advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চট্টগ্রামে এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য আক্রান্ত

তৈয়ব সুমন চট্টগ্রাম
৬ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ জুন ২০২০ ০০:০০
advertisement

করোনায় আক্রান্ত হওয়া দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের মাসহ পরিবারের সাত সদস্যের সবাই এখন সুস্থ। ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্যরা সুস্থ হলেও নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তার স্ত্রী, তিন মেয়ে, এক নাতনি, এক মেয়ের জামাই, ব্যক্তিগত একান্ত সহকারী এবং বাসার তিন গৃহপরিচারিকা মেয়েসহ ১১ জন। তারা সবাই নগরীর বাসায় হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানা যায়, ১৭ মে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবের পরীক্ষায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের পরিবারের ছয় সদস্য

করোনা পজিটিভ রোগী হিসেবে শনাক্ত হন। এর মধ্যে ২২ মে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউতে এস আলম পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং শিল্পপতি সাইফুল আলম মাসুদের বড় ভাই ও এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোরশেদুল আলম মারা যান। এরপর গত ২৪ মে ওই পরিবারের সদস্যরা ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ৩ জুন পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ঢাকা থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর বুধবার তারা বাড়ি ফিরেছেন। চিকিৎসা গ্রহণ করা সব সদস্য বর্তমানে করোনা নেগেটিভ, সুস্থ এবং আশঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে জানা যায়।

এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি ল্যাবে সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী ও মহিলা আওয়ামী লীগ মহানগরের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনের সর্বশেষ করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। ১২ মে হাসিনা মহিউদ্দিনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছিল। এরপর চতুর্থ দফায় ফলোআপ রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এর আগে ২৩ মে মহিউদ্দিনপুত্র বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহীনসহ গৃহকর্মীদের সবার সর্বশেষ ফলোআপ রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল।

এদিকে সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান সপরিবার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এমপির এপিএস একেএম মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল বলেন, গত ১ জুন করোনা উপসর্গ দেখা দিলে এমপির নগরীর বাসা থেকে ১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনাগুলো গত ২ জুন বিআইটিআইডিতে পরীক্ষার পর জানা যায়, এমপি মোস্তাফিজুর রহমানসহ ১১ জনের করোনা পজিটিভ। তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত সবাই নগরীর বাসায় আইসোলেশনে আছেন এবং সুস্থ আছেন। সবাই সিভিল সার্জনের পরামর্শ মেনে চলছেন।

এর আগে ২৮ মে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকু-) আসনের সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের মেয়ে ইশফাক আরা জাহান রাফিকার করোনা শনাক্ত হয়। তিনি এখনো চিকিৎসাধীন আছেন।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি আমাদের সময়কে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের তিনটি ল্যাব ও কক্সবাজার ল্যাবে ৪৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১২৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন দুজন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (কাট্টলী সার্কেল) মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) আবু হাসান সিদ্দিক এবং সহকারী কমিশনার (পতেঙ্গা সার্কেল) এহসান মুরাদ। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস উ™ভূত পরিস্থিতিতে এলাকা লকডাউন, বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে এহসান মুরাদ মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় ১৯ ও ২০ মে তিনি রাত-দিন পরিশ্রম করেছেন। সর্বশেষ ৩১ মে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তিনি। ওই দিন শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তিনি ১ জুন করোনা টেস্টের জন্য নমুনা দেন। বর্তমানে বাসায় আইসোলেশনে আছেন এহসান মুরাদ।

এর আগে ১৬ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন নাহার এবং ২৪ মে মাসুদুর রহমানের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। ১ জুন রাঙ্গুনিয়া উপজেল নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান করোনায় আক্রান্ত হন।

advertisement