advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দুঃসময়েও দুর্নীতি
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দক্ষ নেতৃত্ব প্রয়োজন

৪ জুন ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ৪ জুন ২০২০ ০৮:১৫
advertisement

করোনার প্রাদুর্ভাব ঘটার পর থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশের ৮৫ জনপ্রতিনিধি অনিয়মের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন। আমরা জানি, স্থানীয় সরকারের অধীন যে পরিমাণ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রয়েছেন, তাদের তুলনায় এ সংখ্যা খুব বেশি নয়। শতকরা হিসাবে তা নগণ্যই মনে হবে। কিন্তু এখানে দুটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য। প্রথমত, তারা প্রায় সবাই ত্রাণ চুরি, ত্রাণ বিতরণ ও দরিদ্র ভাতার মতো আর্থিক সুবিধা বণ্টনে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন। দ্বিতীয়ত, তারা প্রায় সবাই ক্ষমতাসীন দলের সদস্য ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী।

দেখা যাচ্ছে, যখন সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও করোনা মহামারীর থাবা মোকাবিলায় ব্যতিব্যস্ত, অনেক মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়েও অসুস্থদের পাশে দাঁড়াচ্ছেÑ তখন একদল মানুষ যারা আবার ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, তারা আখের গোছাতে ব্যস্ত। তারা অন্যের জন্য নয়, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্যই ঝুঁকি নিতে ব্যস্ত। অথচ এই সময় ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, সেনা সদস্য ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক নিজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা রোগী কিংবা অভাবগ্রস্ত বিপন্ন মানুষের পাশে সেবা এবং ত্রাণ নিয়ে দাঁড়াচ্ছেন। এ অবস্থায় আমরা বলব, দুর্নীতিবাজ জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। কেবল সাময়িক বরখাস্তের আড়ালে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা যেন শাস্তি থেকে পরিত্রাণ না পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলেই এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হতে পারে। নয়তো সরকারের উদ্যোগ সম্পূর্ণ সফল হবে না।

বাংলাদেশের প্রশাসন ও সমাজ বরাবরই দুর্নীতির সঙ্গে সহবাস করে আসছে, এতে অংশ নিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের আড়াল করে দেওয়া ও বাঁচানোর কাজ করে থাকে। ফলে সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর হওয়ার সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে, সরকারের বিভিন্ন ভালো উদ্যোগও ভেস্তে যাচ্ছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, সমারোহপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজন, আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত নানা কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হচ্ছে।

আমরা মনে করি, করোনা মহামারী একটা সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে এই মানবিক বিপর্যয়ের দুঃসময়ে জাতিকে নৈতিকভাবে ও মূল্যবোধের দিক থেকে উন্নত করে তুলতে। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে এককভাবে জাতীয় জীবনে এমন এক বিশিষ্ট স্থানে রয়েছেনÑ যেখান থেকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে মহৎ কাজে অনুপ্রাণিত করা সম্ভব। মুক্তিযুদ্ধের আগে ও মুক্তিযুদ্ধকালে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব জাতিকে এভাবে ঐক্যবদ্ধ এবং মহৎ করে তুলেছিল। আর এ কারণেই বাঙালি জাতির পক্ষে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা সম্ভব হয়েছিল। আজ করোনাযুদ্ধে নেমে আমরা একাত্তরের চেতনায় আবারও এক ও মহৎ জাতিতে রূপান্তরিত হতে পারি। তা হলে চুরি-চাটুকারিতার দাম থাকবে না এবং প্রকৃত বীর, প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে আজ এমন একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা গ্রহণের সুযোগ এসেছেÑ যা ইতিহাসে তার স্থান আরও উচ্চে তুলবে এবং তার ও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।

advertisement