advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রণোদনা বণ্টন
ডিজিটাল হওয়ার নির্দেশ সরকারি ব্যাংকগুলোকে

হারুন-অর-রশিদ
৪ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ জুন ২০২০ ০৭:৩৮
advertisement

করোনার প্রাদুর্ভাবের ক্ষতি মোকাবিলায় সরকার ১ লাখ ৩ হাজার ১১৭ কেটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এ প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ সঠিকভাবে দ্রুত বিতরণে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। হয়রানিমুক্তভাবে ঋণ বিতরণে ওয়ান স্টপ সেবা চালু করতে হবে। ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি এড়াতে ডিজিটাল ব্যাংকিং দ্রুত চালু করতে হবে। গত মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি মালিকানাধীন ১২ ব্যাংকের কাছে এসব নির্দেশনা পাঠানো হয়।

সূত্র জানায়, সরকার ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। প্যাকেজ বাস্তবায়নে ৬৬টি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ প্যাকেজের বড় অংশ বিতরণ করতে হবে সরকারি ব্যাংকগুলোকে। কিন্তু সরকারি ব্যাংকগুলোর দ্রুত কাজের সক্ষমতা অনেক কম। বিশেষ করে ঋণ আবেদন, প্রক্রিয়াকরণ, বিতরণ ও অন্য কার্যক্রম এখনো আগের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সম্পাদনা করে থাকে সরকারি ব্যাংকগুলো, যেখানে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর বেশিরভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত সম্পাদন করে থাকে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো কোর ব্যাংকিং সফটওয়ার (সিবিএস) চালু করে অধিকাংশ কার্যক্রম ডিজিটাল সিস্টেমে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। টাকা জমা ও উত্তোলনে এটিএম বুথ চালু করে গ্রাহকদের এটিএম কার্ড দিয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে এগিয়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। দেশের ৭ হাজার ৪৩১টি এটিএম বুথের মধ্যে মাত্র ২৪০টি সরকারি ব্যাংকের। বিশেষায়িত খাতের ৬ ব্যাংকের কোনো এটিএম বুথ নেই।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকরা ব্যাংকে এলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। তাই অ্যাপস, ডিজিটাল ব্যাংকিং, ওয়ালেট চালু করলে গ্রাহকদের ব্যাংকে আসার প্রয়োজনীয়তা কমবে। ফিনটেক চালুর মাধ্যমে সারাবিশ্বে ব্যাংকিং সেবা হাতের মুঠোয়। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকিং লেনদেন ও পেমেন্ট ঘরে বসেই করা যাবে। তাই প্যাকেজ বাস্তবায়নে সরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রেখে নিরাপদ ব্যাংকিংয়ের জন্য ডিজিটাল ওয়ালেটভিত্তিক/অ্যাপস-ভিত্তিক ও ডিজিটাল ব্যাংকিং চালুর নির্দেশনা দেওয়া হলো।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম বলেন, প্যাকেজ বাস্তবায়নের আমরা কাজ শুরু করেছি। ডিজিটাল ব্যাংকিং চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে বাস্তবায়ন কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। আশা করছি খুব শিগগির কার্যকর ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা দিতে পারব। তবে অনলাইনে এখন অনেক ধরনের ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হচ্ছে।

সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর মধ্যে রয়েছে বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা, এসএমই খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের আকার ১২ হাজার ৭৫০ কোটি বৃদ্ধি, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রিশিপমেন্ট তহবিল, কৃষির জন্য ৫ হাজার কোটি, রপ্তানিমুখী শিল্প শ্রমিকদের বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি, সুদ স্থগিতে ভর্তুকি দিতে ২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনাসহ বিভিন্ন প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রণোদনা দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা, বেসিক ও বিডিবিএলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে বিশেষায়িত ৬ ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন, প্রবাসী কল্যাণ, কর্মসংস্থান, আনসার ভিডিপি ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকেও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আরও বলা হয়, প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে সরকারি ব্যাংকগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। এ জন্য ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদ কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত হয়ে যথাসময়ে প্যাকেজ বাস্তবায়ন জরুরি। প্যাকেজ বাস্তবায়নে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী চিহ্নিতকরণ, সুদের হিসাবায়ন, অর্থায়নের উৎস, ঋণের মেয়াদকাল, ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্ক, অনুমোদন প্রক্রিয়া যাবতীয় বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভায় আলোচনা করতে হবে, যেন পরিচালকরা সম্যক অবগত হতে পারেন। ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে সেবা প্রদান এবং কৃষক ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের মাঝে দ্রুততম সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ প্রদানের বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদ বিবেচনা করতে পারে।

উল্লেখ্য, দেশে ১৬টি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু আছে। তবে সরকারি ব্যাংকগুলোর একটিও নেই। কয়েকটি সরকারি ব্যাংক বিকাশ, রকেট, শিওর ক্যাশসহ কয়েকটি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কিছু সেবা দিচ্ছে।

advertisement