advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বেশিদিন টেকেনি স্বস্তির নিঃশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ জুন ২০২০ ০০:০০
advertisement

প্রতিবছর ঈদপরবর্তী বাজারে সবজির চাহিদা ও দাম দুটোই বাড়ার প্রবণতা থাকলেও এবার করোনার কারণে তা হয়নি। চাহিদা বাড়লেও স্বাভাবিক সরবরাহে এতদিন বেশিরভাগ সবজির দামই ছিল অপরিবর্তিত। তবে স্বস্তির নিঃশ্বাস টেকেনি বেশিদিন। চলতি সপ্তাহেই আলু, পটোল, বরবটি, করলা ও পেঁপেসহ বেড়ে গেছে বেশিরভাগ সবজির দাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বেশ কিছু বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া যায়।

সবজিতে ভরপুর বাজার, তবু কেন বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে? ব্যবসায়ীদের দাবি, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টিপাতের কারণে সবজিক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। অথচ ঈদের পর বাজারে সবজির চাহিদা বেড়ে গেছে অনেক। সব মিলিয়ে দামেও এর প্রভাব পড়েছে। রমজানে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া চিচিঙ্গা এখন কিনতে হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পেঁপের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এ ছাড়া বর্তমানে কেজিতে পটোল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০, এক সপ্তাহ আগেও যা ছিল ৩০ টাকা। ৩০ থেকে ৪০ টাকার করলার কজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বরবটি কিনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহেও ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। অন্যদিকে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া গোল আলুর দাম বেড়ে ২৮ থেকে ৩৫ টাকায় উঠেছে।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর, ৮০ থেকে ১০০ টাকা। অথচ রমজানে ব্যাপক চাহিদার মধ্যেও এর দাম ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকা টমেটোর দামও বেড়েছে, ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ঢেঁড়স, ঝিঙে ও কাঁকরোলের দামও বাড়তি। এর মধ্যে ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৪০, ঝিঙে ৪০ থেকে ৫০ ও কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। এ ছাড়া কচুর লতির কেজি ৪০ থেকে ৫০ এবং মুখি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। রোজার তুলনায় কাঁচামরিচ ও শসার দামও বেড়েছে। ২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসার দাম বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা কেজি।

হঠাৎ করেই এভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতারা। রায়েরবাগ বাজারে সবজি কিনতে আসা মো. আবু বকর নামের এক প্রবীণ বলেন, ‘বাজারভর্তি সবজি, তার পরও দোকানিরা বলছে, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম। এগুলো সব অজুহাত। একটা অজুহাত পেলেই এরা দলবেঁধে কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে দেয়।’ ওই বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. হানিফ মিয়া বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টির কারণে ক্ষেতে থাকা মরিচের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে শসার মৌসুমও প্রায় শেষ। তাই এ দুটার দাম এখন বাড়তি।’ মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. সোহেল আরমান বলেন,

‘ঈদের পর মাংসের চাহিদা কমে সবজিরটা বেড়ে যায়। আর তখন দামও বেড়ে যায়। কিন্তু এবার প্রথম দিকে সবজির দাম কম ছিল। সরবরাহও ছিল চাহিদার চেয়ে বেশি। তবে চলতি সপ্তাহ থেকে বাড়তির দিকে। ঈদের আগের তুলানায় দামটা অবশ্য অনেকখানিই বেড়েছে।’

রাজধানীর সবজি সরবরাহকারী পাইকারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিয়াদ এন্টারপ্রাইজের ব্যবসায়ী বলরাম চন্দ্র দাস বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টির কারণে সবজির বেশ ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ঈদের পর সবজি পরিবহনও ব্যাহত হয়েছে। তাই রাজধানীতে সরবরাহের তারতম্য ঘটছে। এসব কারণে দামেও এর প্রভাব পড়েছে।’ হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বলরাম বলেন, ‘সবজি কাঁচাপণ্য হওয়ায় প্রতিদিনই বাজারের দরদাম ওঠানামা করে। চাহিদা বাড়ার তুলনায় সরবরাহ নেই, তাই এখন দাম বেশি। দু-একদিনের মধ্যে দাম আবার কমেও যেতে পারে।’

এদিকে ঈদের আগে দাম বাড়া পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে। বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৯ থেকে ৪৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে দেড়শ টাকার ওপরে ছিল। আদার দাম কমে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।

advertisement