advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার দিন শেষ

বুথে ২০০ বাসায় গেলে ৫০০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৯ জুন ২০২০ ২২:৫২
advertisement

সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার দিন শেষ। বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্তের সাড়ে তিন মাসের পর এসে করোনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করেছে সরকার। এর ফলে এখন থেকে সরকার নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে টাকা দিয়ে নমুনা পরীক্ষা করাতে হবে। বুথে উপস্থিত হয়ে নমুনা দিলে ২০০ টাকা দিতে হবে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের জন্য একই পরিমাণ টাকা লাগবে। আর বাসা থেকে নমুনা পরীক্ষার জন্য গুনতে হবে ৫০০ টাকা। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা পরিহার করতে করোনা শনাক্তকরণ আরটি-পিসিআর টেস্টের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. বিলকিস বেগম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে গত রবিবারের তারিখ উল্লেখ ছিল। কবে থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে তা বলা হয়নি। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, যে কোনো দিন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজীর আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, এটি ভুল সিদ্ধান্ত। সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, করোনা মহাদুর্যোগের সময় সব লোক যাতে সহজে পরীক্ষা করতে পারে, সেই ব্যবস্থা থাকা উচিত। কিন্তু এ সিদ্ধান্তের কারণে নিম্নবিত্ত মানুষের চিকিৎসাসেবায় আরেকটি

ধাক্কা খাবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে।

তিনি বলেন, আমাদের এখন পরীক্ষার আওতা আরও বাড়ানো উচিত। সেখানে করোনা পরীক্ষায় ফি নির্ধারণের কারণে বড় একটি শ্রেণি পরীক্ষার ব্যাপারে অনিহা তৈরি হবে। এতে করোনা সংক্রমণ বাড়বে।

মুক্তিযোদ্ধা, দুস্থ ও গরিবদের জন্য ফি কার্যকর হবে না বলে প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, এটি কে নির্ধারণ করবে? এটা অত্যন্ত জটিল, এসব মুখেই বলা যায়, কার্যকর করা সম্ভব নয়।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত করোনার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের বসবাস। গতকাল পর্যন্ত বিনাখরচে মানুষ করোনা পরীক্ষা করিয়েছে। অবশ্য বেসরকারি হাসপাতালে আগে থেকেই পরীক্ষার জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। আর বেসরকারিভাবে বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার জন্য লাগছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা পরীক্ষার জন্য ৬৮ ল্যাবরেটরি চালু আছে। এসব ল্যাবে গতকাল পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪টি নমুনা। আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০১ জন। প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৭ ৮৩ জন।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এই প্রজ্ঞাপন জারির আগে এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। তারও আগে নমুনা পরীক্ষার জন্য ফি নির্ধারণ করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে প্রস্তাব দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ বাবদ আদায় করা টাকা সরকারি কোষাগারে যাবে। এতে আরও বলা হয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা, দুস্থ ও গরিব রোগীদের চিকিৎসাসংক্রান্ত সরকারি আদেশ বহাল থাকবে। আর চিকিৎসা সুবিধা বিধিমালার আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য চিকিৎসাসংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে।

অবশ্য এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ, দুস্থ ও গরিব রোগী চিহ্নিত করা হবে কীভাবে। যারা নমুনা পরীক্ষা দিতে আসবেন; তারা যে গরিব বা অর্থ দিয়ে পরীক্ষা করার সামর্থ্য নেই- সেটি কীভাবে বিচেনায় আনা হবে।

প্রিভেন্টিন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, তার জানামতে, পৃথিবীর কোথাও এ পরীক্ষা ফি নেওয়া হয় না। বাংলাদেশে ফি নির্ধারণে সিদ্ধান্ত অগ্রহণযোগ্য। এর ফলে কোনো সামর্থ্যহীন ব্যক্তি উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও টাকার অভাবে পরীক্ষা না করলে তার থেকে ১৫/২০ জন আক্রান্ত হবে। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি চরমভাবে অসুস্থ হলে তাকে ভেন্টিলেটরে নিয়ে চিকিৎসা করাতে যে অর্থ ব্যয় হবে তাতে জাতীয় অর্থনীতির যে ক্ষতি হবে তা ২০০ বা ৫০০ টাকার চেয়ে হাজার গুণ বেশি। যারা এ বিষয়টি না বুঝে ফি নির্ধারণ করেছেন, তারা করোনা সংকটের মধ্যে সংকট আরও বাড়িয়ে দিল।

advertisement