advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল পাচ্ছে না চট্টগ্রাম পুলিশ

হামিদ উল্লাহ চট্টগ্রাম
৪ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ জুন ২০২০ ০১:১২
advertisement

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর গত এপ্রিল ও মে মাসে চট্টগ্রামে মোট ৩৩৪ পুলিশ সদস্য করোনা পজিটিভ হয়েছেন। মারা গেছেন পাঁচ জন। শঙ্কার কথা হলো, অন্য রোগীরা যেভাবে সুস্থ হয়ে উঠছেন, পুলিশ বিভাগে এই সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যা খুবই কম। এর কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়াকে। নিজেদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল চেয়েছিল পুলিশ। এখনো সেটি জোটেনি।

পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, গত দুই মাসে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ১৬৮ সদস্য কোভিড-১৯ পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। আরও দুজন মারা গেছেন করোনা উপসর্গ নিয়ে। তাদের নমুনা নেওয়া হলেও ফল পাওয়া যায়নি। আর সুস্থ হয়েছেন মাত্র ৪৩ জন। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশে আক্রান্ত হয়েছেন ৭১ জন। সুস্থ

হয়েছেন মাত্র তিন জন। মারা গেছেন একজন। চট্টগ্রাম র‌্যাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮। সুস্থ হয়েছেন মাত্র দুজন। আর শিল্প পুলিশে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ৪৭ জন। সুস্থ হয়েছেন একজন। শিল্প পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার হেলাল উদ্দিন ভুঁইয়া।

চট্টগ্রামে পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, আমরা নানাভাবে চেষ্টা সত্ত্বেও এখনো একটি ডেডিকেটেড হাসপাতাল পাইনি পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য। আমরা সেটা পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। এ ধরনের হাসপাতাল না পাওয়া পর্যন্ত সীমিত পরিসরে পুলিশের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল (বিএমএইচ) ও ইমপেরিয়াল হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতাল ঘোষণার পর পুলিশ চেয়েছিল বিএমএইচে তাদের চিকিৎসা হোক। কিন্তু হাসপাতালটি চালু হওয়ার পথে দীর্ঘসূত্রতা পুলিশকে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। সরকারি আদেশের পর প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় চলে গেছে। বিএমএইচ কর্তৃপক্ষ বলছে, আরও এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে।

সরকারের সঙ্গে হাসপাতালটির সমন্বয়কারী ডা. কামরুল হাসান আমাদের সময়কে বলেন, আমরা পুলিশকে হাসপাতাল দিতে রাজি আছি। তবে আমাদের কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা নেই। বোতল সিলিন্ডার দিয়ে কাজ করতে গেলে রোগীরা প্রত্যাশিত সেবা পাবেন না। কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ হবে। পুলিশ চাইলে এ কাজে আমাদের সহযোগিতা করতে পারে। তা হলে কাজটি দ্রুত হবে। তিনি বলেন, আমরা ১০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরি করছি। ইতোমধ্যে ৯০টি শয্যা তৈরি হয়েছে। তবে চিকিৎসক-নার্সরা কোথায় থাকবেন, সেই প্রশ্নের সুরাহা হয়নি। নতুন করে নার্সও নিয়োগ দিতে হবে। এসব কাজ শেষ করতে আগামী এক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে।

জানা গেছে, বিএমএইচ কর্তৃপক্ষ আগামী এক সপ্তাহ পর হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ভর্তি করার ঘোষণা দিলেও তার আগে চিকিৎসক-নার্সদের বেতন ভাতা ও বেতনের সরকারি অংশ পাওয়া এবং চিকিৎসক-নার্সদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়।

বিএমএইচ সুনিশ্চিতভাবে না পেয়ে বিকল্প হাসপাতালের সন্ধানে নেমেছে পুলিশ। নগরীর হালিশহর এলাকায় আল মানাহিল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন একটি ১০০ শয্যার কোভিড হাসপাতালের কাজ শুরু করেছে। ইতিপূর্বে এটি মেটারনিটি হাসপাতাল ছিল। পুলিশ এই হাসপাতালটিও নিতে চায়। আল মানাহিল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন জমির উদ্দিন আমাদের সময়কে বলেন, আগামী শুক্রবার হাসপাতালটি চালু হবে। আমাদের ইচ্ছে, এর ছয়টি ফ্লোরের মধ্যে তিনটি পুলিশের জন্য বরাদ্দ রাখব। বাকি অর্ধেক অংশে সাধারণ জনগণ চিকিৎসা পাবেন। এ হাসপাতালটি হবে ১০০ শয্যার।

advertisement