advertisement
advertisement

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আইনের প্রয়োগ চায় টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৫ জুন ২০২০ ০০:১৪
advertisement

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের সুরক্ষায় সাংবিধানিক ও আইনগত বাধ্যবাধকতার কার্যকর প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশাল বাংলাদেশ-টিআইবি। বিশ্ব পরিবেশ দিবস সামনে রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, জীববৈচিত্র্যের অমূল্য আধার সুন্দরবন বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন তথা সার্বিকভাবে প্রাণ, প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় পরিবেশ আইনগুলোর কার্যকর প্রয়োগ করতে হবে।

করোনা ভাইরাসের মহামারীর মধ্যেই শুক্রবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হবে বিশ্বে। আন্তর্জাতিক এই দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যÑ ‘জীববৈচিত্র্য’। ২০১৮ সালের এনভায়রনমেন্টাল পারফরম্যান্স ইনডেক্সে (ইপিআই) বিশ্বের ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান যে ১৭৯তম, সে কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে টিআইবির বিবৃতিতে।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে বলেন, ‘বাংলাদেশে পরিবেশ রক্ষায় বিদ্যমান আইনি কাঠামোর যথাযথ প্রয়োগে ঘাটতির কারণে জীববৈচিত্র্য যেমন লোপ পাচ্ছে, তেমনি পরিবেশ দূষণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ব্যাপক ঝুঁকির কবলে পড়েছে; বন ও জলাশয় দখল বেড়েছে; প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে; এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত হচ্ছে।’

পরিবেশ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় ‘সুশাসনের ঘাটতি, বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী-বিনিয়োগকারীদের প্রভাবনির্ভর সিদ্ধান্ত, দুর্বল তদারকি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও অনিয়ম এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাকে’ ঝুঁকির কারণ বলে মনে করে টিআইবি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে টিআইবি বলছে, ১৯৮৯ সালের পর থেকে এ

পর্যন্ত দেশে মোট ৪ লাখ ১৬ হাজার ২৫৬ একর বনভূমি ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩১ হেক্টর বনভূমি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২ লাখ ৬৮ হাজার ২৫৬ একর বনভূমি জবরদখলের শিকার হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বনভূমি ধ্বংসের কারণে ইতোমধ্যে বন্যপ্রাণীর ৩৯টি প্রজাতি বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ আরও প্রায় ৩০টি প্রজাতির অস্তিত্ব ‘মারাত্মক সংকটে’ রয়েছে, যা বনকেন্দ্রিক জীবনচক্র ও বাস্তুসংস্থানের জন্য ‘অশনিসংকেত’ বলে মনে করছে টিআইবি।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের কাছে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক রক্ষাকবচকে ‘স্থায়ীভাবে ঝুঁকির মধ্যে’ ফেলা হয়েছে।

সুন্দরবনসহ অন্যান্য পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত ও নির্মাণাধীন সব শিল্প ও কারখানা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

advertisement