advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আশার আলো চা
বিকাশে চাই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা

৪ জুন ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ৪ জুন ২০২০ ০৮:১৫
advertisement

ধীরে ধীরে চা এ দেশে একটি কৃষিভিত্তিক শ্রমঘন শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, আমদানি বিকল্প দ্রব্য উৎপাদন এবং গ্রামীণ দারিদ্র হ্রাসকরণের মাধ্যমে চা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আরও আশার কথা হলো, করোনাকালেও অর্থনীতিতে আশার আলো দেখাচ্ছে মৌলভীবাজারের চাশিল্প। গতকাল আমাদের সময়ের একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

মৌলভীবাজারে উৎপাদিত চা দিয়েই পূরণ হয়ে থাকে দেশের বেশিরভাগ মানুষের চায়ের চাহিদা। এ কারণে সরকারের বিচক্ষণতায় বিশ্বব্যাপী মহামারী রূপ নেওয়া করোনা পরিস্থিতিতেও বন্ধ রাখা হয়নি দেশের চা বাগানগুলো। ফলে কোটি কোটি টাকা লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে চাশিল্প। চলমান বৃষ্টিপাতে সবুজ কুঁড়িতে ভরে গেছে বাগান। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সচল রয়েছে দেশের চা বাগানগুলো। অন্যদিকে আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় বাগানগুলো লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবে বলে আশা করছেন চাবিজ্ঞানীরা।

চাশিল্পকে দেশের শিল্প না বলে অনেকে আভিজাত্যের শিল্প বলে থাকেন। কারণ গুটিকয়েক মালিকের হাতে জিম্মি এ শিল্প। এ শিল্প দেখিয়ে তাদের অনেকে বেশ সুযোগ-সুবিধা নেন দেশ-বিদেশ থেকে। কিন্তু চাকেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধা নিলেও অনেকে চায়ের উন্নয়নে কাজে লাগান না! এ ব্যাপারে সরকার কঠোর হলেই বিপুল সম্ভাবনা দেখা দেবে এ শিল্পে। চা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাগানগুলোর সর্বোচ্চ কার্যকারিতাও বাড়াতে হবে। বাড়াতে হবে উৎপাদনশীলতাও। উৎপাদনশীলতায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন বৈশ্বিক গড়ের নিচে। ভারত, চীন, শ্রীলংকা ও কেনিয়া দেশগুলোর মধ্যে হেক্টরপ্রতি আড়াই হাজার কেজির কাছাকাছি উৎপাদন করে। বৈশ্বিক উৎপাদনশীলতায় এগিয়ে রয়েছে কেনিয়া। এর পরই রয়েছে ভারত ও জাপান। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আবহাওয়া চা উৎপাদনের অনুকূলে থাকলেও এখানে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন মাত্র ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ কেজির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে ক্রেতারা চায়ের রঙ, ঘ্রাণ ও স্বাদ এ তিনটি বিষয়ে গুণগত মান উন্নত করার ওপরই জোরালো তাগিদ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে চাশিল্প ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলেও যুগোপযোগী আধুনিকায়ন ও প্রত্যাশিত মানে উন্নীত হয়নি। বিকাশমান এ শিল্পের উন্নয়নে এখনই নানা কমর্সূচি নিতে হবে। সে জন্য বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে দিতে হবে নানা প্রণোদনা। এবং সেগুলোর সর্বোচ্চ ও যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো জরুরি।

advertisement