advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

যেভাবে মাঠে ফিরতে পারেন টাইগাররা

এম.এম. মাসুক
৪ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ জুন ২০২০ ০২:১৪
পুরোনো ছবি
advertisement

ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার পর অনুশীলনে ফিরেছেন শ্রীলংকার ক্রিকেটাররা। করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি ছিলেন তারা। ক্রিকেটে ধীরে ধীরে এখন প্রাণ ফিরছে। আশার সঞ্চার হচ্ছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। তবে কবে মাঠে ফিরছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা, এ প্রশ্নের উত্তর এখনো কেউই জানেন না। অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নানা পরিকল্পনায় রয়েছে। এরই মধ্যে মেডিক্যাল বিভাগকে বলে দেওয়া হয়েছে ক্রিকেটারদের অনুশীলনে ফেরাতে গাইডলাইন তৈরি করে রাখার জন্য। আইসিসির গাইডলাইনের আলোকে বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগও গাইডলাইন প্রস্তুত করে রেখেছে। এখন শুধু অপেক্ষার পালা। বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, ‘আপনি খেয়াল করে দেখবেন যে যারা এরই মধ্যে ট্রেনিং শুরু করেছে, তারা একেক ভাবে একেক রকম ভাবে গাইডলাইন তৈরি করেছে। অস্ট্রেলিয়া একভাবে করেছে, আবার ইংল্যান্ড করেছে অন্যভাবে, শ্রীলংকা করেছে আরেকভাবে। আইসিসির গাইডলাইন যে পুরোপুরি মেনে গাইডলাইন তৈরি করেছে তারা, তা নয়। গাইডলাইনটা মাথার পেছনে আছে। নিজেদের দেশের মতো করে ঠিক করেছে। আমাদেরও ওভাবেই চিন্তা করতে হবে।’

নিজেদের দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী গাইডলাইন তৈরি করে রেখেছে বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগ। বিসিবি অনুমোদন দিলেই তা চূড়ান্ত হবে। এই গাইডলাইন অনুযায়ী তিনভাবে অনুশীলন শুরু করতে পারেন ক্রিকেটাররা। প্রথমটি হলোÑ সোলো ট্রেনিং। অর্থাৎ ওয়ান টু ওয়ান ট্রেনিং। এ ক্ষেত্রে এক ঘণ্টা করে একজন ক্রিকেটারকে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একজনের পর একজন যেন এক ঘণ্টায় জিম, স্কিল ট্রেনিং করতে পারেন। বিসিবির পক্ষ থেকে একজন তা মনিটরিং করবে। এতে কারোরই কারও সংস্পর্শে আসার সুযোগ থাকবে না। দ্বিতীয়টি হলোÑ এক সঙ্গে তিন মাঠে তিন ক্রিকেটারের অনুশীলন। মিরপুরে বিসিবির মূল মাঠ, একাডেমি মাঠ ও ইনডোর মাঠে তিনজন আলাদাভাবে অনুশীলন করতে পারেন। তিন মাঠেই বিসিবির লোক থাকবে। মাঠের সংখ্যা বাড়ালে ক্রিকেটারের সংখ্যাও বাড়ানো যাবে। তিনজন করে হলে প্রতিদিন ১৫ জন ক্রিকেটারকে ট্রেনিং করানো যাবে। এক জনের পর তিন জন, তিন জনের জায়গায় ৬ জন, ১০ জন, এর পর পুরো টিম। তবে সবার আগে অনুশীলনে পেস বোলারদের দিয়ে শুরু করার পরিকল্পনাও গাইডলাইনে রাখা হয়েছে। চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরী বলেন, ‘আরেকটি উপায় আছে যে শুধু পেস বোলারদের দিয়ে আমরা আগে শুরু করতে পারি। কারণ তারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবার এভাবেও হতে পারে যে আমরা তিন ট্রেনিং একসঙ্গে শুরু করতে পারি। যেমন একটা টুর্নামেন্টে আমরা যাব ঘোষণা হলো, সে ক্ষেত্রে পুরো টিম একসঙ্গে নিয়ে আমরা ট্রেনিং শুরু করতে পারি। এই তিনটি ট্রেনিংয়ের জন্য কতটা প্রস্তুতি লাগবে, কেমন লোকবল লাগবেÑ এ নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে পরিস্থিতি বুঝে। বিসিবি আমাদের বলেছে এ রকম পরিস্থিতিতে কয়েক ধরনের পরিকল্পনা করে রাখার জন্য। তিন পরিস্থিতির জন্যই আমাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তাই আমরা প্রস্তুত করে রেখেছি।’

কবে নাগাদ ট্রেনিং ফিরবেন ক্রিকেটাররাÑ এ প্রসঙ্গে মেডিক্যাল বিভাগকে কিছু বলেনি বিসিবি। গাইডলাইন প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। বিসিবি যখন বলবে তখন সরঞ্জাম ও লোকবল প্রস্তুত করেই অনুশীলনের ব্যবস্থা করা করা হবে। বিসিবি গাইডলাইন চূড়ান্ত করলে ক্রিকেটারদের অনুশীলনে ফেরাতে কতদিন লাগতে পারেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে দেবাশিস চৌধুরী বলেন, ‘যদি স্কিল ট্রেনিং হয় তা হলে উইকেট দরকার। স্কিল ট্রেনিং না হলে শুধু মাঠ দরকার। উইকেট কিন্তু আমরা কয়েকটা তৈরি করে রেখেছি। আমাদের চারটি উইকেট তৈরি করা আছে (দুটি একাডেমি ও দুটি মূল মাঠে)। আমরা প্রস্তুত থাকছি। ট্রেনিং না হলে উইকেট নষ্ট হবে, আবার তৈরি করতে হবে। এজন্য তো কিছু সময় দিতেই হবে। আমাদের যদি বলা হয় যে শুধু ফিটনেস ট্রেনিং দিয়ে শুরু করো, তা হলে উইকেটের দরকার নেই। যদি মিক্সড বলা হয় (স্কিল ও ফিটনেস) সেভাবেই করা হবে। যেভাবে নির্দেশনা আসে।’ বিসিবির নির্দেশনা মোতাবেক নিজেদের ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। এরই মধ্যে প্রত্যেক ক্রিকেটারকে মনিটরিং করা হচ্ছে। নিজেদের ট্রেনিংয়ের ভিডিও করে ট্রেনারদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। বিসিবির নির্দেশনা কতটা মেনে চলছেন ক্রিকেটাররা, সেটা মনিটরিং করা হচ্ছে। অনুশীলন শুরু হলে ফিটনেসের ওপর বেশি জোর দেওয়া হবে। ট্রেনিংয়ে ফেরার অপেক্ষার প্রহর গুনছেন ক্রিকেটাররা। তবে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাকে বিসর্জন দিয়ে কোনো কিছু করা হবে না। এটাই হচ্ছে মূল বিষয়। ক্রিকেটারদের অনুশীলনে ফেরাতে সব ধরনের পূর্বপরিকল্পনা করে রেখেছে বিসিবি। কিন্তু পরিস্থিতি ভালোর দিকে নেই। কখন মাঠে ফিরবেন ক্রিকেটাররা তা সহসাই বলা যাচ্ছে না। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানান, দ্রুত মাঠে খেলা ফেরানোর পরিকল্পনায় রয়েছে বিসিবি। এ জন্য কাজও শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অনেক কিছুর ওপর নির্ভরশীল শ্রীলংকা সফর নিয়ে যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আমরা চাই খেলোয়াড়রা প্রস্তুত থাকুক এবং তাদের স্বাভাবিক কার্যকলাপ শুরু করুক। বর্তমানে খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফরা অনলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করছে এবং কীভাবে পুনরায় ক্রিকেট শুরু করা যায় সেই পরিকল্পনা করছে।’ তিনি আরও বলেন, যখন আমরা মনে করব পরিস্থিতি অনুকূলে, তখনই খেলোয়াড়দের এককভাবে অনুশীলনের অনুমতি দেবে বিসিবি। ক্রিকেটারদের অনুশীলনে ফেরা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেন, ‘আমরা পরিকল্পনা করছি। কিন্তু এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি। মাঠ প্রস্তুত করা, উইকেট প্রস্তুত করা, পরিকল্পনা করাÑ এগুলো সব করা হয়ে গেছে। আনুষঙ্গিক যা লাগে আর কী। মাঠের ভেতরে বলেন, ফিটনেসর জন্য বলেন, এগুলো সব প্রস্তুত করা। ক্রিকেটারদের মাঠে নামতে ওই সময় লাগবে না। তবে আমাদের বুঝতে হবে যে আসলে আমাদের কন্ডিশন কেমন হবে, সেটার ওপর নির্ভর করছে। আমরা দেখে-শুনে আস্তে ধীরে আগাব।’

advertisement