advertisement
advertisement

করোনার নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে মৃত্যু নিয়ে ‘রহস্যের সৃষ্টি’

নিজস্ব প্রতিবেদক,কুড়িগ্রাম
২ জুন ২০২০ ১৫:২০ | আপডেট: ২ জুন ২০২০ ১৬:০৫
মনিরুজ্জামানের হত্যার বিচারের দাবিতে প্রতিবেশীদের মানববন্ধন। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে করোনা উপসর্গের কথা বলে মনিরুজ্জামান মন্টু (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত ব্যক্তির নমুনা নিতে গিয়ে তার গলায় রশির দাগ দেখতে পান চিকিৎসক। এতে করে মনিরুজ্জামানের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গত রোববার ওই ব্যক্তি মারা যান। তিনি উপজেলার শিলখুড়ী ইউনিয়নের শালজোড় (উত্তর ধলডাঙ্গা) গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল সোমবার তার লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে ময়নাতদন্ত ও করোনার নমুনা পরীক্ষার কোনো রিপোর্ট হাতে পায়নি পুলিশ। 

স্থানীয়রা জানিয়েছে, মনিরুজ্জামানকে করোনা উপসর্গের কথা বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করতে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু সাজ্জাদ মোহাম্মদ সায়েম। নমুনা নিতে গিয়ে লাশের গলায় রশির দাগ দেখতে পান ওই চিকিৎসক। পরে পুলিশকে খবর দিলে লাশ নিয়ে যায়।

নিহতের পরিবারের দাবি, একই গ্রামের আজিজুলের সঙ্গে নিহতের স্ত্রী শাহিদা বেগমের পরকীয়ার সম্পর্ক আছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মনিরুজ্জামানকে তার স্ত্রী গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা করেছিল।

এটাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে বিচার চেয়ে নিহতের ভাতিজা ও প্রতিবেশীরা গতকাল এলাকায় মানববন্ধন করেছে। এ সময় নিহতের বোন মজিরন বেগম, মলুদা বেগম ও স্বজন এনামুল হক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি করেন। 

এ বিষয়ে কথিত প্রেমিক আজিজুলের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার স্ত্রী আছমা বেগম জানান, আগে তার স্বামীর সঙ্গে মনিরুজ্জামানের স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল, এখন নেই। তবে নিহতের স্ত্রী শাহিদা বেগম পরকীয়ার কথা অস্বীকার করেন।

ইউনিটি ফর ইউনিভার হিউম্যান রাইটস্ অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন কুড়িগ্রাম জেলার উত্তর ধরলা কমিটির চেয়ারম্যান স্বপন খন্দকার জানান, বিষয়টির সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

উপজেলার শিলখুড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর মজিবর রহমান বলেন, ‘এটি একটি হত্যাকাণ্ড, মন্টুকে পরকীয়া প্রেমের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

ভুরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা নিয়ে ময়নাতদন্ত করে লাশ ফেরত দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement