advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গানের নতুন আলো মোবাইল অ্যাপস

তারেক আনন্দ
৩ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩ জুন ২০২০ ০০:১৪
advertisement

অডিও ইন্ডাস্ট্রির স্বর্ণযুগ ছিল ক্যাসেট। একটা সময় লাখ লাখ কপি ক্যাসেট বিক্রি হয়েছে। এসব গল্প এখন অতীত। প্রযুক্তির থাবায় ক্যাসেটের যুগ বিলুপ্ত। এর পর এলো সিডি। সেই সিডির সময়টা খুব বেশি সুখকর ছিল না ইন্ডাস্ট্রির জন্য। প্রযুক্তির সুফল যেমন আছে, তেমনি এক শ্রেণির মানুষ এর অপব্যবহারও করতেন। সেই অপব্যববহারে খুব বেশি দিন রাজত্ব করতে পারেনি সিডি। পাইরেসির ধাক্কায় সিডির ব্যবসা একদম যাই যাই অবস্থা। ঠিক সেই সময়ে গান প্রকাশে নতুন মাধ্যম এলো ইউটিউব। ইউটিউবের ভিউ গুনে মুনাফার স্বপ্ন দেখতে থাকলেন সংগীতসংশ্লিষ্ট মানুষ। গত কয়েক বছর ইউটিউবে প্রকাশ হচ্ছে গান। ইউটিউবে গান প্রকাশ হলেও এটি বাণিজ্যিকভাবে খুব বেশি সফল হতে পারেনি। গানের লেংথ কম হওয়ায় খুব বেশি মুনাফা আসেনি ইউটিউবে গান প্রকাশে। মুঠোফোনের ওয়েলকাম টিউনও নেই বললেই চলে। বাধ্য হয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো কয়েক বছর ধরে নিজেদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে নাটকে ইনভেস্ট বাড়াতে থাকে। বর্তমান অডিও ইন্ডাস্ট্রি যখন দিশেহারা অবস্থায় ঠিক সেই সময়ে আশার আলো দেখাচ্ছে মোবাইলের অ্যাপস। গ্রামীণফোনের জিপি মিউজিক, বাংলালিংক ভাইভ, স্পø্যাশ মিউজিক, স্বাধীন, বাংলাফ্লিক্স, টেলিফ্লিক্স, বাংলার ঢোল প্রভৃতি অ্যাপস-এ গান প্রকাশে অডিও ইন্ডাস্ট্রির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছে সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো।

করোনার জন্য এবার ঈদে নতুন মিউজিক ভিডিও খুব বেশি প্রকাশ হয়নি। অল্পসংখ্যক গানের ভিডিও প্রকাশ হয়েছে, সেগুলোও নির্মিত হয়েছিল করোনার আগে। নতুন অডিও গানগুলো প্রকাশ হয়েছে অ্যাপসে।

অ্যাপসে গান প্রকাশ অডিও ইন্ডাস্ট্রির জন্য কতটা সুফল বয়ে আনবে? দেশের অন্যতম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাউন্ডটেকের কর্ণধার সুলতান মাহমুদ বাবুল বলেন, অ্যাপসের ভবিষ্যৎ খুবই ভালো দেখতে পাচ্ছি। শ্রোতারা অ্যাপস থেকে গান শুনতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি। এর জন্য সময় লাগবে। বেশিরভাগ শ্রোতা যখন অ্যাপস থেকে গান শুনবে তখন সংগীতসংশ্লিষ্ট মানুষরা অবশ্যই সুফল পাবেন।

অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিডি চয়েসের কর্ণধার জহিরুল ইসলাম সোহেল বলেন, এখন ইউটিউবে গান শোনে কম মানুষ। ভিউ নেই তেমন। অডিও গানের জন্য অ্যাপস বেস্ট। কারণ একটি গানের মিউজিক ভিডিও করলে যে পরিমান অর্থ লগ্নি করতে হয় তা মুনাফা তো দূরের কথা ইউটিউব থেকে লগ্নিকৃত টাকাই উঠে আসে না। সামনে অ্যাপসই মূল ভরসা। অ্যাপসের ভবিষ্যৎ খুবই ভালো দেখতে পাচ্ছি।

ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের কর্ণধার ধ্রুব গুহ বলেন, আসলে সময়ের পরিক্রমায় সব কিছুতেই একটা পরিবর্তন আসে এবং সেই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের কর্মপরিকল্পনাও নতুন করে সাজাতে হয়। গানের ক্ষেত্রেও তাই। ইউটিউবের ওপর নির্ভরতা একেবারে কমাতে হবে। এখন সময় এসেছে পদক্ষেপ নেওয়ার। অডিও ইন্ডাস্ট্রিকে রক্ষা করার পাশাপাশি চাঙ্গা করতে অডিও অ্যাপসের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, তবে আমি মনে করি একক প্রচেষ্টায় ফলপ্রসূ হবে না। যতটা সম্ভব সমষ্টিগতভাবে করলে উদ্দেশ্য সফল হবে। বাংলা গানের জয় হোক, গানশিল্প বাঁচুক।

অডিও মালিকদের সংগঠন মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইবি) সভাপতি ও লেজার ভিশনের চেয়ারম্যান এ. কে. এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘অ্যাপসগুলো শ্রোতাদের জন্য হতে হবে ইউজার ফ্রেন্ডলি। যাতে করে শ্রোতারা সহজে গান শুনতে এবং ডাউনলোড করতে পারেন। আমরা এমআইবির নিজস্ব অর্থায়নে একটি অ্যাপস তৈরি করেছি। আগামী দুই তিন মাসের মধ্যে হয়তো বাজারে উš§ুুক্ত করব। এই অ্যাপসের মাধ্যমে শ্রোতারা খুব সহজেই গান শুনতে এবং ডাউনলোড করতে পারবেন। এখনো অনেক শ্রোতা আছে গান দেখতে চায় না, শুধু শুনতেই চায়। আমরা তাদের গান শোনানোর ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। অ্যাপসই হবে আগামী দিনে গান শোনার প্রধান মাধ্যম। ক্যাসেটের পর সিডিতে মানুষ গান শুনতে অভ্যস্ত হয়েছিল। সিডি কভারে ওয়েলকাম টিউনও দেওয়া থাকত। যার ফলে আমরা বাণিজ্যিক দিক থেকেও কিন্তু সফল ছিলাম। এখন এমন একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, ওয়েলকাম টিউন নেই। শুধু ইউটিউবের ভিউয়ের মাধ্যমে যে অর্থ আসে তা দিয়ে এ শিল্প টিকে থাকতে পারে না। শ্রোতারা যদি অ্যাপসে গান শুনতে অভ্যস্ত হন তা হলে ঘুরে দাঁড়াবে অডিও ইন্ডাস্ট্রি।’

গানহীন মানুষ নেই বললেই চলে। মন ভালো থাকলেও মানুষ গান শোনে, মন খারাপ থাকলেও। ভালো ভালো গান প্রকাশ হোক। অডিও ইন্ডাস্ট্রির ক্রান্তিকাল দূর হোক খুব শিগগির। গানের নতুন আলো হোক মোবাইল অ্যাপস। বেঁচে থাকুক সংগীতসংশ্লিষ্ট মানুষরা।

advertisement