advertisement
advertisement

শিবগঞ্জে খাদ্য কর্মকর্তাকে জিম্মি
নারীসহ গ্রেপ্তার ৭ আসামি রিমান্ড শেষে কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
৫ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৫ জুন ২০২০ ০০:১৪
advertisement

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের মামলায় গ্রেপ্তার তিন নারীসহ সাত আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠান আদালত।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন উপজেলার বিহার ইউনিয়নের নাটমরিচাই গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে মাসুদ রানা (২৬), একই গ্রামের আ. মান্নানের ছেলে শাকিল আহম্মেদ (২৮), পৌন এলাকার মীরের চক মহল্লার লেবু মিয়ার ছেলে বিপ্লু আকন্দ (৩০), সংসারদীঘি গ্রামের নাছের উদ্দিনের স্ত্রী তানজিলা বেগম (২৬), নাছের উদ্দিনের স্ত্রী মাহফুজা বেগম (৩৫), নাটমরিচাই গ্রামের দুলু মিয়ার মেয়ে সাথী বেগম (৩৫), সংসারদীঘি পশ্চিমপাড়া গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫)। পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন বিকালে শিবগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কামাল উদ্দিন সরকার সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে

নাগরবন্দরে খাদ্যগুদামে যাওযার সময় অজ্ঞাত দুই নারী তার অটোতে উঠে বসেন। কিছু দূর যাওয়ার পর অপর এক যুবকও উঠে অটোচালককে জিম্মি করে নাটমরিচাই গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়।

সেখানে খাদ্য কর্মকর্তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরে এক নারীকে রুমের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে ওই কর্মকর্তাকে নারী ঘটিত ব্যাপারে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা খাদ্য কর্মকর্তার ছবি ও ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করে। এ সময় তারা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তারা ৫ লাখ টাকা দাবি করে। এ সময় প্রতারক চক্রের সদস্যরা সোনালী ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা লিখে নেয় ও বিকাশের মাধ্যমে ২টি নম্বরে ৩৫ হাজার টাকা নেয়। তার পকেটে থাকা ২৩শ টাকাসহ মোট ৪৭ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।

এ ঘটনায় ওই রাতেই খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন সরকার বাদী হয়ে থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়। বৃহস্পতিবার রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ।

শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কুদতর-ই-খোদা শুভ বলেন, তিন দিনের রিমান্ডে আটকদের কাছ থেকে গুরুত্বপূণ তথ্য পাওয়া গেছে। তারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তিনি জানান, এ ঘটনার সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন জড়িত আছে। তাদের অচিরেই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। সেই সঙ্গে চেকের পাতা উদ্ধার করা হয়েছে। টাকা উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

advertisement