advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রস্তাবিত বাজেট, প্রয়োজনের নিরিখে ভিন্নতর পর্যবেক্ষণ

এমএ বাকী খলীলী
১৮ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ জুন ২০২০ ০৯:১৬
advertisement

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৩৬ পৃষ্ঠার বক্তব্য দিয়ে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন। যে কোনো নাগরিকের মতো আমারও এ ব্যাপারে মতামত আছে। বাজেট সবাইকে খুশি করবে, তা ভাবার কোনো কারণ নেই। কারণ সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল ও দর্শনের ভিন্নতা থাকে। প্রস্তাবিত বাজেটেও তা আছে।

বাজেট প্রণয়নের পেছনে প্রধানত রাজনৈতিক দর্শন থাকে। সেই রাজনৈতিক দর্শনের ওপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। আর সেই নীতিমালার ওপর নির্ভর করে প্রণয়ন করা বাজেট। সাধারণত বাজেটের প্রধান কয়েকটি উদ্দেশ্য থাকে-১. সম্পদের দক্ষ ব্যবহার; ২. সম্পদের পুনর্বণ্টন (আয়ের অসম ব্যবধান কমানো); ৩. আর্থিক স্থিতিশীলতা; ৪. সরকারি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা; ৫. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ৬. আঞ্চলিক বৈষম্যদূরীকরণ। আমি বাজেটকে দেখতে চাচ্ছি এ ছয় উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে।

বাজেট হলো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে একটা সময়কালের রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা। করোনার কারণে খুবই কঠিন সময় পার হচ্ছে। ফলে বাজেটে কী করতে চাই বা কী অর্জন করতে চাই, তার অনেকটাই আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ওপর নির্ভর করবে। ইউরোপীয় দেশগুলোয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ; জার্মানি ও স্পেনের অবস্থা আরও খারাপ। যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি কমবে ২০ শতাংশ। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি কমবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং প্রায় ৫ কোটি লোক বেকার হবে।

যদিও কতটা কমেছে বা কমবে, সেটা বড় ব্যাপার নয়, কত সময় লাগবে পুনরুদ্ধার হতে সেটাই বড়। কেউ কেউ বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হবে ঠ বা ড বা ট বা খ ধরনের। কেউ বলে দীর্ঘ সময় লাগবে। ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হবে। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট থেকে উঠে আসতে যুক্তরাষ্ট্রের লেগেছে ১০ বছর। এবারের প্রাক্কলনও তাই। বলা হচ্ছে, ২০৩০ সালে অর্থনীতি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ সময় লাগার কারণ চাহিদার হ্রাস, কারখানা বন্ধ (লে-অফ) ঘোষণা, উচ্চ বেকারের হার ইত্যাদি। যারা লে-অফ করেছে তাদের জন্য পুনরায় শুরু হতে সময় লাগবে। আমাদের দেশেও তাই। উন্নত বিশ্বের অর্থনীতির ওপর অনেকাংশে নির্ভর করবে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি। অন্যদিকে আমরা নিশ্চিত নই করোনা কতটা সময় চলবে। যদি আরও তিন মাস চলে, তা হলে জিডিপি অনেকটাই কমবে।

স্বাভাবিক গতিতেই কি চলবে সব : বাজেটে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ঠ ধারা হবে বলে অনুমান করা হয়েছে। ২০১৯-২০ সালের প্রবৃদ্ধির হার কমিয়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয়। এবারের বাজেটে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকেই বলেছেন এটা অত্যন্ত উচ্চাশা। এটা আসলে উচ্চাশা কি? বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির প্রধান অঙ্গ সরকারি বিনিয়োগ বা ব্যয়। এবারের বাজেটেও সেতু ও রাস্তা নির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন বাজেটের প্রায় ২৯ শতাংশ এ খাতে বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সামাজিক অবকাঠামোয় বরাদ্দ প্রায় ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। একটু শঙ্কা তো রয়েই যায়।

পুনরুদ্ধার ভি ধরা হলে স্বাভাবিকভাবে অনুমান করা যায় যে, আগামী অর্থবছরে সবকিছু স্বাভাবিক চলবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতি করোনা-পূর্ব অবস্থায় আসবে। করোনা থাকুক বা না থাকুক, কৃষি খাতে কার্যক্রম চলবে আগের গতিতে। সমস্যা হলো বাজারজাতকরণ নিয়ে। গত তিন মাসে এই অবকাঠামো ঠিকভাবে চলেনি। ফলে উৎপাদক পর্যায়ে পণ্যের মূল্য কম ছিল। আরেক সমস্যা হলো সেবা খাতকে কেন্দ্র করে। ব্যাংকিং সেবা চলছে সীমিত আকারে; বীমা সেবাও তাই। পরিবহন, পর্যটন, বিমান, হোটেলসহ অন্যান্য সেবা খাতের অবস্থা করুণ। এ খাত করোনার দ্বারা প্রভাবিত। অথচ আমাদের জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান অনেক। উচ্চ প্রবৃদ্ধির আশা একদিকে যেমন স্বপ্ন অনুযায়ী কাজ করতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে কাজ না হলেও অনেককে তাদের উৎপাদনকে অতিরঞ্জিত করে তথ্য দিতে প্রভাবিত করতে পারে।

মানুষ যেন অভুক্ত না থাকে : করোনা হলো বাস্তবতা; এটার প্রভাব নিদেনপক্ষে আরও এক প্রান্তিক থাকবে; সবকিছু স্বাভাবিক হতে ন্যূনতম ছয় মাস লাগবে। যেসব দেশ সীমিত আকারে অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান উন্মুক্ত করেছিল, সেসব দেশে আবার নতুন করে করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে তা দেখা দিয়েছে। অন্য উন্নত দেশ পুরাপুরি উন্মুক্ত না হলে আমাদের অর্থনীতি সম্পূর্ণ কার্যকর হবে না। সে কারণে অনেকের মতো আমারও আশা ছিল বাজেটটি কল্যাণমুখী হবে। আমাদের বাজেটে করোনাকে কেন্দ্র করে যে কৌশল নেওয়া উচিত, সে সম্পর্কীয় চারটি কৌশলের কথা উল্লেখ করা আছে, যা খুবই প্রাসঙ্গিক। সামাজিক খাতে বরাদ্দ আরও বেশি হওয়া উচিত। আমার মতে, এই মুহূর্তে দুটি খাতে বরাদ্দ বেশি হওয়া উচিতÑ সামাজিক বেষ্টনী ও স্বাস্থ্য খাত। করোনা মোকাবিলায় এখনই স্বাস্থ্য খাতে যা করার প্রয়োজন তা করা উচিত। তার মধ্যে বাজেটে থাকা উচিত হাসপাতালের আইসিইউ বেড বৃদ্ধি করা এবং সামনে যাকে অ্যান্টিবডি ভ্যাকসিন সবাই নিতে পারে, সে সম্পর্কে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া এবং বরাদ্দ দেওয়া। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীতে আরও অনেক বেশি বরাদ্দ দেওয়ার প্রয়োজন। কারণ ইতোমধ্যে আমাদের দারিদ্র্য হার বেড়ে গেছে। বিভিন্ন সংক্ষিপ্ত গবেষণায় চিত্রটি একই দারিদ্র্যের হার এখন প্রায় ৩৫ শতাংশ। সে কারণে আবার নতুন যারা দরিদ্র হয়েছে তাদের সামাজিক বেষ্টনীর আওতায় আনা উচিত। সরকারের কাছে বর্তমানে যে তালিকা আছে, তা এখন খুব বেশি প্রাসঙ্গিক হবে না। তালিকার হালনাগাদ করে সামাজিক বেষ্টনীকে প্রসার করা উচিত। করোনাকে কেন্দ্র করে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত, মানুষ যেন অভুক্ত না থাকে।

