advertisement
advertisement

স্বাস্থ্য ঝুঁকিতেই চলছে গণপরিবহন, পরীক্ষা বাড়ানোর আহ্বান

জনি রায়হান
২ জুন ২০২০ ১৭:৩৭ | আপডেট: ২ জুন ২০২০ ২১:৫৭
স্বাস্থ্য ঝুঁকিতেই চলছে গণপরিবহন
advertisement

দেশে প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে করোনাভাইরাসে নতুন শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। সরকারি হিসাবে আজ মঙ্গলবারও দেশে নতুন করে ২ হাজার ৯১১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৩৭ জন। এই অবস্থায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা পরীক্ষার হার বাড়াতে জোর দিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষ করে গণপরিবহন চালুর পর থেকে করোনার নমুনা পরীক্ষা খুব দ্রুত বাড়ানো দরকার বলে অভিমত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। এদিকে নানা রকমের সীমাবদ্ধতা থাকলেও প্রতিনিয়তই দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

গণপরিহন চালু করার পর আজ মঙ্গলবারও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলরত যানবাহনে স্বাস্থ্য বিধি মানার চিত্র তেমন একটা চোখে পড়েনি। যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব মেনে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হলেও, সেটিতে ওঠার প্রতিযোগিতায় স্বাস্থ্য বিধি মানছে না কেউই। পরিবহনের চালক হেলপারের বাধা উপেক্ষা করে বাসে ওঠার জোর চেষ্টা ছিল যাত্রীদের।

রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে গাবতলীতে বাসে চলাচল করেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ওয়াহিদ প্রামাণিক। দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘চাকরি বাঁচাতে অফিসে যোগ দিতেই গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ি যাতায়াত করতে হয়েছে। সকালে বাসে ওঠার জন্য ঘণ্টাখানেক দাঁড়িয়ে ছিলাম। বাসে ওঠার চেষ্টা করেও পারি নাই। একটি বাস দাঁড়ালেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে মানুষ। অবশেষে বাধ্য হয়ে সেই প্রতিযোগিতায় নেমেই বাসে উঠতে পেরেছি।’

‘বাসে ওঠার সময় অর্ধশত লোকের সাথে যুদ্ধ করেছি। তবে বাসের ভেতরে এক সিট ফাঁকা রেখেই যাত্রীদের বসানো হয়েছিল। সেটা বেশ ভালো লেগেছে। কিন্তু এই সিট ফাঁকা রাখার প্রবণতা খুব বেশি দিন থাকবে না’- বলেন ওয়াহিদ প্রামাণিক।

হুমায়ুন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘সরকারি নিয়মে পরিবহনের স্বাস্থ্য বিধির যত নিয়মের কথা বলা হয়েছে। সিট ফাঁকা রাখা ছাড়া তার আর কিছুই মানা হচ্ছে না। হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সামাজিক দূরত্ব মেনে বাসে ওঠা- কিছুই না। আমি সকালে যে বাসে চড়ে অফিসে এসেছি, বাসটি গত ২ মাসে একবারও পরিষ্কার করা হয়নি। এমন নোংরা পরিবেশ বাসের ভেতরে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৯৫০টি। এর মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৭০৪টি। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩টি। গতকাল সোমবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিলে ১৩১০৪ জনের। এদের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১১৪৩৯ জনের। নতুন করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৩৮১ জনের। এর আগের দিন (রোববার) নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল ১২২২৯ জনের। পরীক্ষা করা হয়েছিল ১১৮৭৬ জনের নমুনা। এতে নতুন করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৫৪৫ জনের।

গণপরিবহন চালুর পর স্বাভাবিকভাবেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে। এ কারণে দ্রুত টেস্টের মাধ্যমে করোনা আক্রান্তদের শনাক্ত করে আইসোলেশনে রাখতে হবে। তাহলে তার মাধ্যমে অন্য কারও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। এটা না করতে পারলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিটা বেড়ে যাবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ভাইরোলোজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষজনের যাতায়াতের জন্য গণপরিবহন চালু যৌক্তিক। কিন্তু করোনার পরিপ্রেক্ষিতে এটা খারাপ এবং সংক্রমণ বাড়বে। মানুষের যাতায়াত দরকার হয়তো সেই পরিপ্রেক্ষিতে তারা এটা চালু করেছে। কিন্তু এটা করোনা পরিস্থিতির সাথে সাংঘর্ষিক। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিটা বাড়বেই।’

টেস্টের সংখ্যা আরও বাড়াতে আহ্বান জানিয়ে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘টেস্টের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। তবে এটা এক দিনেই তো বাড়ানো যায় না। অনেক ল্যাবরেটরি বলেছে তারা করবে। কিন্তু আসলে করতে পারে না। তারা ভুল রেজাল্ট দেয়। অনেকে বলে তাদের পিসিআর মেশিন আছে, কিন্তু করোনা টেস্ট করতে দেন না কেন? এরপর করতে দিলাম বা দেওয়া হলো। তাদের অনেকেই ভুল রেজাল্ট দেয়। আবার অনেকে রেজাল্টই দিতে পারে না। সাত দিনেও রেজাল্ট দেয় না। এই ধরনের কাজ করলে তাদের কি অনুমতি দেওয়া উচিত?’

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘অনেক মানুষ বলে; যাদের পিসিআর আছে, তাদের কেন পরীক্ষা করতে দিচ্ছেন না। ধরে রেখেছেন। আসলে ধরে রেখেও তো ভালো রেজাল্ট দেওয়া যাচ্ছে না। এসব আসলে মানুষকে বোঝানো মুশকিল ব্যাপার।’

advertisement