advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

লুপ্ত যৌবন ফিরে পেয়েছে ঢাকার চারপাশের ৫ নদী
নদ-নদীদূষণ ও দখলমুক্ত রাখার বিকল্প নেই

৩০ জুন ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ২৯ জুন ২০২০ ২১:৫৯
advertisement

বাংলাদেশের ভৌগোলিক কাঠামোয় অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ নদ-নদী। সুপেয় পানির উৎস, শিল্প উৎপাদনের উৎস, ব্যবসা-বাণিজ্যের উৎস, মৎস্যসম্পদের উৎস, চাষাবাদের উৎস, ভ্রমণের উৎস, যোগাযোগের উৎসÑ এক কথায়, জীবনধারণের সব উৎস নদী। এই জনপদের সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের নিয়ামক নদী। অথচ আমরা দেশের নদীগুলো ক্রমেই ধ্বংস করে চলেছি।

প্রশাসনের নাকের ডগায় বহু নদ-নদী কল-কারখানার বর্জ্যে দূষিত হয়ে পড়েছে। ঢাকার আশপাশের ৫ নদ-নদী বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ দূষণের শিকার হওয়ার পাশাপাশি অব্যাহতভাবে দখলের শিকার হচ্ছে। কল-কারখানার রাসায়নিক দ্রব্য ও বর্জ্যে এসব নদীর পানি দূষিত হয়ে বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে গেছে। একইভাবে ব্রহ্মপুত্র, রূপসা, ভৈরব, ময়ূরসহ অনেক নদ-নদী দূষণের শিকার হয়ে ধ্বংসের পথে।

গতকাল আমাদের সময়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার আশপাশের আরও চারটি নদী যেন যৌবন ফিরে পেয়েছে। ঢাকার আশপাশের নদীগুলো দূষণের মূল একটি উৎস হলো শিল্পবর্জ্য। করোনার প্রাদুর্ভাবে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর কলকারখানা বন্ধ ছিল। ফলে দূষণ অনেকাংশে কমেছে।

আমরা জানি, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, মৎস্য আইন ও জাতীয় পানিনীতি অনুসারে নদীসহ প্রবহমান জলাভূমি দূষণ আইনত দ-নীয় অপরাধ। কিন্তু এই আইনের কেউ তোয়াক্কা করে না। করোনার এই সংকটকালীন আমরা দেখছিÑ যদি আইন মানতে বাধ্য করা হয়, তা হলেই আমরা আমাদের নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে পেতে পারি।

বলার অপেক্ষা রাখে না, নদ-নদীগুলো আমাদের দেশের প্রাণ। দূষণ ও দখলের কারণে এগুলো না বাঁচলে এর খেসারত আমাদেরই দিতে হবে। এসব নদ-নদী বাঁচাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। যেসব কলকারখানা নদ-নদী দূষণের জন্য দায়ী, সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের জীবন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদ-নদীদূষণ ও দখলমুক্ত রাখার বিকল্প নেই।

advertisement