advertisement
advertisement

অনিয়মে জড়িত ৭৫ শতাংশই আ.লীগের

ইউসুফ আরেফিন
৪ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ জুন ২০২০ ১০:৪৫
advertisement

করোনা ভাইরাসের এই মহাসংকটকালেও ত্রাণ আত্মসাৎ করছেন কিছু কিছু জনপ্রতিনিধি। অসহায় ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণের চাল, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নগদ আড়াই হাজার টাকার অনুদান এবং ওএমএসের (খোলাবাজারে বিক্রি) চাল আত্মসাতের ঘটনা ঘটেই চলেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সরকারি ত্রাণের হাজার হাজার বস্তা চাল জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ভিজিএফ ও ভিজিডি এবং ত্রাণের চাল আত্মসাৎ, নগদ টাকা বিতরণে অনিয়ম, ত্রাণপ্রত্যাশীকে মারধর, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জনসমাগম ঘটানোসহ বিভিন্ন কারণে গত আড়াই মাসে ৮৫ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, দরিদ্র মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা ও ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে গত মঙ্গলবার একদিনেই ১১ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অনিয়ম পেলেই শাস্তিমূলক এ বরখাস্ত চলবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এখন পর্যন্ত বরখাস্ত হওয়া জনপ্রতিনিধিদের ৭৫ শতাংশের বেশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে। সাড়ে ১৭ শতাংশ জনপ্রতিনিধি বিএনপির, বাকিরা স্বতন্ত্র বা অন্যান্য দলের সমর্থক।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২৭ জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ৫২ ইউপি মেম্বার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান একজন, জেলা পরিষদের সদস্য একজন এবং তিনজন পৌরসভার কাউন্সিলর সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে কেন চূড়ান্তভাবে পদ থেকে অপসারণ করা হবে না তার জবাব ১০ কার্যদিবসের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বরখাস্তদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদকে) মামলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে। ২০ থেকে ৩০ জনপ্রতিনিধি স্থায়ীভাবে বরখাস্তের হওয়ার পথে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক হলেও তাদের ছাড় দেবে না সরকার। কারণ তাদের অপকর্মে সরকার বেশ বিব্রত। জনপ্রতিনিধিদের এসব অনিয়ম দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার তার বক্তব্যে হুশিয়ারি করছেন, নিজ দলের হলেও দুর্নীতিবাজদের তিনি ছাড় দেবেন না। বাস্তবে হচ্ছেও তা-ই। এখন পর্যন্ত বরখাস্ত হওয়া জনপ্রতিনিধিদের ৭৫ শতাংশের বেশি সরকারি দলের। আমাদের সময়ের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, বরখাস্তদের ৬৪ জন আওয়ামী লীগের, ১৬ জন বিএনপির এবং ৫ জন অন্যান্য দলের।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (ইউপি-১) ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী এসব জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। চেয়ারম্যান ও সদস্যরা অন্যায় করলে সব সময়ই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে মন্ত্রাণালয় আরও বেশি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রায় আড়াই মাসে ৭৯ জন চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটি চলমান থাকবে।

তিনি বলেন, ৫৯ হাজার চেয়ারম্যান-মেম্বারকেই স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলে ত্রাণ আত্মসাৎকারীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনিয়ম প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ত্রাণ আত্মসাৎসহ অন্যান্য অনিয়ম দুর্নীতির কারণে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় বর্তমানে অনিয়মের ঘটনা কম হচ্ছে। এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। সরকারি দল বা অন্য দলের হোক কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। গরিবের চাল-ডাল নিয়ে ছিনিমিনি বরদাশত করবে না সরকার। এ মহাসংকট থেকে উত্তরণে সবাইকে সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করারও আহবান জানান তিনি।

advertisement