advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

শিক্ষার মান বৃদ্ধির প্রতি আমাদের মনোযোগ কি যথেষ্ট?

ড. নাদির জুনাইদ
২০ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ জুন ২০২০ ২১:৩৯
advertisement

কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে যে দিকগুলো বিপদগ্রস্ত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম শিক্ষা। শ্রেণিকক্ষে ক্লাস গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ আর স্মার্টফোন নেই বলে এবং দেশের বিভিন্ন দূরবর্তী অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল বলে অনলাইনে ক্লাসও নির্ভাবনায় শুরু করা যাচ্ছে না। শিক্ষাদান বন্ধ থাকার কারণে নষ্ট হওয়া সময় পুষিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা সামনের দিনগুলোতে নিতে হবে। যদি পরিস্থিতির কারণে অনলাইনেই শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন পরিচালনা করতে হয় তা হলে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশ। অর্থাৎ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ আগের মতোই আছে। সংকটজনক পরিস্থিতি মাথায় রেখে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি। ইউনেস্কোর শিক্ষাসংক্রান্ত ‘২০৩০ ফ্রেমওয়ার্ক ফর অ্যাকশন’-এ শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ আর দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মোট বাজেটের ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ আর মোট জিডিপির ২ দশমিক ০৯ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে শিক্ষা খাতে মোট জিডিপি থেকে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এবারের বাজেটে মোবাইলে কথা বলার এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে। একদিকে বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ আগের মতোই আছে, অন্যদিকে ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ, মোবাইল কলরেট বাড়ানোর কথা বলা হলো এমন এক সময়ে যখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর জন্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

বছরের পর বছর জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে যথেষ্ট বরাদ্দ না হওয়ায় দেশে মানসম্পন্ন শিক্ষা বিস্তারের ব্যাপারে রাষ্ট্রের কোন মনোভাব নির্দেশ করে? বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, নাগরিকরা মননশীল, বিচক্ষণ এবং চৌকস হয়ে না উঠলে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তারা অবদান রাখতে পারবে না। আর উঁচুমানের শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল মানুষ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়ে উঠতে পারে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ দেশে সর্বজনীন, সুপরিকল্পিত, বিজ্ঞানমনস্ক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যারা সত্যিকারভাবে বিদ্যানুরাগী, যাদের পা-িত্য আছে এবং জ্ঞানচর্চায় মগ্ন থাকার ও মানুুষের মধ্যে জ্ঞান বিতরণ করতে পারার সুযোগ যাদের গভীরভাবে আনন্দিত করে এমন মানুষরা স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সব পর্যায়ে শিক্ষকতায় এলেই কেবল দেশে উঁচুমানের শিক্ষাদান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কারণ এমন জ্ঞানবান শিক্ষকরাই বহু শিক্ষার্থীর মনের জানালা খুলে দিয়ে তাদের দেশের সম্পদে পরিণত করতে পারেন। এমন ধীসম্পন্ন শিক্ষকদের উপস্থিতির কারণে যখন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মনে হবে যে তা একটি ‘ইনটেলেকচুয়াল পাওয়ার হাউস’-এ পরিণত হয়েছে তখনই তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে হয়ে উঠবে সফল। শুধু বড় শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, সুদূর কোনো গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষক হিসেবে থাকতে হবে মেধাবী এবং বিদ্যাসক্ত ব্যক্তিদেরই। সত্যজিৎ রায়ের অপরাজিত (১৯৫৬) চলচ্চিত্রে গ্রামের স্কুলের হেডমাস্টার স্কুলছাত্র অপুকে যেমন বলেছিলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের একটা রিমোট কর্নারে পড়ে আছি বলে আমাদের যে মনটাকে ওই কোণঠাসা করে রেখে দিতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই।’

অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো দিনের শিক্ষকদের সম্পর্কে বলেছেন, শিক্ষকতা তাদের কাছে ছিল পবিত্র এক কাজ। শিক্ষকতাসংশ্লিষ্ট কোনো দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তারা লজ্জাবোধ করতেন। অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার মূল্যায়নের সময় কোনো শিক্ষার্থীকে ফার্স্টক্লাস থেকে এক নম্বর যদি কম দেওয়া হতো তবে তা চিন্তা করেই দেওয়া হতো। যে ফার্স্টক্লাস পাওয়ার যোগ্য নয়, তাকে এক নম্বর বাড়িয়েও ফার্স্টক্লাস দেওয়া হতো না। বর্তমান সময়ে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে পরীক্ষার প্রশ্ন খুব গতানুগতিক হচ্ছে কিনা এবং দুর্বল উত্তরপত্রেও উচ্চ নম্বর দেওয়া হচ্ছে কিনা আমাদের তা ভাবতে হবে। শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে অবলীলায় ছাড় দেওয়ার কারণে সাধারণ মানের শিক্ষার্থীরাও এখন খুব সহজেই ফার্স্টক্লাস পেয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন কিনা আমাদের এই জিজ্ঞাসারও মুখোমুখি হতে হবে। ভাবতে হবে জ্ঞানচর্চার প্রতি এবং শ্রেণিকক্ষে পরিশ্রম করে পড়ানোর প্রতি যাদের আগ্রহ দেখা যায় না, যাদের উচ্চতর ডিগ্রি নেই তারাও কি শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন, পদোন্নতি পাচ্ছেন?

মেধাসম্পন্ন মানুষরা যেন শিক্ষকতা পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে আগ্রহী হন সেই ব্যাপারে কি আমাদের দেশে যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে? সমাজে শিক্ষকরা সম্মানিত এই ধারণা কেবল কথায় না রেখে প্রকৃত অর্থেই শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা এবং সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা না হলে সুশিক্ষিত অনেক মানুষ শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও যে পেশায় মর্যাদা এবং সচ্ছলতা সত্যিই বেশি রাখা হয়েছে সেই পেশা বেছে নেবেন। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সব স্তরেই শিক্ষক হিসেবে দীপ্যমান ও এবং বুদ্ধিউজ্জ্বল মানুষরা না থাকলে দেশের অগণিত ছাত্রছাত্রী কোন ধরনের শিক্ষকদের কাছ থেকে জ্ঞানলাভ করবে?

অপরাজিত ছবিতে হেডমাস্টারের বলা আরও কিছু কথা উল্লেখ করি। অপুকে তিনি বলেছিলেন : ‘তুমি পড়তে ভালোবাসো? টেক্সট বুক বলছি না। এই ধরো ট্রাভেল, গ্রেটম্যানদের জীবনী, সায়েন্সের বই খুব সহজ ভাষায় লেখা। এসব বই যদি আমি দিই তা হলে পড়বে? এই আলমারিতে আমার অনেক এসব বই আছে। এসব বই না পড়লে মনের প্রসার বাড়ে না।’ হেডমাস্টার মহাশয় জানতেন কেবল পাঠ্যপুস্তকের কয়েক পাতা পড়ে পরীক্ষায় পাস করলে মনের প্রসার বাড়ানো যায় না। তাই তিনি স্কুলছাত্র অপুকে দিয়েছিলেন বিভিন্ন বই যা টেক্সট বই নয়। আমাদের সমাজে শিক্ষার্থীদের মনের প্রসার ঘটিয়ে তাদের সত্যিকারভাবে শিক্ষিত করে তোলার কার্যকর উদ্যোগ আমরা নিচ্ছি? বর্তমান সময়ে বহু কমবয়সী কি বই পড়তে ভালোবাসে? দেশে বাড়ছে লোকসংখ্যা, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে জৌলুসময় শপিংমল, ফাস্টফুডসহ বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান। ফেসবুকে, ইউটিউবে, গণমাধ্যমে বিনোদনপূর্ণ উপাদানের ছড়াছড়ি। নিজের ছবি তুলে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে আপলোড করার প্রতি কমবয়সীদের এখন গভীর আকর্ষণ। কিন্তু চিন্তাশীল বই পড়ার জন্য তাদের কি যথেষ্ট অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে?

শাহরিয়ার কবিরের বলকান থেকে বাল্টিক : বিরুদ্ধ স্রোতের যাত্রী বইয়ে উল্লেখ করা একটি তথ্য আমি আগেও আমার লেখায় উল্লেখ করেছি। প্রাসঙ্গিক বলে এই তথ্যটি উল্লেখ করছি আবারও। ১৯৮৯ সালে শাহরিয়ার কবির আলবেনিয়া গিয়েছিলেন। তখন আলবেনিয়ার লোকসংখ্যা ছিল ৩২ লাখ। আর সেই সময় আলবেনিয়ায় কেবল পাবলিক লাইব্রেরির সংখ্যাই ছিল সতেরশ। এ ছাড়া ছিল ন্যাশনাল লাইব্রেরি, স্কুল-কলেজের লাইব্রেরি। শাহরিয়ার কবির রাজধানী টিরানার রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর সময় লক্ষ করেছিলেন এমন কোনো পাড়া নেই, যেখানে বইয়ের দোকান বা পাঠাগার নেই। তখন আলবেনিয়ার প্রখ্যাত লেখক ইসমাইল কাদারের যে কোনো বইয়ের প্রথম সংস্করণ ২৫ হাজার কপি বিক্রি হতো। এই কথা শুনে বিস্মিত হয়ে শাহরিয়ার কবির বলেছিলেন, আমাদের এগারো কোটি মানুষের দেশে জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের কোনো বই ২৫ হাজার কপি বিক্রি হতে পাঁচ বছর লাগবে।

এখন ঢাকা শহরে বাস করে প্রায় দুই কোটি মানুষ। অথচ এই শহরে চিন্তাশীল বই পাওয়া যায় এমন বইয়ের দোকান আর পাঠাগারের সংখ্যা হাতেগোনা। দেশে ১৬ কোটি মানুষের জন্য কটি পাঠাগার আছে পুরো দেশে? বিভিন্ন গ্রামে কি ভালো পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে? কিছুদিন আগেই লকডাউনের সময় দেখা গিয়েছে কোনো কোনো স্থানে গ্রামের মানুষ তুচ্ছ কারণে লকডাউনের মধ্যেই টেঁটা-বল্লম নিয়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। জিজ্ঞাসা করা দরকার এমন অবিবেচক আর বোধহীন মানুষদের কোনোদিন বই পড়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে? আবার গ্রামের বিভিন্ন বয়সের অনেক মানুষকে ভাত খাওয়ার জন্য হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়। বই পড়ার বা স্কুলে যাওয়ার সুযোগ তারা কী করে পাবে? এমন অতিদরিদ্র পরিবারের মানুষরাও যেন শিক্ষালাভের সুযোগ পায় সেজন্য প্রয়োজন সুচিন্তিত পরিকল্পনা আর কার্যকর পদক্ষেপ। ঢিলেঢালা উদ্যোগ নিয়ে এই দেশের অজস্র মানুষকে বোধসম্পন্ন করা যাবে না। আর বহু মানুষ যদি সুশিক্ষা গ্রহণের কোনো সুযোগই না পায় তা হলে তাদের মনে অন্ধচিন্তা, যুক্তিহীনতা, কুসংস্কার প্রবেশ করবে সহজেই। তাদের কারণে বিপদগ্রস্ত হবে পুরো সমাজ।

শিক্ষিত মানুষদের নিজ দেশের ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যথাযথ ধারণা থাকবে তাই প্রত্যাশিত। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ শিক্ষার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এবং নীতিগত তাগিদ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে তোলার কথা এবং তাদের মনে জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারা বিকশিত করার কথা বলা হয়েছে। আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই কথাটি উচ্চারিত হয় প্রায়ই। কিন্তু নতুন প্রজন্মের মানুষরা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে গভীরভাবে জানে কিনা বা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস জানার জন্য তাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করা হয়েছে কিনা সেই অনুসন্ধান কি করা হয়? বছরের পর বছর ধরে গভীর দুঃখ নিয়ে দেখতে পাচ্ছি দেশের বিভিন্ন সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পর্কে খুব অল্পই জানে। অনেক বিখ্যাত মুক্তিযোদ্ধার নাম তারা কখনো শোনেনি। তারা জানে না শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে। তারা দেখেনি মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র। আমাদের দেশের পরিবারগুলোতে, স্কুল-কলেজে ইদানীং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তা হলে কি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনাই করা হয় না? এখন কমবয়সীরা রাস্তায় তাদের পাশে ১৯৭১ সালে ঢাকায় অপারেশন চালানো গেরিলা দলের কোনো সদস্যকে যদি দেখে তা হলে অনেকেই সেই অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাকে চিনবে না। গণমাধ্যমের প্রচারের কারণে অনেকেই সেলিব্রিটি হয়ে উঠেছেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের মতো প্রকৃত নায়কদের মুখ নতুন মানুষদের কাছে অপরিচিত, কারণ গণমাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের কমই দেখা যায়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই তৈরি হয় আগামী দিনের নাগরিকরা। তাদের মধ্যে জ্ঞান আর চিন্তার গভীরতা যত সৃষ্টি করা যাবে তারা হয়ে উঠবে তত বেশি আলোকিত আর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। তখনই তাদের কার্যকর অবদানে এবং সফল নেতৃত্বে দেশের কল্যাণ ঘটবে। শিক্ষাদান তাই কোনো মামুলি ব্যাপার নয় এবং শিক্ষার উন্নয়নের জন্য দায়সারা পদক্ষেপ নিলে তা দেশের জন্য শুভ ফল নিয়ে আসবে না। শিক্ষার উঁচু মান অর্জন করাও সহজ কোনো ব্যাপার নয়। তার জন্য প্রয়োজন সুচিন্তিত পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ, সুশিক্ষা প্রদানের জন্য উপযুক্ত মানুষদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি ও রাজনৈতিক সহযোগিতা। মানুষ আলোকিত এবং অনুভূতিশীল না হলে সমাজ নিরাপদ হবে না কারোর জন্যই। সংকটময় এই সময়ে এমন চিন্তাই করা দরকার যে, নতুন প্রজন্মের নাগরিকদের আলোকিত করার ক্ষেত্রে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে আমাদের যেন ব্যর্থতা না থাকে।

ড. নাদির জুনাইদ : অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

advertisement
Evaly
advertisement