advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ফ্লয়েড হত্যায় জড়িত ৪ পুলিশের বিরুদ্ধেই অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
৪ জুন ২০২০ ১২:২২ | আপডেট: ৪ জুন ২০২০ ১২:২২
মিনিয়াপোলিসের বরখাস্ত চার পুলিশ কর্মকর্তা (বাম থেকে) ডেরেক চাওভিন , টু থাও, টমাস লেইন ও জে. আলেকজান্ডার কুয়ং। ছবি: রয়টার্স
advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার ঘটনায় জড়িত চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এদের মধ্যে ফ্লয়েডকে চেপে ধরা পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ছাড়া অপর তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন করে হত্যাকাণ্ডে সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৫ মে সোমবার মিনিয়াপোলিসের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার চলাকালে ৪৬ বছর বয়সী ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে রাস্তার সঙ্গে প্রায় ৯ মিনিট ধরে চেপে ধরে রাখেন শ্বেতাঙ্গ এক পুলিশ কর্মকর্তা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে সেই ঘটনাটি ধরা পড়ে।

৯ মিনিট ধরে রাস্তার সঙ্গে ঘাড় চেপে রাখায় অচেতন হয়ে পড়া ফ্লয়েডকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শুরু হওয়া প্রতিবাদ নয়দিন ধরে অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার পরদিনই জড়িত চার পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। এদের মধ্যে ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু তুলে দেওয়া ৪৪ বছর বয়সী ডেরেক চাওভিনও আছেন। তাকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। এরপর অপর তিন পুলিশ কর্মকর্তা- টমাস লেইন, জে. আলেকজান্ডার কুয়ং ও টু থাও-য়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়।

অবশেষে তদন্ত শেষে বুধবার ওই চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই অপরাধের অভিযোগ এনেছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। চাওভিন ছাড়া বাকি তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিরস্ত্র ফ্লয়েডকে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ ঘোষণা করে মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল কেইথ এলিসন বলেছেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই অভিযোগ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিচারে জয় পাওয়া কঠিন হবে। ইতিহাস বলছে এতে চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট।’

এদিকে, আদালতে পেশ করা মামলার নথির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চাওভিনের বিরুদ্ধে মিনেসোটা রাজ্য আইনে খুনের তিনটি ধারার মধ্যে সবচেয়ে কম গুরুতর থার্ড-ডিগ্রি মার্ডার ও পরিস্থিতির দাবি ছাড়াই মানব হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

কিন্তু নতুন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাওভিনের সর্বোচ্চ ৪০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এই সাজার মেয়াদ থার্ড-ডিগ্রি সাজার মেয়াদ থেকে ১৫ বছর বেশি।

আর তার সঙ্গে থাকা অপর তিন পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডারে সহযোগিতা ও পরিস্থিতির দাবি ছাড়াই মানব হত্যায় সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদেরও সর্বোচ্চ ৪০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।

ফ্লয়েডের পরিবারের আইনজীবী বেনজামিন ক্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ন্যায়বিচারের পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জর্জ ফ্লয়েডের দেহ সমাহিত করার আগেই গুরুত্বপূর্ণ এই পদক্ষেপ নেওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।’

ফ্লয়েডের মৃত্যুর দিন রাতেই মিনিয়াপোলিসজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই উত্তাল বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের দমাতে কাঁদুনে গ্যাস, পেপার স্প্রে ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে পুলিশ। আইন প্রয়োগকারী বাহিনীকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েন করা হয়।

রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভের সময় জনতা মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে দাঙ্গায় জড়ালে কিছুক্ষণের জন্য আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

advertisement