advertisement
advertisement

৮.২ শতাংশই থাকছে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা

আবু আলী
৪ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ জুন ২০২০ ০৭:১৭
advertisement

মহামারী করোনায় থমকে গেছে বিশ্ব। অর্থনীতি বিপর্যস্ত। দেশের উৎপাদন থেকে শুরু করে আমদানি-রপ্তানিতেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সেসব বিষয় মাথায় রেখে তৈরি হচ্ছে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট। সেখানে অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮.২ শতাংশ। আগামী অর্থবছরেও তা অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন এটি কোনোভাবেই অর্জন সম্ভব নয়।

তবে আগামী অর্থবছরে অর্থনীতির চাকা আবার সচল হবে এমনটা ধরে নিয়ে নতুন বাজেটে আবার বড় লক্ষ্য দিচ্ছে সরকার। অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ আমাদের সময়কে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবৃদ্ধি নিচের দিকে যাচ্ছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি বাস্তবসম্মত নয়। এ মুহূর্তে করোনা উত্তরণে কাজ করা প্রয়োজন। প্রবৃদ্ধির চেয়ে সে দিকেই নজর রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবিলা, দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে উচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার। করোনা সংকটের মতো চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জন কর্মসূচি নেওয়া হবে বাজেটে। এজন্য করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাজেট বাস্তবায়ন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের শতভাগ সাফল্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবি সম্প্রতি তাদের পূর্বাভাসে বলেছে, চলমান করোনা সংকটের মধ্যেও এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি অর্জনে শীর্ষে থাকবে বাংলাদেশ। এ জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হবে বলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এদিকে, দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। টানা দশ বছর ধারাবাহিকভাবে এ সাফল্য আসায় বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে এখন বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

জানা গেছে, প্রবৃদ্ধি অর্জনের সুফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হওয়ায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দ্রুত এগিয়ে চলছে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কাজ। পদ্মা সেতুর মতো বড় বড় প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে করা সম্ভব হচ্ছে।

করোনার মতো ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বাজেটের আকার হচ্ছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। এতে এনবিআরের রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। করোনার কারণে রাজস্ব আয় বাড়বে না এ রকম একটি ধারণা থেকে ঘাটতি বাজেট ১ শতাংশ বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার বেশি ঋণ নিতে পারবে।

এ ছাড়া দাতা সংস্থার কাছ থেকে বাজেট সহায়তা হিসেবে ৭০ হাজার কোটি টাকার তহবিল আশা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলের বড় অংশ বাজেটে বরাদ্দ রাখা হবে। এসব উদ্যোগের কারণে নতুন বাজেটে প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে বলে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেট হচ্ছে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বাজেট। এজন্য স্বাস্থ্য খাত উন্নয়ন ও কর্মসৃজন প্রকল্প উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, করোনাকালেও বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ হবে বলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবির আউটলুক ২০২০-এ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রবৃদ্ধি কমে গেলেও এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ হবে বাংলাদেশেরই।

advertisement