advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কল্যাণ তহবিলের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত অন্তত ৪০

সজল ছত্রী,সিলেট
২ জুন ২০২০ ২৩:৩৯ | আপডেট: ৩ জুন ২০২০ ০০:৫০
সিলেটের কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে পরিবহন শ্রমিকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষ। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সিলেটের কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে পরিবহন শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কিছু গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অন্তত ৪০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে প্রথম দফার সংঘর্ষে জড়ায় শ্রমিকরা। রাতে এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পুলিশ দুপক্ষের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠকে বসার চেষ্টা করছিল।

বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি ও সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিককে কেন্দ্র করেই মূলত এ সংঘর্ষ।

শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের প্রায় দুই কোটি টাকা সেলিম আহমদ ফলিক আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ টাকার কোনো হিসাবও তিনি দিতে পারছেন বলে শ্রমিকদের অভিযোগ। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্টে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। তারা ফলিকের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, ঈদের আগে কল্যাণ তহবিলের টাকা থেকে পরিবহন শ্রমিকদের ঈদ উপহার হিসেবে খাদ্যসামগ্রী পাঠানোর দাবি জানিয়েছিলেন কয়েকজন শ্রমিক নেতা। কিন্তু সেলিম আহমদ ফলিক এতে রাজি হননি। পরে তার কাছে তহবিলের প্রায় আড়াই কোটি টাকার হিসাব চাওয়া হলে তিনি ৪১ লাখ টাকার হিসাব দেন।

এ প্রসঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংগঠন মিতালী শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মিলাদ আহমদ রিয়াদ দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের প্রায় আড়াই কোটি টাকা থাকার কথা। কিন্তু সেলিম আহমদ ফলিক আমাদের হিসাব দিয়েছেন মাত্র ৪১ লাখ টাকার। বাকি ২ কোটি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের পুরো টাকার হিসাব না দিলে তাকে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’

ফলিকের বিরুদ্ধে পরিবহন শ্রমিকদের একটি পক্ষের এই আন্দোলনের বিপরীতে ফলিকের অনুসারীরাও মাঠে নামে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে আজ বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বাস টার্মিনাল এলাকায় উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ২০ জন। ভাঙচুর করা হয় মিতালী পরিবহনের একটি বাস ও এনা পরিবহনের কাউন্টার। ওই সময় পুলিশ ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও র‌্যাব ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এর পর দেড় ঘণ্টা পর, মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৬টার দিকে বাস টার্মিনাল এলাকায় আবারও উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বৃষ্টির মতো একপক্ষ আরেক পক্ষকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। ছোঁড়া ঢিলে এক পুলিশ সদস্যও আহত হন।

আন্দোলনকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, ফলিকের অফিস থেকে তার ছেলে শ্রমিকদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়েন। এরপরই ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকরা। এ সময় এনা বাসের কাউন্টারসহ বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করে শ্রমিকরা।

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল জানান, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকার জানান, তিনি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ মধ্যস্থতা করে ঘটনা সমাধানের চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিলেট সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত দক্ষিণ সুরমা থানার সহকারি পুলিশ কমিশনার মো. ইসমাইল জানান, সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ সেখানে অবস্থান করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করবে। দুই পক্ষের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

advertisement