advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মনোবিদের শরণাপন্ন ব্রড

ক্রীড়া ডেস্ক
৩০ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৯ জুন ২০২০ ২২:২৫
advertisement

করোনা সংকট কাটিয়ে সামনের মাসে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট দিয়ে ফিরতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে অন্যান্য খেলার মতো ক্রিকেটও হবে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে। ক্রিকেটারদের জন্য এই চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর ইতোমধ্যে এমন পরিস্থিতিতে খেলার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে মনোবিদের শরণাপন্ন হয়েছেন ইংল্যান্ড পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে এবার ইংলিশ গ্রীষ্মের সব ম্যাচ হবে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে। ক্রিকেটের বাস্তবতা যদিও অন্য অনেক খেলার মতো নয়, তার পরও ক্রিকেটারদের জন্য এটি হবে বড় পরীক্ষা, সাউথ্যাম্পটনে রবিবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বললেন ব্রড। তিনি বলেন, ‘ফুটবল বা রাগবির চেয়ে ক্রিকেট একটু আলাদা। ঘরোয়া ক্রিকেটে যখন লাল বলের ম্যাচ খেলি আমরা, অনেক সময়ই খুব কম দর্শকের সামনে খেলতে হয়। কাজেই শুধু দর্শকের উৎসাহই যে আমাদের ধাবিত করে বা ওই আবহের ওপর সব নির্ভর করে, তা নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে দর্শক ছাড়া খেলাটাকে অবশ্যই ভিন্ন কিছু মনে হবে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিশ্চিতভাবেই হবে মানসিক পরীক্ষা। প্রতিটি ক্রিকেটারকে এই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সেটি নিয়ে আমি খুবই সচেতন এবং এর মধ্যেই আমাদের ক্রীড়া মনোবিদের সঙ্গে কথা বলেছি যেন নিজের সেরাটা দেওয়ার মতো মানসিক অবস্থায় থাকতে পারি।’ নিজেকে খুব ভালো করে চেনেন বলেই দর্শকশূন্য মাঠের চ্যালেঞ্জের জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, জানালেন টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সফলতম পেসার (৪৮৫ উইকেট) ব্রড। তিনি বলেন, ‘আমাকে অ্যাশেজের কোনো ম্যাচ খেলতে বলুন আর কোনো প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচ, আমি জানি কোন ম্যাচে বেশি ভালো পারফরম করব।

তাই টেস্ট ম্যাচের জন্য যে মানসিকতা থাকা উচিত, তা নিশ্চিত করতে হবে আমাকে এবং জুনের শুরুতে থেকেই এটি নিয়ে কাজ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার জন্য ব্যাপারটি দুর্ভাবনার; কারণ আমি জানি, ক্রিকেটার হিসেবে আমার সেরা পারফরম্যান্সটা আসে যখন চাপে থাকি, খেলায় যখন উত্তেজনা প্রবল এবং পার্থক্য গড়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয়। এটাও জানি, কিছু কিছু পরিস্থিতিতে আমার সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্সও বেরিয়ে আসে। সেই দোলাচলেই এখন আছি।’

৩৪ বছর বয়সী পেসার জানালেন, খেলার নির্ভেজাল আনন্দটা খুঁজে পেতে দারুণ এক পরামর্শ পেয়েছেন তার মায়ের কাছ থেকে। তিনি বলেন, ‘এখানে আসার আগে মা আমাকে বলেছেনÑ ১২ বছর বয়সে ফিরে যাও, যখন যে কোনো জায়গায় ক্রিকেট খেলতে চাইতে।’ সেই মানসিকতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছি। অবশ্যই আমরা এখন ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ম্যাচ খেলছি। কিন্তু ১২ বছর বয়সে যে ব্যাপারটি ছিল, যে কোনো মূল্যে শুধু খেলতে চাইতাম। ছুটির দিন সকালে জানালার পর্দাটা সরিয়ে যদি দেখতাম বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, মনটাই খারাপ হয়ে যেত। ক্রিকেটের সেই রোমাঞ্চ ও আনন্দ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছি। এভাবে ভাবলে ভেতরে প্রাণশক্তি অনুভব করা যায়।’

আগামী ৮ জুলাই থেকে শুরু হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের টেস্ট সিরিজ। তার আগে নিজেদের মধ্যে তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ইংলিশরা। এই ম্যাচে স্কিলের ঝালাই নিয়ে যতটা ভাবনা, ব্রড তার চেয়ে বেশি ভাবছেন মানসিক প্রস্তুতি নিতে।

advertisement
Evaly
advertisement