advertisement
advertisement

চীন ছাড়ছে নামি ব্র্যান্ড, সুযোগে বাংলাদেশ

আব্দুল্লাহ কাফি
৪ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ জুন ২০২০ ১৫:৪৪
পুরোনো ছবি
advertisement

করোনার উৎপত্তিস্থল চীন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বের বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। বিশ্বের নামিদামি ব্র্যান্ডগুলোর শিল্পকারখানা এতদিন চীনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব কোম্পানি শিল্পকারখানা অন্য দেশে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে জাপানি ৩৪টিরও বেশি কোম্পানি সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে।

চীন থেকে কারখানা সরিয়ে নিতে ২২০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ (প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা) তহবিল গঠন করেছে। চীন থেকে যারা শিল্পকারখানা সরিয়ে নেবে, তাদের এ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।

এ সুযোগ কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করতে যোগাযোগ করছে। চলমান সুযোগ-সুবিধাসহ বাড়তি কিছু সুযোগ-সুবিধা দিয়ে হলেও তাদের বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভারত রয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশের সস্তা শ্রম রয়েছে, সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা দিলে তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির কথা বলছেন কেউ কেউ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে প্রচলিত সুবিধার বাইরে বিশেষ সুবিধা দিতে হবে। যেসব দেশে এমন বিনিয়োগ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানকার সমান অথবা সম্ভব হলে বেশি সুবিধা দিতে হবে। কর ও শুল্ক ছাড়ের পাশাপাশি সহজে ব্যবসার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সহজে বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার সুযোগও থাকতে হবে।

স্বাগত জানানো হবে ওইসব খাতে বা ক্ষেত্রেÑ যেসব শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থা দেশে নেই, অথচ যা প্রয়োজন। মূলত শিল্পে উৎপাদন ব্যবস্থার অধিকতর বিকাশ ঘটাতে যা সামাজিক প্রয়োজন ও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল, সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠায় উৎসাহ ও সহায়তা দিতে হবে। যেমন পুঁজি, প্রযুক্তি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধিতে, প্রাকৃতিক সম্পদের অনুসন্ধান, জরিপ ও আহরণে, ব্যালান্স অব পেমেন্ট পরিস্থিতির উন্নয়নে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এবং অন্য যে কোনো উপায়ে অর্থনীতির সার্বিক বিকাশ সাধন হয়।

সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই বেশকিছু বিদেশি খ্যাতনামা বাণিজ্যিক সংগঠন ও কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সবার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটির সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।

আমাদের সময়কে তিনি বলেন, চীন থেকে যেসব প্রতিষ্ঠান শিল্পকারখানা স্থানান্তরের চেষ্টা করছে, তাদের সঙ্গে এফবিসিসিআই যোগাযোগ করেছে। আমরা তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। আমরা বলছি, আমরা সরকারের কাছে সুপারিশ করেছি-বর্তমানে যে সুযোগ-সুবিধা আছে তার বাইরে আরও কিছু সুবিধা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, খুব শিগগিরই আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন করা হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেওয়া হবে। সেই আলোকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

এফবিসিসিআই সূত্রে জানা গেছে, ১২ মে এফবিসিসিআই জেট্রোর ঢাকা কার্যালয়কে চিঠি দিয়েছে। এফবিসিসিআই চায়, জাপান কারখানা সরিয়ে বাংলাদেশে আনুক। এ ক্ষেত্রে সব ধরনের সহায়তা দিতে তারা আগ্রহী। সংগঠনটি একই ধরনের চিঠি দিয়েছে আঞ্চলিক বাণিজ্য সংগঠন কনফেডারেশন অব এশিয়া-প্যাসিফিক চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে (সিএসিসিআই)।

এদিকে বাংলাদেশ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে নানা ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সংস্থাটি।

জানা গেছে, বিশেষ করে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটি, কৃষি যন্ত্রাংশ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম, মোটর, মোবাইলসহ বেশকিছু খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগকারী আসবে বলে মনে হয় না। কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উৎপাদন করে হয় স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে লাভবান হয় অথবা রপ্তানি করে লাভবান হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ দুটোর কোনোটাই অনুকূলে নেই।

তিনি বলেন, স্থানীয় বাজারে লোকজনের আয় কমে গেছে। রেমিট্যান্স কমেছে, চাহিদা কমছে। পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বিদেশি বিনিয়োগে বড় প্রতিবন্ধকতা। এসব কারণে অদূরভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগ খুব একটা বাড়বে বলে আশা করা যায় না।

এফবিসিসিআইর সহ-সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, দেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে হবে। সরকার যদি দেশি বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দেন, তা হলে বিদেশিরাও মনে করবেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে সুফল পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগ খুবই জরুরি। ছাড় দিয়ে হলেও তাদের নিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্বব্যাংকের সহজে ব্যবসাসূচক বা ইজি অব ডুয়িং বিজনেসে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৬৮তম। বাংলাদেশ জাপানিদের জন্য একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে। এর জন্য ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর উন্নয়ন করছে জাপানের সুমিতমো করপোরেশন। এটি ২০২১ সালে কারখানা করার উপযোগী হবে বলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সূত্রে জানা গেছে।

সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাই এ সুযোগটা নিতে চাইবে। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। দেশের শিল্পকারখানা বাড়লে বড় দুটি লাভ হবে। একটি হচ্ছে কর্মসংস্থান বাড়বে, রপ্তানি আয় বাড়বে যোগ করেন তিনি।

advertisement