advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

উপসর্গ নিয়ে সাংবাদিকসহ ১৪ জনের মৃত্যু

আমাদের সময় ডেস্ক
৩০ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৯ জুন ২০২০ ২২:৫২
advertisement

করোনার উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লাতেই মারা যান ৬ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে মৃত্যু হয় এক সাংবাদিকের। অন্যরা মারা যান রাজবাড়ী, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, নাটোর, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে। তাদের সবার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কুমিল্লা : কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ১ জন ও উপসর্গ নিয়ে মারা যান ৬ জন। তাদের

মধ্যে ৪ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। মৃতরা ব্যক্তিরা হলেন- চান্দিনার রাফিয়া ও আতিকা রেজি, বরুড়ার তোফাজ্জল হোসেন ও সেলিমুল ইসলাম ভূইয়া, সদর উপজেলার বিলকিস বেগম, মমতাজ বেগম ও আবু তাহের। হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. মুক্তা রানী ভূইয়া জানান, মৃত ১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন, বাকি ৬ জনই জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি ছিলেন।

রাজশাহী : জ্বর-স্বর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বাংলাদেশ বেতারের রাজশাহী প্রতিনিধি ও স্থানীয় দৈনিক সোনালী সংবাদের চিফ রিপোর্টার তবিবুর রহমান মাসুম মারা যান। গত রবিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে রাজশাহীর খ্রিস্টান মিশন হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। সপ্তাহ খানেক ধরে তিনি জ্বর-সর্দিতে ভুগছিলেন। এরপর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সাংবাদিক মাসুম ক্রীড়া লেখক হিসেবে রাজশাহীতে বেশ পরিচিত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে সাফ গেমস, এশিয়ান গেমস ও অলিম্পিক গেমসও কাভার করতে বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। রাজশাহীর ক্রীড়া লেখক পরিষদের সভাপতিও ছিলেন তিনি। তিনি দীর্ঘ দিন ধরেই সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ বেতারেও নিয়মিত অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন।

রাজবাড়ী : গোয়ালন্দে করোনার উপসর্গ নিয়ে এক ইলিশ মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। গত রবিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে গোয়ালন্দ পৌরসভার বাড়িতে তিনি মারা যান। গতকাল সকালে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পৌরসভার কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মৃতের ছেলে জানান, সারা দিন বরফজাত মাছ বেচাকেনা করায় মাঝেমধ্যে ঠা-া লাগত তার বাবার। এক সপ্তাহ ধরে ছিল জ্বর ও সর্দি। তবে রবিবার জ্বর তেমন ছিল না।

চুয়াডাঙ্গা : করোনার উপসর্গ নিয়ে বদর উদ্দিন নামে এক বৃদ্ধ গতকাল দুপুরে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা। শরীরে ব্যথা, জ্বর ও বমি নিয়ে সকালে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন পরিবারের সদস্যরা। দুপুরে মারা যান তিনি।

নাটোর : করোনা উপসর্গ নিয়ে লোকমান হোসেন নামের এক বৃদ্ধ গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। তিনি নাটোর সদর উপজেলার তেবাড়িয়ার মজনুর মোড় এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, লোকমান নারায়ণগঞ্জে চাকরি করতেন। অসুস্থ হওয়ার কারণে রবিবার রাতে লোকমান এবং তার ছেলে মামুন নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়ি ফেরেন। তার জ্বর-সর্দি এবং গলা ব্যথা ছিল।

ঝিনাইদহ : কালীগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে মুস্তাক নামে এক ব্যক্তি রবিবার রাত ১০টার দিকে মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। মুস্তাক কালীগঞ্জ পৌরসভার হেলাই ঈদগা পাড়ার মখলেচুর রহমানের ছেলে।

গাইবান্ধা : সদর উপজেলার পৌরসভার মধ্যপাড়ায় গত রবিবার রাতে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মোস্তফা লালন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি শহরের মধ্যপাড়ার বাবলু মিয়ার ছেলে। মোস্তফা দীর্ঘদিন থেকে চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করছিলেন। সেখান থেকে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন তিনি।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে কারোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন- রায়গঞ্জ উপজেলার এরানদহ কৃষ্ণদিয়া গ্রামের হামিদুর রহমান ও শহরের মিরপুর বিড়ালাকুঠি মহল্লার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবুল হোসেন। হামিদুর রহমান করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি স্ট্যাম্প ভেন্ডার হিসেবে সিরাজগঞ্জ প্রধান ডাকঘরে কর্মরত ছিলেন এবং শহরের ভাঙ্গাবাড়ি মহল্লায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। গতকাল সোমবার তিনি মারা যান। এদিকে আবুল হোসেন ৫ দিন আগ থেকে জ্বরে ভুগছিলেন। রবিবার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে তিনি মারা যান।

জামালপুর : করোনার উপসর্গ নিয়ে ইদ্রিস আলী নামে জামালপুর জেলা পরিষদের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারী গতকাল দুপুর ১২টার দিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। ১০ দিন আগে তিনি জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে ছুটি দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়। রবিবার তার প্রচ- শ^াসকষ্ট শুরু হয়। তাকে প্রথমে জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের আইসোলেশনে নেওয়া হয়। করোনা পরীক্ষা ছাড়া সেখানে চিকিৎসা করানো সম্ভব না হওয়ায় তাকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই সময় তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

advertisement