advertisement
advertisement

চাঁদপুরে ১২ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৫ জন

উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ১৩

আমাদের সময় ডেস্ক
৪ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ জুন ২০২০ ০১:১২
advertisement

করোনার উপসর্গ জ্বর, সর্দি-কাশি নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সাত জেলায় আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে চাঁদপুরে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। এ ছাড়া পাবনা ও মুন্সীগঞ্জে ২ জন করে এবং রাজশাহী, জামালপুর, সাতক্ষীরা ও নরসিংদীতে ১ জন করে মারা গেছেন। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

চাঁদপুর : করোনা উপসর্গ নিয়ে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টায় সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক পল্লী চিকিৎসক, রাত ২টায় সদর উপজেলার কল্যান্দী গ্রামের এক বৃদ্ধ ও গতকাল সকালে একই গ্রামের এক নারী মারা যান। এ ছাড়া মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় হাজীগঞ্জ উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের বলিয়া গ্রামের এক বৃদ্ধ ও গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় হাজীগঞ্জ বাজারের

ব্যবসায়ী ও একই গ্রামের এক বাসিন্দা মারা যান। তার সবাই কয়েক দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশিসহ আরও নানান রোগে ভুগছিলেন।

পাবনা : করোনা উপসর্গ নিয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। গত ১ জুন সুজানগর উপজেলার ওই বৃদ্ধ হাসপাতালে ভর্তি হন। মঙ্গলবার তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়। গতকাল তার দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রাজশাহী ল্যাবে পাঠানো হয়। এদিকে চাটমোহরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে নজরুল ইসলাম নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। তিনি উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের আটলংকা নতুনপাড়া গ্রামের ঢলু প্রামাণিকের ছেলে। গত কয়েক দিন ধরে তিনি সর্দি-কাশি ও জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। মঙ্গলবার দিনগত রাতে অসুস্থ বোধ করলে তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সাতক্ষীরা : করোনার উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলশনে এক নারী মারা যান। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মৃত নারীর নাম আখিরন বিবি। তিনি সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের শাজাহান আলীর স্ত্রী। জ¦র, শ^াসকষ্ট ও ডায়াবেটিস নিয়ে আখিরন বিবি বুধবার বেলা ১১টার দিকে ওই হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হন। তবে ভর্তির সময় তার ডায়াবেটিসের মাত্রা খুব বেশি ছিল (৪০ পয়েন্ট)।

রাজশাহী : করোনার উপসর্গ নিয়ে রাজশাহীতে রুবিনা খাতুন নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। গত মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। রুবিনার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। তিনি জ্বর ও সর্দি-কাশি নিয়ে গত ৩০ মে রাজশাহী হাসপাতালে ভর্তি হন। সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে রাখা হয় তাকে।

মুন্সীগঞ্জ : করোনার উপসর্গ নিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি হওয়া দুজনের মৃত্যু হয়। গতকাল সকালে তারা মারা যান। করোনা উপসর্গ নিয়ে ৩১ মে ভর্তি হন সদর উপজেলার মুক্তারপুরের জহিরুল ইসলাম। সেদিনই তার নমুনা সংগ্রহ করে পর দিন পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। কিন্তু পরীক্ষার রিপোর্ট আসার আগেই তিনি মারা যান। এ ছাড়া ভোরে একই আইসোলেশন সেন্টারে মারা যান মুন্সীগঞ্জ শহরের ইদ্রাকপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম নামের এক বৃদ্ধ। তিনি মঙ্গলবার দুপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হন। ওই দিনই তার নমুনা সংগ্রহ করে গতকাল ঢাকায় পাঠানো হয়।

নরসিংদী : নরসিংদীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে নূরে আলম খন্দকার নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। বুধবার সকালে জেলার কোভিড হাসপাতালের আইসোলেশনে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নূরে আলম খন্দকার শহরের বাসাইল এলাকার আবদুর রহমান খন্দকারের ছেলে। তিনি ভেলানগর বাসস্ট্যান্ডে পরিবহনের ব্যবসা করতেন।

জামালপুর : সরিষাবাড়ীতে করোনার উপসর্গ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ফেরত সোলাইমান নামের এক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বুধবার ভোরে মারা গেলেও মৃতের নমুনা সংগ্রহ ছাড়াই দাফনের অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। সোলাইমান দুই দিন আগে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভেবলা গ্রামে ভগ্নিপতির বাড়িতে আসেন। বুধবার ভোরে হঠাৎ করেই করোনার উপসর্গ নিয়ে তার মৃত্যু হয়। তার বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া গ্রামে।

advertisement