advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

যেভাবে হবে রেড ইয়েলো গ্রিন জোন

দুলাল হোসেন
৩ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩ জুন ২০২০ ১০:৩০
বাসের যাত্রীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। ছবি : স্টার মেইল
advertisement

করোনাভাইরাস দেশের ৬৪ জেলায় ছড়িয়েছে। সংক্রমণ কোনো জেলায় বেশি আবার কোনো জেলায় কম। রাশ টানতে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, মৃদু ঝুঁকিপূর্ণ এবং ঝুঁকিমুক্ত অঞ্চলগুলোকে চিহ্নিত করে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন তিন জোনে ভাগ করতে কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরে একেক জোনের জন্য একেক ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জোন ভাগ ও কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে তা ঠিক করতে কাজ শুরু করেছেন জনস্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশের সব অঞ্চলে করোনার সংক্রমণের চিত্র একরকম নয়। করোনার বিস্তারের ওপর ভিত্তি করে দেশকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে ব্যবস্থা নিলে সংক্রমণ রোধ সহজ হবে। যেসব অঞ্চলে সংক্রমণ বেশি যেসব অঞ্চলকে রেড

জোন ঘোষণা করে লকডাউন দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। যেসব অঞ্চলে করোনা সংক্রমণ মৃদু সে অঞ্চলকে ইয়েলো আর কম সংক্রমণ অঞ্চলকে গ্রিন জোন ঘোষণা করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) তথ্যমতে, গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত তিনজন শনাক্ত হয়। এসব রোগী ছিল ঢাকা ও মাদারীপুর জেলার। প্রথম দিকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মাদারীপুর ক্লাস্টার এরিয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সংক্রমণ রোধে ক্লাস্টার এরিয়া লকডাউন করে স্থানীয় প্রশাসন। লকডাউন করার পর ক্লাস্টার এরিয়া মাদারীপুরে সংক্রমণ বিস্তার বেশি না হলেও ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় সংক্রমণ বাড়তে থাকে। এর পর ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে মানুষ বিভিন্ন স্থানে গমন করায় সেখানে সংক্রমণ ছড়াতে থাকে। এভাবেই একের পর এক জেলায় সংক্রমণ বিস্তার করতে করতে দেশের ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।

আইইডিসিআর তথ্যমতে, দেশে প্রথম করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা শুরু হয় ২১ জানুয়ারি। দেশে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব নমুনা পরীক্ষায় ৫২ হাজার ৪৪৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের মধ্যে ৭০৯ মারা গেছেন এবং ১১ হাজার ১২০ জন সুস্থ হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ আমাদের সময়কে বলেছেন, দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সরকারের নজরদারিতে রয়েছে। যদি সংক্রমণ আরও বাড়ে, মৃত্যু বাড়ে, সে ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হয়, লকডাউন চালু করতে হয় সরকার করবে। আমরা এখন দেখছি বাংলাদেশের কোন জায়গায় কী হচ্ছে, মৃত্যুর কীভাবে কমানো যায়, কারা মারা যাচ্ছে, কী কারণে মারা যাচ্ছে- এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে অবস্থাকে আরও সুসংহত করতে পারি সেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি। সরকার এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে, যখন যেটা প্রয়োজন সেটা করবে।

অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, করোনা সাময়িক সমস্যা নয়; একে কেউ এক-দুই মাসের সমস্যা মনে করলে ভুল করবে। করোনা অনেক দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। এখন আমাদের জানতে হবে, শিখতে হবে কীভাবে এর মোকাবিলা করে বেঁচে থাকতে হয়। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ঠিক রাখতে সব কিছু বন্ধ রাখা যাবে না। তবে আমাদের লক্ষ রাখতে যেন বেশি মানুষ সংক্রমিত বা মৃত্যু না হয়। এখন আমরা যেসব অঞ্চলে সংক্রমণ বেশি সেসব অঞ্চল নিয়ে ভাবছি। আমাদের যে বিশেষজ্ঞ কমিটি আছে ওনাদের এই বিষয়ে করণীয় কী তার পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। ওনারা ২-৩ দিনের মধ্যে পরামর্শ দেবেন। এর পরই এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে সরকার।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় গৃহীত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের লক্ষ্য সরকারের গঠিত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কমিটির ঢাকা বিভাগের দায়িত্বরত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন বলেন, একটি প্রস্তাবনা আমি তৈরি করেছি। আমাদের দুজন সদস্য এ সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রস্তুত করেছেন। বিশেষজ্ঞ কমিটি গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টায় বৈঠক করেন। সেখানে এসব প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। সভার পরামর্শ অনুযায়ী একটি সুপারিশ সম্ভব হলে রাতে না হলে বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে জমা দেব। ডিজি এটা দেখে সিদ্ধান্ত দেবেন। এর আগে কোনো কিছু বলা যাবে না। কারণ কোনোটাই চূড়ান্ত হয়নি।

জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, করোনার সংক্রমণ সারাদেশে এক রকম নয়। করোনা প্রাদুর্ভাবের ওপর ভিত্তি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে ভাগ করে সংক্রমণ রোধের ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। সরকার বিভিন্ন জোন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সংক্রমণ রোধ করা সহজ হবে।

 

 

advertisement