advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাসে গাজীপুর থেকে লালমনিরহাট গেলেন করোনা রোগী

গাজীপুর সদর প্রতিনিধি
২ জুন ২০২০ ১৬:৫৬ | আপডেট: ২ জুন ২০২০ ১৭:২৫
প্রতীকী ছবি
advertisement

করোনাভাইরাস উপসর্গ থাকায় গত বুধবার (২৭ মে) গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা পরীক্ষার জন্য যান পৌর এলাকার কেওয়া গ্রামের এক গার্মেন্টম শ্রমিক (৩৪)। নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে আজ মঙ্গলবার জানানো হয় তিনি করোনায় আক্রান্ত। এদিকে অতিরিক্ত জ্বর হওয়ায় ও সেবা করার লোক না থাকায় তিনি গতকাল সোমববার রাতে বাসযোগে শ্রীপুর থেকে লালমনিরহাটে নিজ বাড়িতে চলে গেছেন।

ওই গার্মেন্টস শ্রমিক মুঠোফোনে দৈনিক আমাদের সময়কে জানান, তিনি পৌর এলাকার কেওয়া গ্রামের চেয়ারম্যান বাড়ী মোড় এলাকায় আব্দুল বাতেনের ভাড়া বাড়িতে থেকে ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলস নামে একটি কারখানায় কাজ করতেন। স্ত্রী গ্রামের বাড়িতেই থাকেন। গত ২২ মে তিনি কারখানায় কাজে যোগদানের পর তার শরীরে জ্বর অনুভূত হয়। তিনি জ্বর নিয়েই কারখানার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নেন। পরে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে তাকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেন।

এদিকে তার জ্বর না কমায় তিনি গত বুধবার আবার কারখানার ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে স্বাস্থ্যের অবস্থা চিকিৎসকে জানান। পরে চিকিৎসক তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করার জন্য পরামর্শ দেন। ওই দিনই তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে নমুনা দেন। নমুনা দেওয়ার পর তিনি কেওয়া গ্রামের ওই ভাড়া বাসায়ই অবস্থান করছিলেন।

ওই গার্মেন্টস শ্রমিক বলেন, ‘ওখানে আমি একাই ছিলাম। অনেক জ্বর উঠত। আমি একা কুলাতে পারছিলাম না। আমাকে সেবা করার মতো কেউ ছিল না।’

তিনি জানান, অনেকটা নিরুপায় হয়ে গতকাল রাতে শ্রীপুর থেকে লোকাল বাস যোগে গাজীপুর চৌরাস্তা যান। সেখান থেকে আরেকটি লোকাল বাসে করে চন্দ্রা এলাকায় গিয়ে লালমনিরহাটের একটি বাসযোগে তিনি আজ সকালে লালমনিরহাটে পৌঁছান।

বাসে তিনি পূর্ণ সরকারি বিধি অর্থাৎ নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনেই গিয়েছেন বলে জানান। বর্তমান তিনি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার উত্তর জরানী গ্রামে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং কারখানার মেডিকেল টিমের দেওয়া পরামর্শ মতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. এএসএম ফাতেহ্ আকরাম জানান, নমুনা সংগ্রহ করার পরপরই প্রত্যেক রোগীকে খুব গুরুত্ব দিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়। কিন্তু অনেকেই তা মানেন না। এতে আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষের করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ে। বর্তমানে লালমনিরহাট যাওয়া রোগীর সম্পর্কে ওই এলাকার স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তারা ওই ব্যক্তির চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন।

advertisement