advertisement
advertisement

প্রতি দশ লাখে শনাক্ত ৫০ ছাড়িয়েছে

আহমদুল হাসান আসিক
৪ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ জুন ২০২০ ০৮:৪৯
advertisement

জনসংখ্যার ভিত্তিতে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তে শীর্ষে রয়েছে দেশের ২৫ জেলা। এসব জেলায় প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৫০ জনের বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থা বিবেচনায় প্রতি দশ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে আক্রান্তের সর্বোচ্চ হার ঢাকা মহানগরীতে। এখানে দুহাজার ৪০ ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন।

ঢাকা মহানগরীর বাইরে প্রতি দশ লাখে দুশর অধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে চার জেলায়। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে শনাক্ত চার শতাধিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ বাংলাদেশ কোভিড-১৯ সিচুয়েশন রিপোর্ট-১৪ পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে। গত ১ জুন পর্যন্ত সারা দেশে করোনা আক্রান্তের চিত্র পর্যালোচনা করে ২ জুন ডব্লিউএইচও এ রিপোর্ট প্রকাশ করে।

ডব্লিউএইচওর রিপোর্ট বলছে, ১ জুন পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯ হাজার ৫৩০ জন। এই হিসাবে প্রতি দশ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে দেশে আক্রান্ত হয়েছে ২৯০ দশমিক ৮ জন। ঢাকা মহানগরীতে এই হার ২ হাজার ছাড়িয়েছে। ঢাকা মহানগরীর বাইরে নারায়ণগঞ্জে ৬১৬ দশমিক ২, মুন্সীগঞ্জে ৪৩২ দশমিক ৪ জন, চট্টগ্রাম জেলায় ২৭০ দশমিক ২ জন এবং কক্সবাজারে ২৪৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রতি দশ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে শতাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬ জেলায়। এ ছাড়া ৫০-এর অধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ১৫ জেলায়।

এদিকে বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, ১ জুন পর্যন্ত দেশের ১৮ জেলায় দু’শর অধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ১৩ এপ্রিলের পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংক্রমণের চিত্র ঊর্ধ্বমুখী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় করোনা রোগী বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই লকডাউন পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে সংক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। দেশের বিভিন্ন এলাকার আক্রান্তের হারের চিত্র এমনই বার্তা দিচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা মোজাহেরুল হক আমাদের সময়কে বলেন, সংক্রমণের হার বাড়ার মধ্যেই সরকারি পদক্ষেপে যান চলাচল শুরু হয়েছে। খুলে দেওয়া হয়েছে অফিস আদালত। আগেই খুলে দেওয়া হয়েছিল পোশাক কারখানা এবং পাটকল। লকডাউন খুলে দেওয়ার বিষয়ে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার প্রথম শর্তই হচ্ছে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসতে হবে। এটাই মানা হয়নি। এতে সংক্রমণের হার আরও বাড়বে, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়বে।

ঢাকা মহানগরী ও নারায়ণগঞ্জে আক্রান্তের হার বাড়ার চিত্র : ডব্লিউএইচওর বাংলাদেশ সিচুয়েশন রিপোর্ট-১০, ১১, ১২, ১৩ এবং ১৪ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ৪ মে পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীতে প্রতি দশ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে শনাক্ত রোগী ছিল ৫৭৪ দশমিক ৮ জন এবং নারায়ণগঞ্জে ২৯২ দশমিক ৯ জন। ১৮ মে এ সংখ্যা বেড়ে ঢাকায় এক হাজার ১৫০ জন এবং নারায়ণগঞ্জে ৪১৯ দশমিক ৭ জনে দাঁড়ায়। আর ১ জুনে এসে এ সংখ্যা ঢাকায় দুই হাজার ৪০ এবং নারায়ণগঞ্জে ৬১৬ দশমিক ২ জন।

এদিকে আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুন পর্যন্ত ঢাকায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ১৩৩ জন। নারায়ণগঞ্জে এ সংখ্যা ২ হাজার ১৫৩ জন।

ঢাকা বিভাগের অন্য জেলাগুলোয় আক্রান্তের হারের চিত্র : ডব্লিউএইচও বলছে, ১ জুন পর্যন্ত জনসংখ্যার ভিত্তিতে আক্রান্তের হারে শীর্ষ ২৫ জেলার মধ্যে ঢাকা বিভাগেই ১০ জেলা। আক্রান্তের হারে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের পরেই ঢাকা জেলা। মহানগরীতে আক্রান্তের সংখ্যা বাদ দিলেও ঢাকা জেলায় প্রতি দশ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ১১৮ দশমিক ৮ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুরে ১৬৮ দশমিক ৭, ফরিদপুরে ৯৮ দশমিক ৬, শরীয়তপুরে ৮৭, মানিকগঞ্জে ৮২, নরসিংদীতে ৬৯ দশমিক ২, কিশোরগঞ্জে ৬৭ দশমিক ৭ এবং রাজবাড়ীতে ৬২ জন।

আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুন পর্যন্ত ঢাকা মহানগরী বাদে ঢাকা জেলায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৮৯ জন। এ ছাড়া গাজীপুরে এক হাজার ৭২, মুন্সীগঞ্জে ৭৫৭, ফরিদপুরে ২২৩, শরীয়তপুরে ১২৪, মানিকগঞ্জে ১৪২, নরসিংদীতে ১৮১, কিশোরগঞ্জে ২৩৩ জন এবং ৮৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

আক্রান্তের হারে শীর্ষ আরও ১৫ জেলার চিত্র : ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ জেলায় প্রতি দশ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৫০ জনের অধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২শর অধিক শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায়। চট্টগ্রাম জেলায় ২৭০ দশমিক ২ এবং কক্সবাজার জেলায় ২৪৩ জন শনাক্ত হয়। একশর অধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ফেনী জেলায়। আর ৫০-এর অধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে বান্দরবান, লক্ষ্মীপুর ও রাঙামাটিতে।

এদিকে রংপুর বিভাগে প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় ৫০-এর অধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে রংপুর জেলায়। সেখানে ১০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ১২৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন বিভাগে ১০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৫০ জনের অধিক শনাক্ত রোগী পাওয়া গেছে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, সিলেট ও চুয়াডাঙ্গায়।

আইইডিসিআর বলছে, ১ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলায় ২ হাজার ৪৬৫, কুমিল্লায় ৯৫৭, কক্সবাজারে ৭৯৮, নোয়াখালীতে ৬৬৯ এবং ফেনীতে ২২১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে ১ জুন পর্যন্ত রংপুর বিভাগের রংপুর জেলায় ৪৫৬, ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ জেলায় ৪৯১, নেত্রকোনায় ২১২, জামালপুরে ২০৫ এবং সিলেট বিভাগের সিলেট জেলায় ৪১৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

advertisement