২ জুন ২০২০ ০৩:২২
আপডেট: ২ জুন ২০২০ ০৩:২২
advertisement

দেশে করোনা সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সংক্রমণের তীব্রতার সময় সেই সাধারণ ছুটি বাতিল করে অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, কারখানাসহ সব প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে শহরের সীমাবদ্ধ করোনা প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জীবিকা রক্ষা করতে গিয়ে জীবনকে হুমকির মুখে ফেলা দেওয়া হয়েছে। তাই অন্তত ১৫ দিন পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাধারণ ছুটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে আরও দুই সপ্তাহ সাধারণ ছুটি বাড়ানোর কথা বিবেচনা করতে পারে সরকার। সামনের দিনগুলোতে সংক্রমণের মাত্রা কমে এলে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসা যেতে পারে। এসডিজি বাস্তবায়ণে নাগরিক প্ল্যাটফরম আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংলাপে এই দাবি জানান বিশিষ্টজনরা।
‘সাধারন ছুটি-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি’ শীর্ষক ওই ভার্চুয়াল সংলাপে প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ওয়াটার এইডের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক ড. খায়রুল ইসলাম, সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত, ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবিলক হেলথের উপদেষ্টা ড. মুশতাক রাজা চৌধুরী, সরকারের কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা (সিলেট বিভাগ) ডা. আবু জামিল ফয়সাল, আইসিডিডিআর,বির মিউকোসাল ইমিউনোলজি এবং ভ্যাকসিনোলজি ইউনিটের প্রধান ডা. ফেরদৌসী কাদরি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মাঝে সমন্বয়ের অভাবকে অতিমারী মোকাবিলায় একটি বড় বাধা। এটি দূর করতে হবে। সেই সাথে মাস্ক ও স্যানিটাইজারের মতো স্বাস্থ্য উপকরণ বিনামূল্যে জনগণের মাঝে বিতরণের প্রস্তাব করেন অনেকে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত সরকারকে সহায়তা করতে পারে।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, চলমান অতিমারীতে নানামুখী অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হলেও জনগণের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের বিভিন্ন সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব দেখা গিয়েছে। তবে সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি; নাগরিকসেবাকে গুরুত্ব দিয়ে জনমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে।
সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত বলেন, সরকারের ত্রাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতা আরও বৃদ্ধি করা জরুরি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অতিমারীতে দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী খুবই ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তাদের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোয় ২ লাখ ৭০ হাজার বেড এবং ৯০ হাজার চিকিৎসক রয়েছেন। এর মধ্যে ২৬-২৭ হাজার চিকিৎসক সরকারি, বাকিটা বেসরকারি। বেডের তিন ভাগের একভাগ সরকারি খাতে। কিন্তু করোনার এই মহাদুযোর্গের সময় সরকার পরিকল্পনা করেছে বেসরকারি খাতকে বাদ দিয়ে। আরেকটি অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্ত হাসপাতালগুলোকে কোভিড, নন-কোভিডে ভাগ করা। করোনার টেস্ট আইডিসিআরের মতো দুর্লভ জায়গায় নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সচিব নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত লোকদের দিয়ে কমিটি করে কাজ করতে হবে। এখন লকডাউন অন্তত ১৫ দিন বাড়াতে হবে। ধাপে ধাপে তা প্রত্যাহার করতে হবে।

advertisement