advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আম নিয়ে প্রতিদিন ঢাকায় ছুটবে ‘ম্যাংগো স্পেশাল’

নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
৫ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৫ জুন ২০২০ ০০:১৪
advertisement

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী-ঢাকা রুটে আজ শুক্রবার থেকে ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন’ চালু হচ্ছে। করোনাকালে মূলত এ এলাকার আম পরিবহনে চলাচল করবে ট্রেনটি। সঙ্গে বিভিন্ন স্টেশন থেকে ঢাকায় শাকসবজি, ফলমূল, ডিম, কৃষিপণ্য, বাড়ির ফার্নিচার ও রেলওয়ে আইনে বৈধ পার্সেলও বহন করবে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (পাকশী) ফুয়াদ হোসেন আনন্দ জানিয়েছেন, প্রতিদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে ঢাকায় ছুটবে ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন-১’। আর ঢাকা থেকে রাজশাহী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফেরার সময় এর নাম হবে ‘ম্যাংগো স্পেশাল-২’।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনটি চালুর বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেখানে পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ফুয়াদ হোসেন জানান, ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনটি ছয়টি ওয়াগন নিয়ে ছুটবে। প্রতিটি ওয়াগনে ৪৫ হাজার কেজি আম বহন করা যাবে। সেই হিসাবে প্রতিদিন রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২ লাখ ৭০ হাজার কেজি বা ৬ হাজার ৭৫০ মণ আম নিয়ে ঢাকায় যাবে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন। সপ্তাহের প্রতিদিনই চলাচল করবে, এর কোনো বন্ধের দিন নেই। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিকাল ৪টায় ছেড়ে আসবে। রাজশাহী স্টেশনে পৌঁছবে ৫টা ২০ মিনিটে। আধাঘণ্টা বিরতি নিয়ে ৫টা ৫০মিনিট ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে। পৌঁছবে রাত ১টায়। ঢাকা থেকে ফের ছেড়ে আসবে রাত ২টা ১৫ মিনিটে। রাজশাহী পৌঁছবে সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে। রাজশাহী স্টেশনে ২০ মিনিট থেমে ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। পৌঁছবে সকাল সোয়া ১০টায়।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে এসে ট্রেনটি আমনূরা বাইপাস, কাঁকনহাট, রাজশাহী,

সরদহ, আড়ানী ও নাটোরের আব্দুলপুর বাইপাস স্টেশনে থামবে। এসব স্থানে আমসহ পার্সেল পণ্য ট্রেনে তোলা হবে। সেখান থেকে ছেড়ে পথে টাঙ্গাইল, মির্জাপুর, কালিয়াকৈর, জয়দেবপুর, টঙ্গি, বিমানবন্দর, ক্যান্টনমেন্ট, তেজগাঁও এবং কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনটি থামবে। কমলাপুর থেকে ছেড়ে চাঁপাইয়ে ফেরার পথে তেজগাঁও, টঙ্গি, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, চাটমোহর এবং রাজশাহী স্টেশনে থামবে। তবে যাত্রাপথে কোথাও সাধারণ যাত্রী ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন’-এ তোলা হবে না।

আম পাঠাতে খরচ : রাজশাহী থেকে ঢাকায় এক কেজি আম বহনে সাধারণ কুরিয়ার সার্ভিসগুলো চার্জ করে ১০ থেকে ১৫ টাকা। অর্থাৎ কুরিয়ারে এক মণ আম রাজশাহী থেকে ঢাকায় পৌঁছতে খরচ পড়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কুরিয়ার খরচ আরও একটু বেশি। কিন্তু চালু হতে যাওয়া ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনে এক মণ আম রাজশাহী থেকে ঢাকা কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছতে খচর পড়বে ৪৭ টাকা ২০ পয়সা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি ১ টাকা ১৮ পয়সা। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেশন থেকে ঢাকায় আম পাঠাতে প্রতিকেজিতে খরচ পড়বে ১ টাকা ৩০ পয়সা। অর্থাৎ এক মণে মাত্র ৫২ টাকা।

যেভাবে বুকিং : রাজশাহী স্টেশন থেকে কেউ আম পাঠাতে চাইলে তাকে প্রথমে পার্সেল বুকিং করতে হবে। রাজশাহী স্টেশনঘেঁষা পুরনো স্টেশনে (রেলওয়ে হাসপাতালের সামনে) পণ্য বুকিং কাউন্টার। সেখানে গিয়ে বুকিং শেষে সিøপ নিয়ে স্টেশনে যেতে হবে। কুলির মাধ্যমে পণ্য ট্রেনে তুলে দিলে পৌঁছে যাবে গন্তব্যে। এ ক্ষেত্রে কুলির খরচ নিজেকে বহন করতে হবে। আম কার্টুন ও ঝুড়ির খচরও নিজেকে বহন করতে হবে।

এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মেহের কান্তি গুহ বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের এ দুর্যোগকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাষিদের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী থেকে এবারই প্রথম এ ধরনের ট্রেন চালু করা হচ্ছে। ট্রেনটি চালু করতে বৃহস্পতিবারই সব প্রস্তুতি শেষ হয়।’

advertisement