advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সেই নবজাতক মায়ের কোলে ৩ দিন পর

ধামরাই প্রতিনিধি
৩০ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৯ জুন ২০২০ ২৩:০৭
advertisement

ঢাকার ধামরাই উপজেলায় অভাবের তাড়নায় বিক্রি করে দেওয়ার তিন দিন পর বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক নবজাতককে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে উপজেলার রাবেয়া ক্লিনিকের এক নার্সসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৬ জুন রাতে উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের বাটারখোলা এলাকার সোনালি বার্তা গুচ্ছগ্রামের মৃত বাবুল হোসেনের

স্ত্রী নাজমা বেগম প্রসব বেদনা নিয়ে ডাউটিয়া এলাকার রাবেয়া মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানীয় ইউপি সদস্য আছিয়া বেগমের সাহায্য নিয়ে ভর্তি হন। পরে তিনি হাসপাতালে একটি ফুটফুটে ছেলেশিশুর জন্ম দেন।

সংসারে অভাবের কারণে নবজাতকটিকে বিক্রি করতে আগ্রহ দেখান নাজমা। তার আরও দুটি সন্তান রয়েছে। পরে তিনি ওই হাসপাতালের নার্স সাদিয়া খাতুনের কথামতো এক দম্পতির কাছে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন সন্তানকে। নবজাতক বিক্রির বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ঘটনা জানতে পেরে পুলিশ ওই হাসপাতালের নার্স সাদিয়াকে গত রবিবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিন দিন অভিযান চালিয়ে গতকাল দুপুরে সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকা থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় নবজাতকটির ক্রেতা হেলাল উদ্দিন ও তার স্ত্রী সাথী আক্তারকে আটক এবং নবজাতকটিকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে নবজাতক বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল সোনালি বার্তা গুচ্ছগ্রামে ওই নারীর বাড়িতে উৎসুক জনতা ভিড় করেন। ওই নারীর আট বছরের এক মেয়ে ও পাঁচ বছরের আরও একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। যদিও তিনি সরকারি গুচ্ছগ্রামে তিনি কোনো ঘর পাননি। থাকেন একটি ঘর ভাড়া করে। সন্তানদের মানুষ করার জন্য তিনি সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। এদিকে নবজাতকটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তার মাকে ধামরাই থানার দুই পুলিশ কিছু নগদ টাকা সাহায্য করেন বলে জানা যায়।

ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, নবজাতকের মাকে সরকারিভাবে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করা হবে। আর তিনি যাতে গুচ্ছগ্রামে একটি ঘর পান, সে বিষয়েও চেষ্টা করা হবে। যেহেতু সন্তান বিক্রি করা আইনবিরোধী, তাই এর সঙ্গে জড়িত আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement