advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মশকনিধনে মহাপরিকল্পনা ডিএসসিসি মেয়রের

৪ জুন ২০২০ ০৮:৩৫
আপডেট: ৪ জুন ২০২০ ১১:৫১
advertisement

দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি থাকায় দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে নানা ধরনের বিপণিবিতানসহ রাজধানীর বেশিরভাগ স্থাপনা। ফলে এসব স্থানে জমা পানিতে জন্ম নিচ্ছে মশা। এদিকে করোনা প্রাদুর্ভাবের পর থেকে মানুষ অনেকটা ভয়েই হাসপাতালমুখী হচ্ছে না। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বলে সন্দেহ হলেও করাচ্ছে না পরীক্ষা।

গত বছরের তুলনায় এ বছর জ্বর-সর্দিতে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম হলেও বেড়ে গেছে মশা। এ নিয়ে অতিষ্ঠ রাজধানীর মানুষ। এ বছর মশানিধনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নানা উদ্যোগ দেখা গেলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ ছিল না। নতুন মেয়র হিসেবে গত ১৭ মে দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস মশকনিধনে নানা উদ্যোগ নিতে শুরু করেছেন। তৃণমূল থেকে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত মশক নিয়ন্ত্রণের পুরো কার্যক্রম ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) গত বছর ২৭৬টি ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর প্রতিবেদন পায়। সব পর্যালোচনা করে ১৭৯ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করে। গত বছর দেশে ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরেন ১ লাখ ১ হাজার ২৭ জন। ডেঙ্গুর তীব্রতা ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর তা মোকাবিলায় রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা বললেও এসবের কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের মশার ওষুধের মান, কার্যকারিতা ইত্যাদি প্রশ্নের মুখে পড়ে এবং এ সংক্রান্ত নানা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে আসে।

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস দায়িত্ব গ্রহণের পর মশকনিধন কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে গ্রহণ করেন নানা উদ্যোগ। করপোরেশন সূত্র জানায়, আগামী ১৪ জুন থেকে ডিএসসিসি এলাকার জলাশয়, লেক, খাল শনাক্ত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো শুরু হবে। পাশাপাশি নর্দমা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চালানো হবে।

মশকনিধনে যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, সেগুলো হলোÑ জীবজ নিয়ন্ত্রণ (খোলা জলাশয় ব্যবস্থাপনা ) এর আওতায় করপোরেশনের ১০টি অঞ্চলের জলাশয়ের কচুরিপানা/ আবর্জনা পরিষ্কার করে বিঘাপ্রতি জলাশয়ে আনুমানিক ৩০০০-৩৫০০ তেলাপিয়া ও ২৫টি হাঁস চাষকরণ; জলাশয়ে নিয়মিত জাল চালনা করা; বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাধ্যমে সব নর্দমা পরিষ্কার করা; রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের আওতায় প্রতিদিন প্রতি ওয়ার্ডে ৮ জন মশককর্মীর মাধ্যমে সকাল ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত লার্ভিসাইডিং এবং প্রতিদিন প্রতি ওয়ার্ডে ১০ মশককর্মীর মাধ্যমে দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ফগিং কার্যক্রম চালানো। সোর্স রিডাকশন কার্যক্রমের আওতায় অনলাইনে নগরবাসীর আবেদনের ভিত্তিতে প্রতি ওয়ার্ডে তিনজন মশককর্মীর মাধ্যমে নাগরিকদের বাসা/ কর্মস্থলের এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস কার্যক্রম ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা।

ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মীর মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। এ কমিটি মাঠপর্যায়ে প্রাপ্ত কার্যক্রমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপযুক্ত কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবেন। এক্ষেত্রে তারা ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের পরামর্শ নেবেন।
জানা যায়, ইতোমধ্যে ফজলে নূর তাপস মশার ওষুধ ক্রয়ের দায়িত্বে থাকা ভা-ার বিভাগ পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তিনি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি পরিহার করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। এর ব্যত্যয় ঘটলে চাকরিচ্যুত করা হবে বলে হুশিয়ার করেন।
এ বিষয়ে দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় বলেন, বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি মাসের ৭ তারিখ থেকেই এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে।

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এর আগে গণমাধ্যমকে বলেছিলেনÑ আমি ২৪ ঘণ্টার মেয়র। যে কোনো সময় কার্যক্রম পরিদর্শনে যাব। সে সময় স্পটে কাউকে পাওয়া না গেলে ধরে নেবেন তিনি আর ডিএসসিসিতে কর্মরত নেই। সেটি তিনি যে পর্যায়ের কর্মকর্তাই হোন না কেন।
মেয়র তাপস বলেন, মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত মশককর্মীরা এসব কাজ আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করবেন। মনিটরিংয়ের দায়িত্বে নিয়োজিতরা তা সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লার্ভিসাইডিং কাজটি সঠিকভাবে করা গেলে মশক নিয়ন্ত্রণের অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়, যদিও এটি লোকচক্ষুর অগোচরে হয়ে থাকে, তাই নাগরিকদের মধ্যে এর প্রভাব কম। তবে ফগিং করার সময় শব্দ শুনে নাগরিকরা বুঝতে পারেন যে সিটি করপোরেশন কাজ করছে।

advertisement