advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আমরণ অনশনে যাবে পাটকল শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা ও অভয়নগর প্রতিনিধি
৩০ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৯ জুন ২০২০ ২৩:০৭
advertisement

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক প্রদানের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকলের শ্রমিকরা নিজ নিজ মিলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা শ্রমিকরা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রয়াত্ত পাটকল রক্ষা সিবিএÑনন-সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শ্রমিক নেতারা বলেন, ৩০ জুনের মধ্যে সরকারি এ সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে ১ জুলাই থেকে শ্রমিকরা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্ব-স্ব মিলগেটে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবেন। তারা জানান, সারাদেশে পাটকলের সঙ্গে প্রায় ৩ কোটি মানুষের রুটিরুজি জড়িত। পাটকল বন্ধ করলে তাদের পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।

সংগ্রাম পরিষদ আহ্বায়ক সরদার আব্দুল হামিদ জানান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন অনুয়ায়ী

ব্যক্তি মালিকানা পাটকল মালিকদের যড়যন্ত্র ও আমলাতন্ত্রের চক্রান্তে ২৫ জুন আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সরকারি ২৫টি পাটকলে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাটমন্ত্রীর সঙ্গে দুপুরে (গতকাল) রাষ্ট্রয়াত্ত পাটকল রক্ষা সিবিএÑনন-সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকের ফল অনুযায়ী তারা কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন।

এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোতে ক্রমাগত লোকসানের স্থায়ী সমাধান, কর্মরত শ্রমিকদের গোল্ডেল হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে শতভাগ পাওনা পরিশোধ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে মিলগুলো চালুর ব্যাপারে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে খুলনা জেলা প্রশাসন। খুলনা সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তলুকদার আব্দুল খালেক। সভাপতিত্ব করেন খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।

খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। শ্রমিকদের কথা চিন্তা করেই সরকার এ পর্যন্ত পাটকলগুলোতে ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে মিলগুলোর আধুনিকায়ন করেই চালু করা হবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে মিলগুলো বন্ধ হবে না, আবার শ্রমিক বেকারও হবে না। পরবর্তীতে এই শ্রমিকদেরই মিলে কর্মসংস্থান অব্যাহত থাকবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী দুই মাস আগে অর্থাৎ আগামীকাল (৩০ জুন) সরকারের পক্ষ থেকে নোটিশ দিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। ইতোমধ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সভায় এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের সকল বকেয়া পাওনা ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪০ শতাংশ এবং বাকি ৬০ শতাংশ পাওনা টাকা পরবর্তী দুটি অর্থবছরে ৩০ শতাংশ করে পরিশোধ করা হবে। এ ছাড়া ২০১৪ সাল থেকে অবসরে যাওয়া শ্রমিকদের পাওনা এককালীন পরিশোধ করা হবে।

তিনি আরও জানান, সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিটি শ্রমিক প্রায় সাড়ে ১২ লাখ থেকে ৫৪ লাখ পর্যন্ত টাকা পাবেন। মিলগুলো পরবর্তীতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে চালু হলে এসব মিলে কর্মরত দক্ষ শ্রমিকরাই নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

এদিকে যশোরের অভয়নগর উপজেলায় রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি পাটকল যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ (জেজেআই) ও কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন। পাটকল দুটি বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে স্ব-স্ব মিলের অভ্যন্তরে এ কর্মসূচি পালন করেন।

গত রবিবার সন্ধ্যায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে সভা করে দেশের ২৬টি পাটকল ১ জুলাই থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সকাল ৯টায় জেজেআইয়ের শ্রমিকমঞ্চের চারধারে পাঁচশতাধিক শ্রমিক অবস্থান নেন। এ সময় মিলটির সিবিএ সভাপতি মো. ইকবাল খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সিবিএ সম্পাদক কামরুজ্জাম চুন্নু, সাবেক সিবিএ সম্পাদক হারুন-আর-রশিদ মল্লিক। এ সময় চলমান আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির (মাক্সবাদী) কেন্দ্রীয় সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, কেন্দ্রীয় নেতা গাজী নওশের আলী, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রশিদ, পার্টির যশোর জেলার সভাপতি আবুল হোসেন, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা জগন্নাথ দত্ত প্রমুখ।

একই সময়ে কার্পেটিং জুট মিলের অভ্যন্তরে গেটে দুইশতাধিক শ্রমিক অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। মিলের সিবিএ সভাপতি বাদশা মিঞার সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন সিবিএ সহসভাপতি মিজানুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাফ্ফর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

advertisement