অযৌক্তিক শুল্কে সঞ্চয় কমতে পারে : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সম্পদের দক্ষ ব্যবহার সম্পর্কিত বিষয়টি অর্জনের জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। বিনিয়োগ কয়েকটি দিক থেকে আসে-সরকারি ব্যয় বাড়লে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে; স্বল্পসুদে ব্যাংকঋণের লভ্যতা; করহার কমিয়ে ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিদের সঞ্চয় বৃদ্ধি করা, যাতে প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়ে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির ব্যাপারে সরকার বাজেটে ব্যবস্থা রেখেছে। একদিকে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে করহার কম রাখা ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে সাহায্য করবে। যদিও এটা গতানুগতিকভাবেই হয়ে আসছে। তবুও বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বর্তমান করোনা অবস্থার উল্লেখ করে করমুক্ত আয় বৃদ্ধি করেছেন এবং বিনিয়োগকে প্রভাবিত করার জন্য উচ্চ করহার কমিয়েছেন। করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা করেছেন। এই বৃদ্ধিটা যথার্থ নয়। ৩ লাখ টাকা অর্থাৎ মাসিক যাদের আয় ২৫ হাজার টাকার বেশি তারা করের সীমার মধ্যে আসবেন। কিন্তু ঢাকা শহরের জীবনধারণের যা অবস্থা, তাতে ৩৫ হাজার টাকাতেও কিছু হয় না। আমি মনে করি, সঞ্চয়কে প্রভাবিত করার জন্য করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা হওয়া উচিত। আর জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য হওয়া উচিত ৪ লাখ টাকা। বর্তমানে এর যৌক্তিকতা আরও বেশি। বিষয়টি অর্থমন্ত্রী বিবেচনা করবেন বলে আশা করি। প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উচ্চ করসীমা কমানোয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়বে বলে মনে করি।

ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয় বৃদ্ধি হোক। এটা সবার কাম্য। করমুক্ত আয়ের সীমা এবং করহার কমানোর ফলে ব্যাংকে প্রান্তিক সঞ্চয়ের হার বাড়বে। এটা না-ও হতে পারে। প্রধান কারণ আবগারি কর। সঞ্চয়ের ওপর আবগারি শুল্ক আরোপ মোটেই যৌক্তিক নয়। তার পরও শুল্কটি প্রগতিশীল নয়। প্রথম ধাপে (অর্থাৎ ১০ লাখ থেকে ১ কোটি) আরোপ শূন্য দশমিক ৩ থেকে প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ। দ্বিতীয় ধাপে (১ কোটি থেকে ৫ কোটি) শূন্য দশমিক শূন্য ৩ থেকে দশমিক ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে (৫ কোটির ওপর) শূন্য দশমিক শূন্য ৩ থেকে শূন্য দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। স্বল্প সঞ্চয়ীদের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ ব্যাংকে সঞ্চয় করতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। একদিকে সঞ্চয়ের ওপর সুদের হার ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, সেখানে আবগারি করের কারণে কার্যকর সুদের হার আরও কমে আসবে। মুদ্রাস্ফীতির হার ধরলে সঞ্চয়ের ওপর নিট সুদের হার নেতিবাচক হবে। তা ছাড়া ব্যাংকের সেবা গ্রহণের জন্য ব্যাংক একটা চার্জ নেয়। নৈতিকতার দিক থেকে এটা সঠিক নয়। আবগারি শুল্ক যদি দিতেই হয় সেটা যিনি ঋণ নেবেন, তিনি দেবেন। সরকারের উচিত হবে সঞ্চয়ের ওপর আবগারি কর নিয়ে প্রস্তাবনা প্রত্যাহার করা। এটা আগেও সঠিক ছিল না; এখনো নয়।

চাই পূর্ব-পশ্চিম বিভাজন কমানোয় মনোযোগ : আগেই বলেছি, বর্তমান অবস্থায় কৃষিই অর্থনীতির প্রধান শক্তি। বাজেট বক্তৃতাতেও তা উঠে এসেছে। গতানুগতিকভাবে কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তার জন্য তা বিশেষ প্রয়োজন। করোনার সময় আরও বেশি প্রয়োজন। কৃষিতে ব্যয় বৃদ্ধি হওয়া মানে গ্রামীণ অর্থনীতিতে তা প্রবাহিত হবে। সেদিক থেকে আমি সব সময় আশা করি কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ুক।

