advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাক্ষাৎকার
‘সিনেমার জন্য অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল’

ফয়সাল আহমেদ
৩ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩ জুন ২০২০ ০০:১৪
advertisement

মডেলিং দিয়ে মিডিয়া জগতে কাজ শুরু করেন এই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা মামনুন ইমন। এর পর ২০০৭ সালে ‘দারুচিনি দ্বীপ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পা রাখেন বাংলা সিনেমাতে। গত ২৮ মে ছিল তার জন্মদিন। লকডাউনের মাঝে জন্মদিন, ঈদ এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা হলো তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেনÑ ফয়সাল আহমেদ

ঈদ কেমন কাটালেন?

এবারের ঈদটা একেবারেই সাদামাটাভাবেই কাটিয়েছি। স্পেশাল কোনো কিছুই ছিল না। ঈদের দিন বাসাতেই নামাজ পড়েছি। ঈদের পুরো সময়টা বাসাতেই ছিলাম।

লকডাউনে জন্মদিনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কিছু বলুন?

জন্মদিনের আগের দিন গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে। সেখানে এক রাত থেকে আবার ঢাকাতে ফিরে আসি। বাসাতেই কেক কাটা হয়েছে, এবার তো বাইরে কোনো প্রোগ্রাম করার সুযোগ ছিল না। জন্মদিনের দিন অনেক মানুষ শুভেচ্ছা জানিয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমে সেগুলো দেখেছি। একেবারেই ভিন্নরকম জন্মদিনের সময় কাটিয়েছি।

আপনার জন্মদিনের দিন আকবর ছবির পোস্টার মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি সম্পর্কে দর্শকদের কিছু বলুন।

এই ছবির গল্পটি আমার খুব পছন্দের। গত বছর ‘পাসওয়ার্ড’ ছবিতে আমি একেবারে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। সেই চরিত্রটা অনেক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল, সব জায়গায় প্রশংসিত হয়েছে। এর পর থেকে কাজের জায়গা থেকে দায়িত্ব বেড়ে গেছে। বেছে বেছে কাজ করার চেষ্টা করছি, এর মধ্যে ‘আকবর’ এমন একটা ছবি। গ্যাং কালচার নিয়ে ছবিটির গল্প। এই ছবিটির জন্য আমি লুক পরিবর্তন থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই পরিশ্রম করার চেষ্টা করেছি। এই ছবির স্ক্রিপ্ট থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রেই আমি জড়িত ছিলাম। করোনার জন্য ছবির কাজ এখন বন্ধ আছে।

কবে নাগাদ কাজ শুরু করতে পারবেন বলে মনে হয়?

আমাদের দেশের করোনা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি, যদিও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে লকডাউন খুলে দেওয়া হয়েছে। দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ মুহূর্তে ঠিক বলতে পারছি না কবে নাগাদ আবার কাজ শুরু হবে। পরিবেশ পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক হয়ে আসবে তখন হয়তো আবার শুরু করতে পারব।

ঈদ মানেই আমাদের সিনেমায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এবার তো সিনেমা হল সব বন্ধ। সিনেমার এই বিরাট ক্ষতি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

এক অর্থে আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল। আমাদের দেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য ঈদের সময়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ক্ষতি শুধু আমাদের দেশের জন্য নয়, ক্ষতিটা পুরো পৃথিবীর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্যই। সব দেশের এক অবস্থা। এই অদৃশ্য ভাইরাসের ওপর আসলে কারও হাত নেই। একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই পারে পৃথিবীর সবাইকে এই বিপদ থেকে মুক্ত করতে। আমি বিশ্বাস করি তিনি যখন এই বিপদ দিয়েছেন তিনিই এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার পথ সৃষ্টি করে দেবেন।

২০০৭ সাল থেকে চলচ্চিত্র জগতে আছেন। আপনি আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে সন্তুষ্ট কিনা বা কোনো আক্ষেপ আছে কি?

আমার কোনো আক্ষেপ নেই, আবার আমি সন্তুষ্টও নয়। আমি এখন নতুন নতুন ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। আমি এমন কিছু কাজ করতে চাই যাতে মানুষ সেই কাজগুলো দ্বারা সব সময় আমাকে মনে রাখবে। এভাবেই নিজেকে নিয়ে পরিকল্পনা করছিলাম এবং নিজেকে তৈরি করছিলাম।

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর মাঝে এখন আবার সবকিছু চালু হয়েছে। আপনার ভক্তদের সচেতন করার জন্য কিছু বলুন।

দুই মাস আমাদের দেশ লকডাউন ছিল। এখন অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে লকডাউন উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবাইকে বলব, লকডাউন যদিও উঠিয়ে দিয়েছে তার পরও আপনারা যখন কাজের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবেন তখন মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার করবেন। যতটা সম্ভব নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন। এখন যেহেতু দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, মানুষের তো খেয়ে বাঁচতে হবে। তার পরও সবাইকে বলব অত বেশি ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আতঙ্কিত হবেন না, সাবধানে থাকার চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব। জীবনটা চলে গেলে আপনারটাই যাবে অন্য কারোরটা

যাবে না।

advertisement