advertisement
advertisement

জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদ
মিশিগানে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

কামরুজ্জামান হেলাল,যুক্তরাষ্ট্র
২ জুন ২০২০ ০৯:৪৬ | আপডেট: ২ জুন ২০২০ ০৯:৫১
মিশিগান ডেট্রয়েটে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে গত রোববার তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ হয়। তবে এদিন রাতের বিক্ষোভ থেকে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের মিডিয়া বিভাগের প্রধান সার্জেন্ট নিকোলে কার্কউড এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বেশির ভাগই মেট্রো ডেট্রয়েটের। পুলিশ ডেট্রয়েট নিউজের অনুসন্ধানী সাংবাদিক ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ডকে আটকের কিছুক্ষণ পর অবশ্য ছেড়ে দেয়।

এর আগে রোববার মেয়র মাইক ডুগান রাত ৮টা থেকে সোমবার ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেন। কারফিউয়ের সময় কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে মানববন্ধন করেন। তারা এই সময় স্লোগান দেন, নো জাস্টিস, নো পিস। পুলিশ যাতে অন্য বিক্ষোভকারীদের কাছে যেতে না পারে এজন্য মানববন্ধন করা হয়।

মেয়র মাইক ডুগান বলেন, পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ এড়াতে কারফিউয়ের প্রয়োজন আছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডে আমিও ক্ষুব্ধ। পুলিশ ডেরেক চাওভিনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং প্রসিকিউটর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে।’

অতীতের বিক্ষোভে পুলিশ যেমন নিষ্ঠুরতা চালাতো এবার তার ব্যতিক্রম হয়েছে। তারা বিক্ষোভকারীদেরই সমর্থন দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ডেট্রয়েট পুলিশের প্রধান জেমস ক্রেগ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছেন।

এ নিয়ে জাতীয় পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। তবে পুলিশ লুটপাট, অগ্নিসংযোগ তথা সহিংস বিক্ষোভের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

শুক্রবার বিক্ষোভের প্রথম দিনেই ডেট্রয়েটের শহরতলিতে ২১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। তবে পুলিশ গুলি চালায়নি বলে জানিয়েছে। কেউ একজন গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তাদের অভিযোগ।

ফ্লিন্টে জেনেসি কাউন্টি শেরিফ ক্রিস সোয়ানসন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মিছিল করেন। সোয়ানসন ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘আমরা সত্যিকার অর্থেই আপনার সঙ্গে থাকতে চাই। তাই আমি হেলমেটটি খুলে ব্যাটনগুলো শুইয়ে দিলাম। আমি এটিকে একটি কুচকাওয়াজ বানাতে চাই, প্রতিবাদ নয়।’ ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তিনি বেশ প্রশংসা পেয়েছেন।

রোববার গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার টুইট করেছেন, ‘সোয়ানসন দেশজুড়ে আইন প্রয়োগের জন্য একটি উদাহরণ স্থাপন করেছেন।’

ফ্লয়েডের নিজ শহর হিউস্টনে পুলিশ চিফ আর্ট আচেভাদোও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মিছিল করেছেন। হিউস্টন পুলিশ বিভাগ সংক্ষেপে টুইটারে তার প্রোফাইল ছবি হিসেবে জাস্টিসফোর্ডফ্লয়েড হ্যাশট্যাগসহ ফ্লয়েডের শিল্পী রেন্ডারিং ব্যবহার করেছে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে ৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিন। এক প্রত্যক্ষদর্শীর তোলা ১০ মিনিটের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জর্জ ফ্লয়েড নিশ্বাস না নিতে পেরে কাতরাচ্ছেন এবং বারবার শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাকে বলছেন, ‘আমি নিশ্বাস নিতে পারছি না।’

advertisement