advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রতিবাদী কবি হুমায়ূন কবিরকে হত্যা

আমাদের সময় ডেস্ক
৬ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ জুন ২০২০ ০০:০০
advertisement

হুমায়ূন কবির, কবি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। খ্যাতিমান কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার ভাষায়Ñ ষাটের দশকের মাঝামাঝি যে কজন অমিত-সম্ভাবনাময় প্রতিবাদী তরুণের দর্পিত পদপাতে বাংলা সাহিত্য উচ্চকিত হয়েছিল, হুমায়ূন কবির তাদের অন্যতম। ঝালকাঠির রাজাপুর

থানার সাকরাইল গ্রামে ১৯৪৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর তার জন্ম। হাবিবুর রহমান হাওলাদার ও জাহানারা বেগম দম্পতির ছয় ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে হুমায়ূন কবির ছিলেন তৃতীয় সন্তান। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় বরিশাল ব্রজমোহন বিদ্যালয়ে। ১৯৬৩ সালে এই বিদ্যালয় থেকেই এসএসসি এবং ১৯৬৫ সালে ব্রজমোহন মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা সাহিত্যে অনার্স পাস করেন ১৯৬৮ সালে, ১৯৬৯ সালে এমএ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। এ কারণে তার রচনায় রাজনৈতিক চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটতে শুরু করে। এ সময় তার ‘মেরুদ- ও কবিতা’ শীর্ষক এটি নিবন্ধ তরুণ কবি মহলে বিশেষ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে ঢাকার বিভিন্ন সাহিত্য আন্দোলন, বিশেষত ‘স্বাক্ষর’ ও ‘কণ্ঠস্বর’ গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত হন। সম্পাদনা শুরু করেন ‘নিবেদিত কবিতাগুচ্ছ’ নামে একটি অনিয়মিত কবিতা পত্রিকা। ছন্দের ওপর সহজাত দখল ও নিসর্গপ্রীতি তার এ সময়কার কবিতার প্রধান অবলম্বন। হুমায়ূন কবিরের বিখ্যাত কবিতা ‘পার্শ্ববতিনী সহপাঠিনীকে’ ওই সময়ই রচিত হয়। নাটকীয় স্বগতোক্তির ঢঙে রচিত এ কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয় প্রেম। তবে নিজে একজন প্রেমিক কবি হওয়া সত্ত্বেও সমকালীন কাব্যচর্চায় আবেগের বাড়াবাড়ি মেনে নিতে পারেননি। তাই তিনি ‘নষ্ট বিশ্বাসের’ পাশাপাশি ক্লাসিক চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

হুমায়ূনের কর্মজীবন শুরু হয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে, কক্সবাজার কলেজের বাংলার অধ্যাপক হিসেবে। তবে ছয় মাস পরই ১৯৭০ সালের ৬ জুলাই তিনি বাংলা একাডেমির বৃত্তি গবেষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল জীবনানন্দ দাশ ও তার কবিতা। ১৯৭২ সালের ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাভাষা ও সাহিত্য বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের মহাপ্লাবন, স্বাধীনতাযুদ্ধÑ একজন সমাজচেতন ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে হুমায়ূন এসব ঘটনাস্রোতের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত ছিলেন। আর তাতেই প্রেমিক কবি ক্রমে ক্রমে প্রতিবাদী কবিতে রূপান্তরিত হন। কুসুমের পাশাপাশি বারুদ, বন্দুক ও ইস্পাতের নল তার কবিতায় অনায়াসে স্থান করে নিতে শুরু করল। গণঅভ্যুত্থানের প্রচ-তা, স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালির বীর্যবত্তা, স্বজন হারানোর বেদনা, আবার তারই পাশাপাশি স্বাধীন বাংলাদেশের একটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন তার রচনায় উচ্চকিত হয়ে উঠল। সংগ্রামী তরুণ লেখক গোষ্ঠীর উদ্যোগে এ সময় সংগঠিত হয় ‘লেখক সংগ্রাম শিবির’। হুমায়ূন কবির ও কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা এ সংগঠনের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ লেখক শিবিরের তৎকালীন তরুণ কর্মীদের মধ্যে আহম্মদ ছফা, ফরহাদ মাজহার, রফিক কায়সার, মুনতাসীর মামুন, হেলাল হাফিজ, রফিক নওশাদ প্রমুখের নামও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

‘বাংলাদেশ লেখক শিবিরের’ অন্যতম আহ্বায়ক থাকাকালেই ১৯৭২ সালের ৬ জুন অজ্ঞাত আততায়ীর গুলিতে নিহত হন কবি হুমায়ূন কবির। এ সময় তিনি ইন্দিরা রোডে একটি ভাড়া বাসায় বাস করতেন।

advertisement