এতকিছু সত্ত্বেও বাজেটের লক্ষ্যের কিছু ঘাটতি আছে বলে মনে হয়। বাংলাদেশের অর্থনীতির ২০০৮ সালের পূর্ব-পশ্চিম বিভাজন বা গ্যাপ এখন বিরাজমান। প্রতিবারই মনে হয়, বাজেটে এই বিভাজন মেটানোর জন্য বিশেষ করভিত্তিক কিছু প্রণোদনা থাকবে। যদি ভুল না করে থাকি, আমার মনে হয়, এবারের বাজেটেও তার প্রতিফলন নেই। দেশের পশ্চিমাঞ্চলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকা উচিত। সম্পদের পুনর্বণ্টন ও সুষম বণ্টনের মাধ্যমে এটা অর্জন করা যেতে পারে। এই বাজেটে এটার অনুপস্থিতি অনুভব করছি।

পুঁজিবাজার নিয়ে করব্যবস্থা থাকুক এটা আমি কখনই চাই না। আমি মনে করি, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন হওয়া উচিত। অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এ ধরনের বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। বাজেটে পুঁজিবাজার নিয়ে কী আছে, এটা আমার বিবেচ্য নয়।

সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী জাকাতের টাকায়ও হোক : প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ বেড়েছে। হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। খুবই স্বাভাবিক। আমরা প্রায়ই বলে থাকি, জিডিপির তুলনায় কম। করোনার একটা বড় প্রভাব রয়েছে। আমাদের মতো দেশের জন্য ঘাটতি বাজেট হবে যেখানে আমাদের কর-স্তর খুব কম। বর্তমান অনিশ্চয়তার মধ্যে ঘাটতি বাজেট কী খুবই অপরিহার্য ছিল? আমার কাছে ঘাটতির অঙ্কটা গুরুত্বপূর্ণ। ঘাটতির অর্থায়ন কীভাবে হবে? বৈদেশিক সাহায্য কতটা আসবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ওপর। ব্যাংক থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ, আর সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে। ব্যাংক-নির্ভর ঘাটতি বাজেটের অর্থায়ন। করোনার সময় সরকার ১ লাখ কোটিরও বেশি টাকার মোটামুটি ব্যাংকভিত্তিক প্রণোদনা ঘোষণা করে। আশঙ্কা হচ্ছে, ব্যাংকের ওপর অতি চাপের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাবে। অন্যদিকে ব্যাংকের দুর্বল সুশাসনব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য ঋণখেলাপির কারণে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভিত্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। অনেকেই আমরা বলছি, জাকাতকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় আনা যেত। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় জাকাত আনা গেলে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী জাকাতের অর্থের দ্বারা পরিচালিত হতে পারত। অনেক দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিও জাকাতের মাধ্যমে অর্থায়িত হতে পারত। সরকারের উচিত হবে বিষয়টাকে ইতিবাচকভাবে দেখা।

উপসংহার : কাঠামোগত এবং ধারা অনুযায়ী এবারের বাজেটও গতানুগতিক হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে করোনার প্রভাব নিয়ে কথা বাজেট দলিলে এসেছে। কৌশলগুলো নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। আমার মনে হয়, করোনার প্রভাব আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ওপর কতটা এবং উন্নত দেশগুলো কতটা সময় নেবে করোনা-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে তার ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি এবং বাজেটের সফলতা। আমরা যত বাস্তবমুখী হব, তত সফলতা আসবে। করোনার প্রভাব আমাদের ওপর বেশ কিছুটা সময় ধরেই থাকবে; সে কারণে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকা-ের গতি পেতে সময় লাগবে। তবে দ্রুত গ্রামীণ অর্থনীতি গতি ফিরে পেলে তা কল্যাণকর ভূমিকা রাখবে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের ভাবনাটা আসা উচিত। বাজেট পাসের সময় এ ভাবনাগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে-এটাই প্রত্যশা।

এমএ বাকী খলীলী : অধ্যাপক, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক অধ্যাপক, ফিন্যান্স বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

advertisement